ঘোষণা

এবারের করোনা বিপর্যয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বিদ্যানন্দ

| বুধবার, ০৬ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 38 বার

এবারের করোনা বিপর্যয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বিদ্যানন্দ

প্রভাষ আমিন,

এবারের করোনা বিপর্যয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বিদ্যানন্দ।
সংগঠনটি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। যদিও সংগঠনটি নতুন নয়। ২০১৬ সালে চালু হওয়া সংগঠনটি ‘এক টাকার আহার’ দিয়ে পরিচিতি পেয়েছিল বটে, তবে এবার তাদের কাজ সুনজর কেড়েছে অনেকের, সাথে কুনজরও কেড়েছে কিছু ধর্মান্ধের। নাম দিয়ে যারা ধর্ম বিচার করে, ধর্ম দিয়ে যারা মানুষ বিচার করে সেই ধর্মান্ধদের আপত্তি ‘বিদ্যানন্দ’ নাম নিয়ে। তাদের ধারণা কোনো হিন্দু ব্যক্তির নাম থেকে ‘বিদ্যানন্দ’ এসেছে। বিদ্যানন্দ তাদের ফেসবুক পেজে ব্যাখ্যা দিয়ে লিখেছে, ‘আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন’ স্লোগান থেকে এক মুসলিম ব্র্যান্ড এক্সপার্ট নামটি দিয়েছিলেন। তার মানে ‘বিদ্যানন্দ’ নামের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নাই।

মৌলবাদীদের আক্রমণে সংগঠনটি তাদের নামও বদলাতে চেয়েছিল, কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকরা রাজী না থাকায় সেটি হয়নি। তাদের ফেসবুক পেজে আরো দাবি করা হয়, ৯০ ভাগ মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান সংগঠনটির বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের নাম যে কিশোর কুমার দাস। এবার তো আর কোনো যুক্তি নেই। তাই মৌলবাদীদের আক্রমণ থেকে বিদ্যানন্দকে বাঁচাতে পদই ত্যাগ করেন কিশোর। মা যেমন সন্তানকে বাঁচাতে দাবি ছেড়ে দেয়, কিশোরও তেমনি বিদ্যানন্দকে বাঁচাতে দূরে সরে যেতে চান। যদিও তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি।

একটা কথা স্পষ্ট করে বলি, বিদ্যানন্দ যে স্টাইলে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছে, তা আমার পছন্দ হয়নি। আমি ধরে নিচ্ছি, বিদ্যানন্দ নামটি কোনো স্লোগান থেকে আসেনি, কোনো মুসলিম ব্র্যান্ড এক্সপার্ট দেননি, কোনো হিন্দুব্যক্তির নাম থেকেই এসেছে। তাতে সমস্যা কোথায়? আমি ধরে নিচ্ছি, স্বেচ্ছাসেবকদের ৯০ ভাগ মুসলমান নয়; বৌদ্ধ, হিন্দু বা খ্রিস্টান; তাতে সমস্যা কোথায়? বিদ্যানন্দের চেয়ারম্যানন কিশোর কুমার দাস নাকি মাইকেল কিশোর নাকি কিশোর বড়ুয়া না কিশোর ইসলাম তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। আমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তার নাম বা ধর্ম দিয়ে বিবেচনা করি না; করি শুধু কর্ম দিয়ে। এই করোনার দুঃসময়ে বিদ্যানন্দ আমার যতটা ভালোবাসা পেয়েছে, আল মারকাজুলও ততটাই পেয়েছে।

বিদ্যানন্দের বন্ধদের বলছি, আপনারা কোনো ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের হুমকিতে ভয় পাবেন না, তাদের গালি কানে তুলবেন না। এসব শুনলে আপনাদের মন খারাপ হবে, ফোকাস নষ্ট হবে। কারো কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে না। নিজের বিবেকের কাছে পরিস্কার থেকে আপনারা মন দিয়ে আপনাদের কাজটা করুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি।
————–
লেখকঃ হেড অব নিউজ, এ টি এন নিউজ

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১:৫২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৬ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত