ঘোষণা

মাছ ধরার কথা এখন কল্পনাও করা যায় না, ঐ সময়ে মাছ ধরাটা কতো যে আনেন্দর ছিল

| শনিবার, ১৩ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 140 বার

মাছ ধরার কথা এখন কল্পনাও করা যায় না, ঐ সময়ে মাছ ধরাটা কতো যে আনেন্দর ছিল

শারমিন হোসেন।

মাছ ধরা যে কী আনন্দ বলে বুঝানো সম্ভব না।ভরা বর্ষায় শোল মাছের পোনা ( বাচ্চা) অনেক ধরেছি।পোনা মাছ পিয়াজ দিয়ে ভাজি খেতে অনেক মজা।শোল মাছের সাথে সাথেই পোনা মাছগুলো সব সময় থাকতো।অনেক লালা লাল পোনা মাছ দেখে দেখে রাখতাম।একটু বড় হলেই ধান চালার বাঁশের চালনি দিয়ে অনেক পোনা মাছ ধরে মাকে নিয়ে দিতাম। তারপর বর্ষা শেষের দিকে উচু জমিগুলোতে হাটু পানি।প্রচুর শ্যওলা ও জলজ ঘাস থাকে।বাড়ির সাথেই।সেখানে প্রচুর চিংড়ি মাছ থাকতো।চালনি গামছা দিয়ে আগে তিন কোনা জাল ছিল লুকিয়ে লুকিয়ে গিয়ে চিংড়ি মাছ ধরে এনে মাকে দিতাম।চিংড়ি মাছের ভর্তার জন্য মা টেলে রাখতো।ভর্তা বানানোর আগেই আমরা মুঠো মুঠো খেয়ে নিতাম কি যে মজা টালা চিংড়ি খেতে!!!!! কী যে মুহুর মুহুর গন্ধ চিংড়ি টালার বলে বুঝানো যাবে না।এরপর গরম ভাতে চিংড়ি ভর্তা সব কিছুকেই হার মানাতো।আমার মা রান্নার হাত ছিল বড় পাকা।ভর্তার যে কি সুগ্ধ, এখনও নাকে পাচ্ছি।রসুন, পিয়াজ ও কাচা মরিচ,লবণ ও চিংড়ি মাছ সবগুলো ছেছা দিয়ে ভর্তা কোন মিহি বাটা না।খেতে গেলে দাঁতে পরতো।কী যে মজা লাগতো।মনে এখন যদি কিছু গুড়া চিংড়ি পেতাম এখনি টেলে ভর্তা বানিয়ে খেয়ে নিতাম।
এরপর আসি বড়শি দিয়ে মাছ ধরা গল্প।বর্ষার পানি প্রায়ই শেষের দিকে পুকুর আর গর্ত ছাড়া সব জায়গাতেই কাদা পানি।একদিন স্কুল থেকে বাড়ি গিয়ে দাদাদের একটা বড়শি না বলে নিয়ে গিয়ে পাশের বাড়ির ঠাকুদের পুকুর পাড় ভাঙ্গা নীচু জমিতে পানি ছিল।সেখানে বড়তি বাড়ি চলে আসি।বড়শি হারানোর ভয়ে ও দাদাদের পিটুনির ভয়ে কিছুক্ষন পরই বড়শি আনতে গেলাম।গিয়ে দেখি বড়শিটা কিছুতে টানছে।তাড়াতাড়ি বড়শীটা ধরে জোরে টান দিয়ে উঠালাম।দেখলাম বড় একটা মাছ।খুশীতে চিৎকার করে মাকে ডাকতে ডাকতে বাড়ি গেলাম।মাছটা দেখতে এতো সুন্দর ছিল মন ভুলানোর মতো।এই মাছটা একেবারে জীবিত ছিল তাই তার রূপটাও সুন্দর ছিল।আমি মাছটার রূপে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম আলতো ভাবে মাছটাকে বড়শি থেকে মুক্তি দিলাম।মাছের নাম কি মার কাছে জানতে মা বলল এটা বাল্লা মাছ।আগে দেখেছি।কিন্তু ওগুলো মৃত অবস্থায় দেখেছি।তাই সেদিন মাছটা আমার মন কেড়ে নিয়ে ছিল।
এরপর আমাদের পুকুর থেকে মাছ ধরার গল্প। আমরা পুকুরটা গাতা বলতাম।সেখানে বর্ষায় এনমনিতে মাছ আসতো।সেই গাতায় কলসির ভিতর কিছু কাঠি আর খর দিয়ে ফেলে দিতাম একেক দিন একেক জায়গায়।আর কটায় খাওয়া নারিকেল ফেলে রাখতাম।কয়েকদিন পর পর কলসি ও নরিকেল গুলো উঠাতাম।এর ভিতরে বড় বড় শিং মাছ ও কৈ মাছ থাকতো।ঐ গাতা থেকে বড় বড় কালো কালো দেশী চিংড়ি মাছ হাত দিয়ে ধরতাম।
এবার আমার দূরন্ত সাহসি মাছ ধরার কথা বলব।আমাদের পুকুরে গায়ে ছোট ছোট প্রচুর গর্ত থাকতো দাদাদের মাকে দেখতাম সেখান থেকে মাছ ধরতে।আমিও দুঃসাহসিক কাজ করতে লাগলাম অনেক দিন প্রচুর মাছ ধরেছি।তথা কথিত নিয়মে স্কুল থেকে গিয়ে না খেয়েই নামলাম পুকুরে।নেশা শিং মাছ ধরা তাই হলো।কলসি উঠালাম এরপর দেখলাম একটা গর্তে একটা বড় শিং মাছ ঢুকল।আমিও তৈরী তাকে ধরার জন্য।এতো দিন এতো শিং মাছ ধরলাম কেউ একটুও কাটা ফুটালো না।সেই দুষ্টু শিং মাছটা আমার সাথে আড়ি কেটে ছিল।যেই না গর্তে হাত দিলাম অমনি তার ধারালো কাটা দিয়ে। হাত দিয়ে প্রচুর রক্ত ঝরছে।আমিও ছাড়িয়া বেটি না।বা হাতা দিয়ে কচুরীপানা দিয়ে গর্তের মুখটা বন্ধ করে কাটা হাতে গামছা পেচিয়ে আবার গর্তে দিলাম হাত।ঐ গর্ত থেকে কতোগুলো শিং মাছ নিয়ে ব্যথ্যা কাততে কাততে মার কাছে গেলাম।গামছা খুলতেই প্রচুর রক্ত হাতে মা তখন দেখলাম এতোগুলো লবণ কাটা জায়গায় দিয়ে দিলো। এরপর শিং মাছকেও আমি রেগে গিয়ে আছাড় মেরেছিলাম। ডান হাত অনেকদিন ফুলা ছিল।এরপর আমি আর গর্ত খালি হাত ঢুকাই নাই।
এরপর চারিদিকে বাঁধ দেওয়া পর বর্ষার জোয়ারের পানি ঐ পুকুরে আসেনা।
এবার বলব মাছ কুড়ানোর গল্প।জীবনে ঐদিনই প্রথম দিন ছিল।দুপুরে প্রচুর বৃষ্টি হলো মেঘের গর্জনও প্রচুর ছিল।যাকে বলা হয় তুফাণ।বিকেলে বৃষ্টি শেষ।ঘর থেকে বেড়িয়ে উঠানে বড় বড় কৈ মাছ কিলবিল কিলবিল করছে।মা বলল কৈ মাছ উজায়ছে।সেদিন সবাই কতো যে কৈ মাছ কুড়িয়ে ছিলাম মনে নাই।——–

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১:৩২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৩ জুন ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত