ঘোষণা

দু’পায়ের বদলে কেন এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে এই পাখি?

বিবেক ডেস্ক | শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 51 বার

দু’পায়ের বদলে কেন এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে এই পাখি?

এই পাখিরা কানঠুটি নামেও পরিচিত। সাদা ও গোলাপি রঙের ফ্লেমিংগো বা কানঠুটি বেশি দেখা যায়। বিশ্বে মাত্র ছয় প্রজাতির ফ্লেমিংগো রয়েছে। যদিও এর মধ্যে কয়েকটি প্রজাতির উপ-প্রজাতি বিভাগ রয়েছে। সমস্ত ফ্লেমিংগো পাখি পরিবার ফিনিকোপটারিডে অন্তর্ভুক্ত।
বিভিন্ন কারণে ফ্লেমিংগোকে একটি অদ্ভুত প্রকৃতির পাখি বলা যেতে পারে। এদের পা পাঁচ ফুট লম্বা হলেও এদের গড় ওজন মাত্র তিন কিলোগ্রাম। কবুতরদের মতো এরা বাচ্চাদের কচি শস্যের দানা খাওয়ায়। সঠিক শেওলা ও প্ল্যাঙ্কটন খেতে পেলে বাচ্চাগুলোর সাদা পালকের রং পাল্টে গোলাপি থেকে ক্রমে বদলে গাঢ় লাল হয়ে যায়।

এ প্রজাতির পাখিগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। ঝাঁক বেঁধে চলতে ভালোবাসে এরা। সারা পৃথিবীতে ছয় প্রজাতির ফ্লেমিংগোর দেখা পাওয়া যায়। এশিয়া এবং ইউরোপে রয়েছে গ্রেটার ফ্লেমিংগো। এছাড়াও আফ্রিকায় একপ্রকার ও আমেরিকায় চার প্রকারের ফ্লেমিংগো দেখা যায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ফ্লেমিংগো পাওয়া যায় না। এই পাখির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো যে কাউকে মুগ্ধ করে দেয়। জেনে নিন সেগুলো সম্পর্কে-

> ল্যাটিন শব্দ ফ্লেমিংগো থেকে স্পেনীয় শব্দ ফ্লেমিংগো এসেছে। যার অর্থ হলো আগুন। সাধারণত এদের পালকের উজ্জ্বল রঙের জন্য এমন কথা বলা হয়েছে।

> ফ্লেমিংগোর পালকের রং গোলাপি, কমলা বা লাল রঙের হওয়ার কারণ হলো তাদের খাবারের ডায়েট চার্ট। তাদের খাদ্যতালিকায় থাকে চিংড়ি, প্লাংকটন, শ্যাওলা। যদি এই খাবারগুলো পর্যাপ্ত পিগমেন্টেশন শরীরের সরবরাহ করতে না পারে তাহলে ফ্লেমিংগো সাদা রংয়ের হয়।

> ফ্লেমিংগোর এক ঝাঁক এর মধ্যে এক মিলিয়ন পাখি আছে এমন রেকর্ডও পাওয়া গেছে। তবে ঝাঁকের মধ্যে থাকে বলে এরা অনেকটাই বিপদমুক্ত। সেজন্য প্রচুর পরিমাণে ডিম থেকে বাচ্চা উত্‍পাদন হয়, তাই এদের সংখ্যাটা অনেকটা বেশি।

> এই পাখিরা তাদের সারা জীবনের জন্য একজন সঙ্গীকেই বেছে নেয়। ফ্লেমিংগো কে কখনো একা থাকতে দেখা যায় না। এরা দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে। তবে সেই ঝাঁকের মধ্যে নারী-পুরুষ বেছে নেয় নিজের জীবনসঙ্গীকে। বছরের পর বছর একই সঙ্গীর সঙ্গে থাকা, তার সঙ্গে মিলিত হওয়া, তার সঙ্গে যৌন চাহিদা মেটানো এবং ডিম পাড়া সবই চলে একসঙ্গে।

> এই পাখি সাধারণত ৫০ বছর বাঁচে। এ প্রসঙ্গে গবেষণা বলছে, এই পাখির এত বছর বেঁচে থাকার কারণ হলো এরা দলের মধ্যে থাকে। এরা কখনো একা হয় না। যার ফলে এদের জীবন চাপমুক্ত। ঠিক যেন মানুষের মতো।

> আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া মহাদেশ প্রভৃতি জায়গায় সামুদ্রিক জলের প্রাধান্য যেখানে বেশি সেখানে এই লম্বা লম্বা পায়ের ফ্লেমিংগোর দলকে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে দেখা যায়।

কেন এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে ফ্লেমিংগো?

ফ্লেমিংগোরা যদি দু’পায়ের বদলে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে তারা বেশি শক্তি সাশ্রয় করতে পারে। এই তথ্য বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন। ফ্লেমিংগোদের বেশিরভাগ সময় এক পায়েই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এটা তাদের সিগনেচার পোজ বলেই ধরা যায়। যদিও কেন তারা এভাবে দাঁড়ায় সেটা বহুদিন ধরেই একটা রহস্য হয়ে ছিল। এখন আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী প্রমাণ করেছেন এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকলে ফ্লেমিংগোদের আলাদাভাবে সক্রিয় কোনো পেশী-শক্তি খরচ করতে হয় না। ফলে তাতে তাদের এনার্জিও কম খরচ হয়।

আগে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, যেহেতু এক পাঁয়ে দাঁড়ানোর সময় ফ্লেমিংগোরা একটু পর পর পা বদলায়, তাই বোধহয় তারা মাসল ফ্যাটিগ বা পেশীর ক্লান্তি কাটানোর জন্যই এরকম করে। কোনো কোনো গবেষকের ধারণা ছিল, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই বোধহয় ফ্লেমিংগোরা এক পায়ে দাঁড়ায়।

এখন আটলান্টার জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (জর্জিয়া টেক) অধ্যাপক ইয়ং-হুই চ্যাং এবং আটলান্টার এমোরি ইউনিভার্সিটির লেনা এইচ টিং ফ্লেমিংগোর এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার পেছনে মেকানিকেল রহস্যটা উদ্ধার করেছেন। এই গবেষকরা তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন জীবিত ও মৃত, দুধরনের ফ্লেমিংগো নিয়েই।

আশ্চর্যজনকভাবে তারা দেখেছেন, একটা মৃত ফ্লেমিংগোকেও বাইরের কোনো সাহায্য ছাড়াই এক পায়ে খাড়া করে দাঁড় করানো সম্ভব। রয়্যাল সোসাইটি জার্নাল বায়োলজি লেটার্সে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে তারা এই পদ্ধতির নাম দিয়েছেন ‘প্যাসিভ গ্র্যাভিটেশনাল স্টে মেকানিজম’।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত