ঘোষণা

গুগল ও ফেসবুক কেন ভারতে বিনিয়োগ করছে?

মোহাম্মদ রবিউল্লাহ | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০ | পড়া হয়েছে 77 বার

গুগল ও ফেসবুক কেন ভারতে বিনিয়োগ করছে?

ভারতের তথ্য-প্রযুক্তিখাতে ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন বহুজাতিক ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুগলের মুল প্রতিষ্ঠান আলফাবেট। এ পর্যন্ত ভারতে করা গুগলের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এটি।

ইন্টারনেট নির্ভর প্রযুক্তিখাতের অন্যতম বৃহত্তম বাজার ভারতে অ্যাপস ও সফটওয়্যারভিত্তিক সেবায় গতি আনতে এই উদ্যোগ নিয়েছে আলফাবেট। আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এই বিনিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে এ টেক জায়ান্টটি।

ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিতে ‘গুগল ফর ইন্ডিয়া ডিজিটালাইজেশন ফান্ডে’র আওতায় এ বিনিয়োগ করা হবে। গত ১৩ জুলাই আলফাবেটের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিসাই ভারতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কথা জানিয়ে টুইট করেন।

এ প্রকল্পের আওতায় ইক্যুইটি, অংশীদারিত্ব, পরিচালন, পরিকাঠামোগত ও ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগ করবে গুগল। এ জন্য চারটি ক্ষেত্রকে বেছে নিয়েছে কোম্পানিটি। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদানের পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশনে সহযোগিতা করবে প্রতিষ্ঠানটি।
এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয়দের নিজের ভাষায় তথ্য প্রদান, ভারতীয়দের প্রাত্যহিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে তৈরি নতুন পণ্য ও সেবা, বাণিজ্যিক উদ্যোগ ডিজিটালাইজেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল ভারতীয় কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের টেলিকম ইউনিট জিওতে ৫.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ত ফেসবুক।যা জিও প্ল্যাটফর্মের ৯.৯৯ শতাংশ ইক্যুইটি শেয়ার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বৃহত্তম সংস্থা ফেসবুক জানায়, ছোট ব্যবসার সাথে সংযোগ স্থাপনে নিজেদের সক্ষম করে তুলতে রিলায়েন্সের ই-কমার্স উদ্যোগ জিওমার্টের সাথে মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপকে যুক্ত করার দিকে মনোনিবেশ করবে তারা।

টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুসারে, পুরো ভারতীয় স্টার্ট-আপগুলো ২০১৯ সালে মাত্র ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। সেখানে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জেনারেল আটলান্টিক, কোয়ালকম, ইনটেল ও সিলভার লেকসহ বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে রিলায়েন্স।

রিলায়েন্স গ্রুপের জিও কোম্পানিটি ভারতের ইন্টারনেট অবকাঠামোতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দেশব্যাপী ৪ জি নেটওয়ার্ক তৈরি করে ও প্রাথমিকভাবে নতুন গ্রাহকদের বিনামুল্যে আনলিমিটেড ডেটা অফার করে ভারতের ডিজিটাল বাজারকে রূপান্তরিত করেছে। ইন্টারনেট সেবায় এটি ভারতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি।

ইতিমধ্যে ভারত দ্রুত ডিজিটাইজেশন করছিল, তখন জিওর ডেটা অফারগুলো কয়েক মিলিয়ন ভারতীয়কে ইন্টারনেটের যে সমস্ত অফার রয়েছে তার সাথে পরিচয় করার জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। জিও এর ইন্টারনেট সেবার মূল্যের দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কম দামের মধ্যে রয়েছে ভারত।

ভারতে বিনিয়োগ করে গুগল ও ফেসবুক এর লাভ কী?
গুগলের সাথে অংশীদারি করা জিও স্মার্টফোন গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে চালিত হতে পারে। এছাড়াও জিওকে স্মার্ট হোমস, সংযুক্ত গাড়ি ও সফ্টওয়্যার এর দক্ষতা অর্জনে সক্ষম করবে। একটি সম্ভাব্য কম দামের ফাইভ জি হবে।

একইভাবে, ফেসবুকের সাথে জিওর অংশীদারিত্ব হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংযোগ করতে সক্ষম করতে পারে। রিলায়েন্স স্থানীয় বাজারের ডিজিটাল অর্থ এবং ই-বাণিজ্যে আধিপত্য বজায় রাখতে পারে। এটি ভারতে অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের মতো ব্যবসায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে।

রিলায়েন্স স্থানীয় নিয়মনীতি, সরকারের সাথে সংযোগ ও দক্ষতার জন্য সুপরিচিত। সেলুলার মার্কেটের ক্রমবর্ধমান অংশের সাথে ফাইভ জি-তে এটি নেতৃত্বশালী হয়ে উঠবে তাতে অন্যান্য বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো এখানে সুবিধা করতে পারবে না।

ভারতে এখনও প্রায় অর্ধ বিলিয়ন মানুষ অনলাইনের সাথে পরিচিতি ঘটেনি। যা গুগল ও ফেসবুকের সম্ভাব্য নতুন ব্যবহারকারী। তাদের মধ্যে অনেকে জিও এর ডেটা ও শীঘ্রই এর স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ নেবেন। তাতে বিশাল অংকে অর্থ আয়ের সুযোগ রয়েছে গুগল ও ফেসবুকের।

এছাড়াও বিশ্বের আরও চারটি বড় বড় সংস্থা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ভারতে মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করার কথা রয়েছে। পশ্চিমা বিনিয়োগগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব হতে পারে ভারত শেষ পর্যন্ত ফাইভ জি-তে পরিণত হতে পারে।

ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে চীন সবার আগে। চীন বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানি করে থাকে। তবে ভারত চীনের জায়গায় খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে তা বোঝা যাচ্ছে। কারণ বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো ভারতে বিনিয়োগ করছে।

এর ফলে ভারতের যেমন অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটা শক্তিশালী হয়ে উঠবে তেমনি আবার ভারতে বেকারের সংখ্যা কমবে যেটি এখন ভারতের মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের সাথে সংঘাতের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারই অংশ হিসেব চীনা অ্যাপসহ অনেক সামাজিক মাধ্যম ভারতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এবার এই প্রতিশ্রুতি সত্যি হতে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

সাম্প্রতিক ভারত-চীন উত্তেজনার আগে চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে ভারতের ৫ জি ট্রায়াল ও নিলামে অংশ নেওয়া ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল যা এখন অসম্ভব।
ভারতের জিও বায়ু তরঙ্গের একটি বড় অংশ কেনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যা কয়েক কোটি ভারতীয়দের কাছে ফাইভ জি পণ্য প্রথম হতে পারে।
ভারতে কমপক্ষে পরের দশক জিওর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। জিও এর কয়েকটি বড় বড় প্রতিযোগী এখন জিওতে বিনিয়োগ করে এটির বোর্ডে বসে আছেন। যারা সুযোগকে কাজে লাগাবেন।

ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল মার্কেটকে উপরে রাখার পাশাপাশি চীনকে দূরে রাখতে ভারতীয় কোম্পারিগুলো পশ্চিমা অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। কেননা, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জনবহুল দেশটিতে গুগল ও ফেসবুকসহ অন্যান্য পরিাসেবা বিস্তারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে সেটিই নিশ্চিত করবে বিশ্বসেরা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

ফরেন পলিসি অবলম্বনে

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:৩৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত