ঘোষণা

শর্ত সাপেক্ষে জাপানে থাকা মাত্র ৩০ ভাগ বিদেশী শিক্ষার্থী সরকারি প্রণোদনা পাবেন

| শুক্রবার, ২২ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 23 বার

শর্ত সাপেক্ষে জাপানে থাকা মাত্র ৩০ ভাগ বিদেশী শিক্ষার্থী সরকারি প্রণোদনা পাবেন

ওমর শাহ : নভেল করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে আর্থিকভাবে সংকটে থাকা প্রতিজন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২ লাখ জাপানি ইয়েন (১৯০০ মার্কিন ডলার) নগদ প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছে জাপান সরকার।

বিদেশী শিক্ষার্থীদের সেই প্রণোদনা পেতে সরকার অতিরিক্ত মানদণ্ড তৈরি করেছে। সেই মানদণ্ডের ভিত্তিতে জাপানে থাকা কেবলমাত্র ৩০ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী সেই প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য বলে ২২ মে জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভাতা দিতে জাপান সরকার যে মানদণ্ড তৈরি করেছে তার সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ। সরকারের আরোপিত এ অতিরিক্ত শর্ত ছাত্রদের পড়াশোনা বা জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অসুবিধায় পড়তে হবে। এ মানদণ্ড সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ অনেক বিদেশী শিক্ষার্থী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ব্যয় হ্রাস করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে একটি শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেসি সংগঠন। সংগঠনের সদস্যরা একই সাথে এই সিদ্ধান্তটিকে “সম্পূর্ণ বৈষম্য” বলে অভিহিত করেছেন।

টুইটারে, জাপানের একটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সহায়তার করা কথা বলা হয়েছে। হ্যাশট্যাগের অর্থ “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত সকল বিদেশি শিক্ষার্থীদের নগদ প্রণোদনা দেওয়া”।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের বেলায় ভাতার বিষয়ে মানদণ্ডের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় জাপানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ” ভবিষ্যতে জাপানে অবদান রাখার সম্ভাব্য প্রতিভা প্রতিদানের জন্যই সীমাবদ্ধ শর্ত রাখা হয়েছে। ”

আরো বলা হয়, যেহেতু সরকার তাদের কোন শিক্ষার্থী সহায়তা গ্রহণ করবে তা নির্ধারণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করবে সুতরাং যারা মানদণ্ডটি মেনে নিচ্ছে না তারা এখনও প্রণোদনার জন্য যোগ্য হতে পারে।

জাপানের শিক্ষামন্ত্রী কোইচি হাজিউদা ১৯ মে (মঙ্গলবার) এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন যে জাপানের প্রায় ৪৩০,০০০ বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নগদ অর্থ সরবরাহ করা হবে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য হয়ে উঠবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

তবে বিদেশী শিক্ষার্থীদের যে অতিরিক্ত মানদণ্ডগুলি পূরণ করার প্রয়োজন হয়েছিল সে সম্পর্কে তিনি কোনও কিছু উল্লেখ করেননি, যা কেবল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে যোগাযোগের সময় প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে খণ্ডকালীন চাকুরী থেকে মাসিক আয় যাদের ৫০ শতাংশেরও টিউশন ফি বেশি ও যাদের পরিবারের আয় বছরে ১.৫ মিলিয়ন ডলারের কম, যে শিক্ষার্থী অবশ্যই বাসা থেকে দূরে থাকছে তারা সরকারের ভাতা পাবেন।

আর বিদেশী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কিছু শর্ত তা হলো- তাদের অবশ্যই উচ্চতর নম্বর অর্জন করতে হবে, বিগত শিক্ষাবর্ষে কমপক্ষে ২.৩০ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করেছে তারাই এটি পাবেন। এমন মাপকাঠির যোগ্য মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এছাড়াও বিদেশী শিক্ষার্থীদের অবশ্যই মাসিক উপস্থিতির হার ৮০ শতাংশের বেশি হতে হবে। নিবন্ধন ও টিউশন ফি বাদে প্রতি মাসে গড়ে ৯০ হাজার ইয়েন বেশি ভাতা পাবেন এবং জাপানের যে কোনও ব্যক্তির বছরে ৫ মিলিয়ন ইয়েনের বেশি আয়ের উপর নির্ভরশীল হবেন না।

আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অক্ষম বলে বিবেচিতরাই ভাতার জন্য উপযুক্ত হবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য মোট প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর কত শতাংশ বিদেশী তা গণনা করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেসি গ্রুপের সদস্য কোকি সাইতো বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সাহায্যের খুবই প্রয়োজন, তবে তাদের জাপানের সমকক্ষদের বিপরীতে গ্রেডের যোগ্যতার মানদণ্ডের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার পদক্ষেপ নিচ্ছে কিন্তু যখন সংকটে পড়ছে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাদ দেবেন? এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। এই প্রয়োজনীয়তাটি বাতিল করতে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: জাপান টাইমস

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২২ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত