ঘোষণা

আমরা অপর হয়ে বসে আছি, সর্বনাশার আশায়

| রবিবার, ০৩ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 35 বার

আমরা অপর হয়ে বসে আছি, সর্বনাশার আশায়


এন্টনী গমেজ

কিছু বালক একটি পুকুরে পাথর ছুড়ে খেলা করছিল।সেই পুকুরে ছিল অনেক ব্যাঙ, পাথর ছুড়ার কারনে অনেক ব্যাঙ আহত হইল।
একটি ব্যাঙ বালকদের জিজ্ঞাসা করল, হে বালক তোমরা কি করছ।
বালকেরা উত্তরে বলল,আমরা খেলছি।ব্যাঙ বলল তোমরা তো খেলছ, কিন্ত আমরা তো মারা যাইতেছি।ওটা ছিল বালকদের খেলা।
ভাবছিলাম ফেসবুক আর লিখব না। দেশের নামী দামী লেখকেরা কলম বন্ধ করছেন। আমাদের মত স্কুল পালানো লেখকের লেখা কে পড়বে।
দেশের অর্ধেক দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিয়ে ২০০৯ সালে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গ্রহন করলেন।আজ দেশের প্রায় ৮৫% খেয়ে পড়ে মোটামুটি ভাল আছে।সেখান কিছু জন প্রতিনিধিদের কর্মকান্ডে প্রধানমন্ত্রীর সব অর্জন যেন মলিন হতে যাচ্ছে।
নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই নির্বাহী বিভাগ প্রধান। মন্ত্রী এমপিদের ১০০ শতাংশই নির্বাচিত এবং তারা মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী। আমাদের দেশে ফুল, হাফ, সিকি মিলিয়ে ৪৭ জন মন্ত্রী আছেন। তারাই নির্বাহী বিভাগে নেতৃত্ব দেবেন।
রাষ্ট্র পুঁজি মালিক, ধনিক গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখে। এজন্যই রাজনীতির ড্রাইভিং সিটে এখন ব্যবসায়ীরা। সংসদ যেন এখন ব্যবসায়ীদের ক্লাবে পরিণত হয়েছে।
কেউ কাটে কাঁচা ধান, কেউ বা আবার রাস্তার পাশের ধান ক্ষেতে নেমে ফটো সেশন করে। ফেসবুকে আপলোড করে।এগুলো তো উনাদের কাজ না।
গুলশান বনানীর হাজার কোটি কোটি টাকার মালিক থেকে গুলিস্তান ও সদর ঘাটের ভিক্ষারী প্রর্যন্ত বসে আছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের জন্য।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রান না পাইলে তাদের কেউর চুলা গরম হয়না।
আমরা যাদের গার্মেন্টস শিল্পের মালিক বলি।
নাম করা একটি পত্রিকার সম্পাদক উনি বললেন, এরা হল দর্জির দোকানের মালিক।
কথার মধ্যে যুক্তিও আছে।আমি বরং একে দর্জিশিল্প বলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি। কারণ, এ শিল্পে প্রায় সব কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশে যে গার্মেন্ট কারখানা তা আসলে দর্জিবাড়ি।
বাইরে থেকে আসা ফেব্রিক্স, বোতাম, সুতা ইত্যাদি এখানে শুধু টেইলারিং করা হয়। এটার আসল যে মুনাফা তা হলো শ্রমিককে ঠকানোর টাকা।
শ্রমিকের লুণ্ঠিত টাকায় এরা বিলাসবহুল গাড়ি হাঁকান। এরা দেশে বিদেশে বিশাল বাড়ির মালিক হন।
করেনার কারনে মার্চ মাসের ২৮ তারিখ সরকার লকডাউনের ঘোষনা দিলেন। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন তো বকেয়া, সেই জানুয়ারী ফেব্রুয়ারি থেকে। এদিকে সরকারী প্রণোদনা লুঠ করল। শ্রমিকেরা এখন ও বেতন ভাতার জন্য রাস্তায় আন্দোলন করছে।
প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে রাজস্ব ফাঁকির তোড়জোড় থেমে নেই।
জলপাই ও চীনাবাদামের মিথ্যা ঘোষণা চট্রগ্রাম বন্দর দিয়ে আনা হয় ২১ মেট্রিক টন শিশুখাদ্যের এ চালান।
এ যেন, গোলাম মোস্তাফার কবিতা:
বাপ মা তাদের ঘুমিয়ে আছে এই সুবিধা পেয়ে,
বনভোজনে মিলেছে আজ দুষ্টু কটি মেয়ে।
এখন আমাদের মন্ত্রীরা চকচকে নতুন গাড়িতে উঠছেন। বিশাল এয়ার কন্ডিশন বাংলোবাড়িতে থাকছেন। অনেক মন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে আবার সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের গাড়ি ছুটছে। মন্ত্রীরা লাল ফিতা কাটছেন, গলায় ফুলের মালা নিচ্ছেন, বক্তৃতা দিচ্ছেন। চামচা-চাটুকাররা তালি বাজাচ্ছে। এই হল আমাদের মন্ত্রীদের ক্ষমতা ও কাজ।

‘আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হওয়া কথা ছিল।
গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন-মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। ’

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ২:০৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৩ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত