ঘোষণা

জীবন ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তায় ভাসানচর

রোহিঙ্গা মায়েদের চাপা কান্না

উম্মে সায়মা | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২০ | পড়া হয়েছে 25 বার

রোহিঙ্গা মায়েদের চাপা কান্না

বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে নানা অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাজারো রোহিঙ্গা শরণার্থীর।

রোহিঙ্গা মায়েদের চাপা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ক্যাম্পগুলোর বাতাস। অজানা আতঙ্ক প্রতিনিয়তই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের।

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোকেয়া বেগম নামে এক রোহিঙ্গা মা বলেন,

‘মিয়ানমারে স্বামীকে হারিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছি৷ ছেলে-মেয়ে বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের জন্য চিন্তাও বাড়ছে।

কেন না রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায়ই নিজেদের মধ্যে খুন ও মারামারির ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পগুলো পাহাড়ের তীরে হওয়ায় রোহিঙ্গা ডাকাতরা ধরে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ চায়, মুক্তিপণ না দিলে সাধারণ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে ফেলে৷

এমন কি আশ্রিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে মারধর করে লুট করে নিয়ে যায় অন্য রোহিঙ্গাদের সহায় সম্বলটুকুও৷

রাত আসলেই মেয়েদের চিন্তায় ঘুম আসে না রোকেয়া বেগমের৷ কেন না এই ক্যাম্পে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটান রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। ’’

রোকেয়া বেগমের মতো আরও অনেক মা রয়েছেন, যারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। কোথায় গেলে এর সমাধান মিলবে সেই উপায়টিও জানেন না কেউ।

উন্নত জীবনের আশায় কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে এরই মধ্যে নাম লিখিয়েছেন শতাধিক রোহিঙ্গা নারী।

সন্তানদের নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে ভাসানচরকেই শ্রেষ্ঠ বিকল্প মনে করেন তারা।

কক্সবাজারের উখিয়ার লেদা শরণার্থী শিবিরের মরিয়াম খাতুন ভাসানচরে যেতে নাম নিবন্ধন করেছেন৷

তিনি বলেন, আমাদের জীবন তো প্রায় শেষ। এখন ছেলে মেয়েদের কথা ভাবতে হবে৷ শুনেছি অনেক সুযোগ-সুবিধা আছে ভাসানচরে৷ সেখানে গেলে ছেলে মেয়েরা শিক্ষা, বড় বড় ঘর ও কাজের সুযোগ পাবে৷ সেজন্য সবাইকে নিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আরেক রোহিঙ্গা মোহাম্মদ সৈয়দ আমিন বলেন, ভাসানচরে বড় বড় পুকুর রয়েছে। সেখানে মাছ চাষ করতে পারবো৷ পাশাপাশি হাল চাষ করার সুযোগ রয়েছে বলে শুনেছি৷

তাছাড়া কক্সবাজারের ঘরগুলো খুব ছোট৷ আটজন পরিবারের সদস্যদের গাদাগাদিভাবে থাকতে সমস্যা হচ্ছে৷

ভিডিওতে দেখেছি, ভাসানচরের ঘরগুলো অনেক বড় বড়, সেখানে গেলে ঘুমাতে আর সমস্যা হবে না৷ তাই আমরা স্বেচ্ছায় সেখানে চলে যাচ্ছি।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:১৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত