ঘোষণা

প্রেস ফ্রিডম ডে- তে আমাদের নীরক আর্তনাদ, শুনবে কে?

| সোমবার, ০৪ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 39 বার

প্রেস ফ্রিডম ডে- তে আমাদের নীরক আর্তনাদ, শুনবে কে?

প্রেস ফ্রিডম ডে’ তে আমাদের নীরব আর্তনাদ, শুনবে কে?

প্রেস-ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণ-মাধ্যম দিবস বলে কোন একটি দিবস ক্যালেন্ডারে রয়েছে, সে বিষয়টি অনেকের জানা থাকলেও এপর্যন্ত কাউকে সেটা পালন অথবা বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়নি । বিগত কিছুদিন ধরে ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া দেশের এক সাংবাদিকের হাত কড়া পড়ানো ছবি দেখে এই দিবসটির যথার্থতা নিয়ে আমার ভাবতে ইচ্ছে হলো । যার ফলে দেশে পরিচিতদের সাথে যোগাযোগ করে চেষ্টা করেছি ঐ ছবিটির পেছনের কারণ জানার। যতটুকু জানার তা জেনেছি। জানার পর কেন যেন হতাশায় পড়িনি । কারন মনে হলো কোন এক বিশেষ ছবিই সব কিছু বলে দিতে পারে না। ছবির পিছনে কিছু বিষয় থেকে যায় যা অনেক সাধারণ মানুষের অজানা থাকে।

যেহেতু প্রবাসে বসে লেখালেখি করি তাই অনেক সময় আবেগ তাড়িত হয়ে অনেক ছবির পেছনের কারণ না জেনে মন খারাপ হয়। আজ আমি যে ছবির বিষয় নিয়ে লিখছি সেটিও তেমনি একটি ছবি।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসটি কাদের উদ্ভাবন এবং কাদের জন্য সেসব আমার অবশ্য জানা নিই । এমন নাম দিয়ে একটি দিবসকে আলাদা করার উদ্দেশ্যই বা কি ? এতসব অজানা বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা মোটেও আমার ঠিক নয়, তা আমি জানি। তারপরেও এসব নিয়ে নিজের মনের ভিতর জাগ্রত হওয়া কিছুকথা না বললেই নয় মনে করে লিখছি। দেশে এ বিষয়ে শোনার পর এটুকু মনে করি, গণমাধ্যম মুক্ত রাখার জন্য 365 দিন 6 ঘন্টাই মুক্ত রাখা উচিৎ, না হলে বিশ্বে যে অনিয়ম আর অস্বাভাবিক রূপ ধারনা করবে, তার ফল হতে পারে অনেক ভয়াবহ।

একজন সাংবাদিকের হাতকড়া পরানো ছবি দেখে হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে যে কারণে নীরব প্রতিবাদ করছি। কিন্তু এটা আজ আমাদের দেখতে হচ্ছে কেন? কেউ একবার ভেবেছেন কি? ভাবুন! এখনই ভাবতে হবে। যখন কোন সাংবাদিকের জীবন কেড়ে দেয়া হয়, এই রাষ্ট্রযন্ত্র অজ্ঞাত কারনে নিরবে সহ্য করে । আর আমরা জেনে বুঝে চুপ থাকি, নিরূপায় থাকি ।

সাংবাদিকতা পেশাকে আমরা অতি মহৎ পেশা মনে করলেও বাস্তবে তা কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও লুটেরাদে দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে । একদিকে যেমন এই পেশার লোকদের এখন আর সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখছে না, অন্য দিকে বাস্তবে এর কারন ও সাধারণ মানুষ বুঝতে চায় না ! যারফলে এদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পিছ-পা হয় না । এর দায়ভার কার উপর বর্তাবে জানি না।

জীবন জীবিকার কারণে অধিকাংশ সাংবাদিক এই পেশায় যোগ দিলেও লোভ আমাদের খুব সহজভাবে ছিনিয়ে নিয়েছে, আমাদের লালিত স্বপ্ন ও সততাকে। যে কারনে কোন এক সময় আমরা ভুল পথে চলে যাই, অনেকটা নিজের অজান্তেই। এই ভুল পথে না যাওয়াটাই আমাদের এই পবিত্র পেশা। এই পেশাকে ধরে রাখতে এবং মানুষের চোখে সম্মানীত করতে এই পেশার লোকদেরই উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসাটা জরুরি ও কর্তব্য বটে। তবে হয়তো আর এমন ছবি আমাদের দেখতে হবে না, কিংবা কারো জীবন হারাতে হবে না।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসটি হোক যথার্থ সেই প্রতাশা আমাদের বিবেকবার্তা পরিবারের।
জয় হোক বিশ্ব গন-মাধ্যম পরিবেশের ।।

 

পি.আর. প্ল্যাসিড
সম্পাদক
বিবেকবার্তা ডট জেপি
৪ মে, ২০২০, সোমবার।

————-

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১:৫১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৪ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত