ঘোষণা

ছেলেটি কি খেয়ে দিন কাটায় তা বড় কথা নয়

।। পি আর প্ল্যাসিড, জাপান।। | সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 94 বার

ছেলেটি কি খেয়ে দিন কাটায় তা বড় কথা নয়

ছেলেটির নাম রাশেদ। বয়স সতর। থাকে সৌদি আরব। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও সামাজিক সাইট ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। রাশেদের বাড়ি কোথায় বা কি, ভিডিওর কোথাও উল্লেখ নেই। তারপরেও আমি মনে করছি ওর বাড়ি বাংলাদেশে। রাশেদ একজন বাঙালি।

ভিডিওতে রাশেদের কথা শুনে আমার হৃদয় ছুঁয়েছে। ফলে ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে আমার অন্য প্রবাসী বন্ধুদের দেখার সুযোগ করে দিয়েছি। ভিডিওতে দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী তার প্রবাস জীবন একবছর প্লাস। এত কম বয়সে তাকে শ্রম দিতে হয় তাও আবার দেশের বাইরে গিয়ে। সবই ভাগ্য।

আমাদের দেশের অনেক পরিবারেই রাশেদের মতো শিশুশ্রম দেয়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে আছে। চাইলেই যাদের পরিবার বা রাষ্ট্র এদের দায়িত্ব নিতে পারছে না বা বন্ধ করতে পারছে না কাজ করা থেকে। সুতরাং সেটা মেনেই বলছি, দেশে অনেককেই দেখেছি এই বয়সে কাজ করে সংসারের হাল ধরতে। রাশেদের থেকে আরো অনেক ছোট বয়সের ছেলে -মেয়েরাও কাজ করছে বিভিন্ন পরিবেশ এবং অবস্থানে। আমি যখন ওদের মুখোমুখি হই, কথা বলার সময় ওদের কথা শুনে কষ্টে সত্যি ভিতর ফেটে যায়। কখনও কখনও চোখ ভিজে যায় কখনও আবার বাঁধ ভেঙ্গে গাল গড়িয়ে পড়ে চোখের জল।

যিনি এই ভিডিওটি করেছেন তার উদ্দশ্য আমার কাছে মুখ্য নয়। তাই যদি হতো তাহলে বলার ছিল, আরো একটু তথ্যবহুল ও যত্ন সহকারে করলে ভালো হতো। কারণ, সস্থা পরিচিতির জন্য করতে গিয়ে কিছুটা তথ্য অপরিষ্কার থেকে গেলো, যে কারণে চাইলেও কথা বলতে বা লিখতে পারছি না। তাই সেই প্রসঙ্গে যাচ্ছি না।

আমি যে কারণে বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছি তার পুরোটা লিখতে পারছি না আমার ধৈর্য্যর (অভাবের) কারণে। তাই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছিÑ

আমি নিজে একজন মা ভক্ত। ফেইসবুক প্রোফাইলে আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মায়ের সাথে ছবি রাখার। সবসময় পারি না হয়তো, তবে মাকে আমি মনে ধারণ করি বেশ। আমার দেখাদেখি অনেককেই দেখেছি ফেইসবুকে তাদের ছবি বদলে মায়ের সাথে ছবি দিয়েছেন। এই ধারা শুরু হয়েছে আমাকে দেখার পর থেকে (এটা শুধু আমার পরিচিত এবং যাদের কথা জানি তাদের কথা বলছি)। এদের সবাই না হলেও কেউ কেউ একসময় মায়েদের শেষ বেলায় দায়িত্ব নিতে যথেষ্ট সফল হবেন আশা করি। বিশেষ করে যারা মায়েদের প্রতি দায়িত্বের অবহেলা করছেন এখনো, তারা।

ছেলেটির মুখে তার মায়ের প্রতি যে ভক্তি বা ভালোবাসার বুলি শুনেছি, তাতে আমার মনে হয়েছে সে বাকী জীবনে আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করুক বা না করুক একজন ভালো মানুষ হতে পারবে। যারা মাকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে তারা কখনও খারাপ হতে পারে না এটা আমার বিশ্বাস থেকে বলছি। আর মায়েদের সফলতা হয় এমন সন্তান জন্ম দিয়ে বা গর্ভে ধারণ করে।

রাশেদ প্রবাসে কি খেলো কি করলো সেটাও এখন আমার দেখার বিষয় নয়। সে এই অল্প বয়সে সৌদির মতো দেশে কাজ করছে। মাস শেষে মাকে ভালো রাখার কথা চিন্তা করে অর্থ পাঠাচ্ছে দেশে। সেই টাকা কতটা যথাযতভাবে ব্যয় হচ্ছে সেটার বিষয় জানা তো দূরের কথা, বিষয়টি কখনও তার মনেও আসেনি মনে করি। এমন মানসিকতার প্রবাসীদের অনেকেই জীবনে ঠকেছে। একসময় দেশে এসে হিসেব কষে যখন দেখে সব শূন্য তখন তাদের মাথায় বাজ পড়ে। এজন্য দায়ী এই সহজ-সরল কোমলমতি প্রবাসীরা নয়। দায়ী তার পরিবারের অন্য সদস্যরা।

প্রবাসীরা যতই স্বার্থপর হোক না কেনো সবকিছুর পরেও তারা রেমিটেন্স পাঠায় পরিবারের সবার সুখের কথা ভেবে। তাদের সবাই মিলে যদি তার অর্ধেক প্রবাসীদের সুখের কথা চিন্তা করতো তাহলে সার্বিক চিত্র ভিন্ন হতে পারতো আমাদের।

আমি অন্য কেনো দেশের প্রবাসীদের কথা বলছি না। জাপান প্রবাসীদের কারো কারো কথা জানি, যারা সর্বস্ব হারিয়েছে দেশে তাদের আত্মীয় স্বজনকে বিশ্বাস ও ভালোবেসে, নিজেদের কষ্টে উপার্জিত অর্থের টাকা দেশে পরিববারের অন্যদের কথা ভাবতে গিয়ে। সেই পরিবার পরিজনের কাছ থেকে বিনিময়ে যা পেয়েছে তা সে সকল প্রবাসীদের সাথে কথা বললে বোঝা যায়। কত যে দু:খ-কষ্ট জমাট বেঁধে আছে তাদের মনে।

আমাদের দেশের মানুষ মনে করেন, বিদেশ মানে টাকার গাছ লাগিয়ে রেখেছে যেনো নিজেদের বাসস্থলে প্রবাসে থাকা তাদের মানুষটি। যে কারণে মাস শেষে চেয়ে থাকে রেমিটেন্সর জন্য। দেশে সকলেরই এমন চিন্তার পরিবর্তন ঘটানো হোক, সেই প্রত্যাশা আমার।

আমার দৃষ্টিতে রাশেদ যত বড় না রেমিটেন্স যোদ্ধা তার চেয়ে বড়, একজন মা ভক্ত। এখন থেকে একজন ভালো মানুষ হবার পথে চলা কঠিন যোদ্ধা সে। যদি সে তার অন্তরের কথা বলে থাকে এবং মনে তা ধারণ করে, পাশাপাশি এটা ভবিষ্যতেও যদি ধরে রাখতে পারে তাহলে সে আমার নয় শুধু আমার মতো অনেকেরই হয়ে উঠবে আইডল। তাকে আমার প্রবাসী সালাম। রাশেদের সুন্দর ভবিষ্যত এবং সফলতা কামনা করি।

আগস্ট-৩১, ২০২০ সোমবার

 

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত