ঘোষণা

নিশানের সাবেক নির্বাহীকে জাপান ত্যাগে সহায়তাকারীরা গ্রেফতার

| বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 24 বার

নিশানের সাবেক নির্বাহীকে জাপান ত্যাগে সহায়তাকারীরা গ্রেফতার

ওমর শাহ : জাপানের গাড়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিশানের সাবেক প্রধান নির্বাহী কার্লোস ঘোসনকে জাপান ত্যাগে সহযোগিতা করা দুই মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাইকেল টেইলর(৫৯) আর তার ছেলে পিটার টেইলর (২৭)। তাদেরকে ম্যাসাচুয়েট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা নাটকীয়ভাবে ঘোসনকে জাপান ত্যাগে সহযোগিতা করেছেন। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ডিসেম্বরে তাকে বিচারের মুখোমুখি করানো হয়। দুই দফা জামিন পেলেও পুলিশের নজরদারীতে রাখা হয়েছে তাকে। চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় ছিলেন কার্লোস ঘোসন।

২০১৮ সালে গ্রেফতার হওয়ার আগে কার্লোস দুই যুগ ধরে নিশানের নেত্বত্ব দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি কোনো প্রকার অবৈধ অর্থ নেননি বলে অস্বীকার করেছেন। কোম্পানি থেকে তাকে সরানোর জন্যই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নিশানের সাবেক প্রধান কার্লোস জাপান থেকে পালিয়ে লেবাননে যাওয়াকে সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে সাহসী ও সুসংগঠিত পালানোর কাজ বলে অবিহিত করেছেন বোস্টন মার্কিন প্রসিকিউটরা। বাবা ও পুত্রকে আটক করার পর এমন মন্তব্য করেন মার্কিন প্রসিকিউটররা।

২০ মে ( বুধবার) ম্যাসাচুয়েট অঙ্গরাজ্যের বোস্টন থেকে লেবাননের রাজধানী বৈরুত যাওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। কার্লোস ঘোসনও জাপান থেকে কৌশলে পালিয়ে বৈরুতেই অবস্থান করছেন।

বোস্টন প্রসিকিউটরদের মতে, পিটার টেইলর কয়েক মাস আগে তিনবার জাপান ভ্রমণ করেছিলেন, পালানোর আগে ঘোসনের সাথে অন্তত সাতটি অনুষ্ঠানে বৈঠক করেছিলেন।

পিটার টেইলর ঘোসনের পালানোর আগের দিন ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ এ টোকিওর গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের একটি রুমে এক সাথে দেখা করেন। পরের দিন, তার বাবা ও লেবাননের নাগরিক জর্জ জায়েক যিনি এখন জাপানি কর্তৃপক্ষের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড তিনি দুবাই থেকে ওসাকার কানসাই বিমানবন্দরে আসেন।

প্রসিকিউটরদের মতে, জাপানের কানসাই বিমানবন্দরে তাদের সাথে দুটি বড় কালো বাক্স ছিল যা বাদ্যযন্ত্র রাখার মতো দেখায়। বিমানবন্দর কর্মীদের তারা বলেছিল যে তারা সংগীতশিল্পী। আর বাক্সের মধ্যে বাদ্যযন্ত্র।

তারা স্থানীয় হোটেল হায়াতে বিশ্রাম করে টোকিও রওনা দিলেন। সেখানে ঘোসন ও পিটার টেইলরের সাথে দেখা হয়। ভিডিও ফুটেজে চারজন পুরুষকে সেই বিকেলে ৯৩৩ নম্বর রুম থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় বলে মার্কিন আদালতের মামলার শুনানীতে বলা হয়েছে।

প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, পিটার টেইলর তখন ওই দল থেকে পৃথক হয়ে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনজন ব্যক্তি সেখানে হোটেলের ঘরে প্রবেশ করেছিল। পরে ঘোসনকে একটি বাক্সের মধ্যে ঢুকানো হয়। নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা স্ক্রিন না করে এদিন সন্ধ্যায় বাক্সটি একটি ব্যক্তিগত জেট বিমানে রাখা হয়। পরে টোকিও থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে লেবানন চলে যায় কালো বাক্মটি। সেই বাক্সের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন কার্লোস ঘোসন।
প্রসঙ্গত, কার্লোস ঘোসন এখন লেবাননে। আর্থিক অনিয়মে অভিযুক্ত জামিনে ছাড়া পেয়ে নজরদারিতে জাপানেই ছিলেন। জামিনের শর্তও ছিল, তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। কিন্তু প্রতিনিধির মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে ঘোসন জানিয়েছেন, তিনি লেবাননে রয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি বিচার প্রক্রিয়া থেকে পালাননি। জাপানে ‘অবিচার ও রাজনৈতিক নিপীড়ন’ এড়াতেই সে দেশ ছেড়েছেন। লেবানন বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইনি পথেই দেশে এসেছেন ঘোসন।

২০১৮ সালের নভেম্বরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে জাপানে গ্রেফতার হন ঘোসন। যদিও তাঁর বরাবরের দাবি, তিনি নির্দোষ। এপ্রিলে তাঁকে ফের জাপানে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হত। এর আগে দু’টি পৃথক অভিযোগে মোট ১.৪ কোটি ডলার দিয়ে জামিন পান ঘোসন।

কিছু দিনের মধ্যেই অন্য এক অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। সরকারি কৌঁসুলিরা জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করলেও, শেষে এক আদালতে তিনি জামিন পান। তবে শর্ত দেওয়া হয়, তাঁকে নজরদারিতে থাকতে হবে। স্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করতে পারবেন না। তাঁরা সম্প্রতি ভিডিয়ো-কলে কথা বলেন।

জাপানের আইনজীবীরা দেশের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ঘোসন কীভাবে দেশ ছাড়লেন তা তাঁরা জানেন না। অবশ্য লেবাননের সংবদমাধ্যমের খবর, ঘোসন তুরস্ক থেকে ব্যক্তিগত বিমানে বৈরুতে পৌঁছান।

বিবৃতিতে ওই সময় ঘোসন বলেছেন, ‘‘আমি লেবাননে। জাপানের ত্রুটিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থা, যেখানে অভিযুক্তকে আগাম দোষী বলে ধরা হয়, বৈষম্য চলে ও ন্যূনতম মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, তার অধীনে বন্দি থাকতে চাইনি।’’

অভিযুক্তকে ফেরানো নিয়ে জাপানের সঙ্গে লেবাননের চুক্তি নেই। তাই এখন জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তা স্পষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস ও মাইনিচি নিউজ

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত