ঘোষণা

লকডাউন উঠে যাওয়ার পর…

| রবিবার, ১০ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 24 বার

লকডাউন উঠে যাওয়ার পর…

এম নজরুল ইসলাম : ভিয়েনায় আমাদের করোনা-বন্দিত্ব অবসানের দিন ২ মে শনিবার। সকালে তাই ঘুম থেকে উঠে মনে হলো, ‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’। সকালের সূর্য যেন বলে দিল, ‘গানের সুরে আমার মুক্তি ঊর্ধ্বে ভাসে/ আমার মুক্তি সর্বজনের মনের মাঝে…।’ এদিনের সকালটা অন্যরকম হয়ে দেখা দিয়েছিল। মনে হয়েছিল, এমন একটা সকাল যেন কতদিন দেখিনি। কতদিন থেকে যেন এমন একটা দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। অপেক্ষায় ছিলাম নতুন এক সূর্যোদয়ের। ২ মে শনিবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার আকাশে যে নতুন সূর্য উদিত হয়, সে যেন নিয়ে এলো নতুন এক বার্তা। সূর্য মানেই তো নতুন দিনের সূচনা, নবজাগরণ। কিন্তু গত ১৫ মার্চ থেকে অস্ট্রিয়ায় সূর্যোদয় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই সূর্যের আলোয় ছিল না আশার আভা। বরং দিন গড়িয়ে হতাশার আবির ছড়িয়ে অস্ত যেত সেই সূর্য। শনিবারের সূর্যোদয় তাই গত দেড় মাসের সূর্যোদয়ের চেয়ে আলাদা। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে,/ আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে’। কথাগুলো যেন নতুন করে সত্য হলো আমাদের জীবনে।

এবার একটু পেছন ফিরে দেখা যাক। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অস্ট্রিয়া সরকার গত ১৫ মার্চ সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে। লকডাউন মানে সব অর্থেই লকডাউন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা থাকত ওষুধের দোকান, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, গ্রোসারি শপ ও পেট্রোল পাম্প। পাঁচতারা হোটেল থেকে শুরু করে সব কিছু বন্ধ। সব অফিসের কাজকর্ম কর্মীরা করছেন ঘরে বসে। লকডাউন মানে ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ। বের হলেই পুলিশের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো। তিন হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইতালি সীমান্ত সংলগ্ন ত্রিরল প্রদেশে দুজন আক্রান্ত হওয়ার খবরে সেদিনই অস্ট্রিয়া সরকার ইতালির সঙ্গে ট্রেন ও বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয় দুই দেশের সীমান্ত।

আমাদেরসময়.কম সৌজন্যে

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১০ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত