ঘোষণা

গ্রামীণ ব্যাংক বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লেও সমবায় এখনো মানুষের কাছে পৌঁছায় নি

স্বপন রোজারিও | বুধবার, ২৬ মে ২০২১ | পড়া হয়েছে 91 বার

গ্রামীণ ব্যাংক বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লেও সমবায় এখনো মানুষের কাছে পৌঁছায় নি

আমাদের এই ভূখন্ডে (তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশে) সমবায়ের ইতিহাস শত বছরেরও পুরাতন। ক্রেডিট ইউনিয়নের ইতিহাসও অর্ধশত বছরের অধিক সময় পার করে ফেলেছে। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-ই দেশের সংবিধানে এই সমবায়কে উন্নয়নের দ্বিতীয় খাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সমবায় অধিদপ্তরের জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দের পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে ১ লক্ষ ৯২ হাজার সমবায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ১৫ লক্ষের বেশী। ৯ লক্ষ ৫৩ হাজারের বেশী মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমবায়ে বিভিন্নভাবে কাজ করছে। সমিতিগুলোতে রয়েছে ৫,৮৪৭ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকার সম্পদ ও ১৪,৬১২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার কার্যকরী মূলধন। কিন্তু দু:খের বিষয়, সমবায়ে এতো বেশী সংখ্যক মানুষের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও কার্যত: এর প্রতিফলন কোন জায়গায় পরিলক্ষিত হয় না। সমবায় খাত অবহেলিতই থেকে গেছে এ যাবৎ! দিন শেষে, সমবায়ের যে উন্নয়ন তা কোথায় গিয়ে যেন বিলিন হয়ে যায়! অথচ কোটি কোটি মানুষ সমবায় থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করছে ঠিকই। সমবায়ের এই যে উন্নয়ন তা জাতীয় খাতে যাচ্ছে না কেন? আর যদি যায় তাহলে এর প্রতিচ্ছবি কোথায়? এর কোন প্রভাব জাতীয় জিডিপিতে পড়ছে না কেন?
সমবায়ের অনেক গৌরব গাঁথা বিষয় আমাদের দেশে রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে সমবায়ের অবদান অস্বীকার করার মত নয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, জাতীয় পর্যায়ে এর কোন প্রতিফলন বা ছাপ আমরা তেমন একটা দেখতে পাই না। সমবায়ের এই যে নীরব বিপ্লব, তা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এর একটা বড় কারণ হল, সমবায়ের তেমন একটা প্রচার প্রচারনা আমাদের মধ্যে নাই। সমবায় দিবস পালন ছাড়া অন্য কোন অনুষ্ঠান বাংলাদেশে সাধারণতঃ সমবায়ের মাধ্যমে পালন করা হয় না।
মোট কথা হল- সমবায়ের কথা বাংলাদেশের মানুষ জানেন না বললে চলে। যার ফলে দেশের এত বড় একটা সেক্টর মানুষের অজানাই থেকে যাচ্ছে। সমবায়ের অনেক পরে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। আর গ্রামীণ ব্যাংকের অনেক আগে জন্ম নেয়া সমবায় এখনো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে নি। এটা আমাদের চরম এক ব্যর্থতা যা আমাদের স্বীকার করতেই হবে। এই সমবায়কে ব্যাপকভাবে প্রচারের মাধ্যমে এর সুফল বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের দেশ দ্রুততম সময়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। সমবায়ের সুফল নিলে আমাদের দেশের প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি ঘরে যেতে হবে, নাগরিকদের সংগঠিত করতে হবে, তাদের সমবায়ের পতাকা তলে আনতে হবে। তবেই সমবায় আমাদের দেশে সমৃদ্ধি লাভ করবে।


লেখক, স্বপন রোজারিও, ঢাকা ক্রেডিট ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তা

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৭:০৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৬ মে ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জুতার দাম ১০ লাখ ডলার!

০৯ ডিসেম্বর ২০২০