ঘোষণা

জাপানে সাপ্তাহিক কর্মদিবস চার দিন চালু করার আহ্বান জানালো কেইদানরেন

| শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 27 বার

জাপানে সাপ্তাহিক কর্মদিবস চার দিন চালু করার আহ্বান জানালো কেইদানরেন

ওমর শাহ : করোনা ভাইরাসের মধ্যেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে জাপানে সপ্তাহে কর্মদিবস চার দিন চালু করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী শিল্প-ব্যবসায়িক জোট কেইদানরেন।

এ শিল্প ফেডারেশনে তোশিবা ও হিটাচিসহ প্রায় ৮০ টি শিল্প প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত। সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে কর্মস্থলে ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য সপ্তাহে চার দিন কর্মদিবস চালুর গাইডলাইন দিয়েছে শিল্প জোটটি।

সংস্থাগুলো সপ্তাহে চার দিনের কর্মদিবস চালু করার পাশাপাশি কীভাবে নভেল করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা যেতে পারে তার একটি গাইডলাইন আসন্ন শেয়ার হোল্ডারদের সভায় বের করারও আহ্বান জানিয়েছে।

১৪ মে ফেডারেশনের চেয়ারম্যান হিরোয়াকী নাকানিশি এক বিবৃতিতে এই গাইডলাইন মেনে চলার আহবান জানান। একই দিন জাপানের সরকার দেশের ৪৭ প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে ৩৯টির জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেয়।

নাকাশিকি বলেন, জরুরি অবস্থার আংশিক উত্তোলন জনজীবনকে স্বাভাবিককরণ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার দিকে প্রথম পদক্ষেপ। তবে এখনও সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সবাইকে গুরুত্বের সাথে মেনে চলার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকার ও শিল্প সংগঠনের নেতাদের এই পদক্ষেপে জাপানে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল তার অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ পুনরায় শুরু হবে। তবে টোকিও ও ওসাকার মতো বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলো অবশ্য জরুরি অবস্থার মধ্যে থাকবে।

ফেডারেশন ওয়ার্কউইক চারদিন চালু করার পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে। একই সাথে ব্যবাসায়িক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে পরিবহনে যানজট নিরসনে শিফটিং ডিউটি চালু করারও তাগিদ দিয়েছে।

জুনের শেষের দিকে শেয়ারহোল্ডারদের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন সভায় যাতে জনাকীর্ণ না হয় সেদিকে নজর রাখতে আহবান জানানো হয়েছে। জাপানের ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোকে অযৌক্তিক ব্যবসায়িক ভ্রমণ স্থগিত ও অনলাইনে চাকরি প্রার্থীদের সাথে সাক্ষাত্কার বা সেমিনার করার পরামর্শ আগেই দেওয়া হয়েছিল। এসব বিষয় মেনে চলার আহবান জানানো হয়েছে।

জাপানের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান হিটাচি লিমিটেড জানিয়েছে, তাদের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। তবে তারা সপ্তাহে এক-দু’দিন অফিসে কাজ শুরু করবে।

আরেক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান তোশিবা কর্পোরেশনও তাদের কর্মীদের জন্য চার দিনের ওয়ার্কউইক চালু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

শিসিডো করপোরেশনও বলেছে, তাদের ডিপার্টমেন্ট স্টোর ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সেবাদানকারী আউটলেটগুলো বিক্রয় পুনরায় শুরু করবে।

জাপানে জরুরি অবস্থা শিথীল করার পর বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর অপারেটর ও চেইন রেস্তোঁরার আউটলেটগুলোর কার্যক্রম শুরু ও বেশি সময় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাপানের অর্থমন্ত্রী ইয়াসুতোশি নিশিমুরাও শিল্প ফেডারেশনের গাইডলাইনের বিষয়ে অবহিত আছেন। তিনি বলেন, মোট ৮১ টি শিল্প সংস্থা করোনা ভাইরাসের কীভাবে সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে সে সম্পর্কে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এপ্রিলের প্রথম দিকে ৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলে এক মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। যে সাতটি নগরী থেকে ভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পরেছিল।

পরে পরিস্থিতির আরো অবণতি হলে ৪৭ টি প্রশাসনিক অঞ্চলে জরুরী অবস্থা ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) প্রধানমন্ত্রী আবে এই পদক্ষেপটি প্রত্যাহার করেন। ২৯ অঞ্চলে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করে নেন।

অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে, জাপান ফুড সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, যা রেস্তোঁরা অপারেটরদের প্রতিনিধিত্ব করে, এমন বসার বিন্যাসের পরামর্শ দিয়েছে যাতে গ্রাহকরা একে অপরের মুখোমুখি না হন এবং টেবিলের মধ্যে অ্যাক্রিলিক শীট স্থাপন করবে বলেও জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের প্রধান শিনিচিরো তাকাওকা বলেন, ” করোনার পরিস্থিতি খারাপ থাকায় একে অপর থেকে আলাদা রাখার বিষয়টি প্রতিটি রেস্তোঁরা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব পদক্ষেপ নিতে হবে। ”

এদিকে শপিংমলে বয়স্ক ও প্রসূতি নারীদের জন্য আলাদা সময় রাখার কথাও বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: জাপান টুডে

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত