ঘোষণা

তবুও আনন্দ জাগে

উজ্জ্বল সামন্ত | মঙ্গলবার, ০২ নভেম্বর ২০২১ | পড়া হয়েছে 70 বার

তবুও আনন্দ জাগে

শরতের আকাশ, শিউলির সুবাস, কাশ ফুলের দোলায় আগমনীর আগমন বার্তা অনুরণন হচ্ছে। বৎসরের বারো মাসে তেরো পার্বণ এর শ্রেষ্ঠ পার্বণ তথা বাঙালির শ্রেষ্ঠ মিলন উৎসব দুর্গোৎসব। দুর্গা দুর্গতি নাশিনী, অভয়দাত্রী, জগৎজননী। দেবীর আরাধনায় তথা মাতৃবন্দনায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মঙ্গল কামনায়, সুস্থ পরিবেশ ও শান্তির বাতাবরণে দুর্গোৎসব হয় বিভিন্ন পাড়ায় সার্বজনীন ক্লাব ও পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের নানা জায়গায় এমনকি বিদেশেও। দুর্গোৎসব কে ঘিরে দুটি কাহিনীচিত্র। ঝাড়খন্ড দুমকা এলাকায় আদিবাসী ছোট্ট মেয়েটি শিউলি (১২ বছর)রাস্তার ফুটপাতে ফুল, মালা, বেলপাতা নিয়ে বিক্রি করে বস্তির সামনের বড় রাস্তায়। শিউলির বাবা হকারি করত ট্রেন এ। মহামারীর আতঙ্কে বছর খানেক হল সব বন্ধ। ওর বাবা দিন মজুরের কাজে প্রতিদিন সকালে বেরিয়ে যায়। প্রায় দিন খালি হাতে ঘরে ফেরে লকডাউনে সেরকম কাজ কর্ম নেই চাষবাস ছাড়া। মা পাঁচজনের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতো কিন্তু লকডাউনে তাও বন্ধ। শিউলির স্কুল বন্ধ তাই ওর খুব মজা। সকাল হলেই পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন গাছের ফুল তুলে মালা গেঁথে বেরিয়ে পড়ে ওদের বস্তি থেকে বড় রাস্তার মোড়ে। হঠাৎ একদিন বিকেলে শিউলির মা ওকে ও ছোট্ট ভাইকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। শহরের রাস্তায় বড় বড় শপিং মল। চোখ ধাঁধানো পোশাক, শিউলির মনে ভীষণ আনন্দ। কাঁচের বাইরের থেকে থেকে দেখা যাচ্ছে। শিউলি দাঁড়িয়ে পড়ে। উর্মা হাত টেনে ধরে বলে ভেতরে ঢুকে না আমাদের ঢুকতে দেবে না।আমরা গরীব , অত পয়সা নেই। রাস্তার ধারে একটি দোকানে যায়। দোকানে খুব ভিড়, ওদের পোশাক দেখে সিকিউরিটি ঢুকতে দেয় না। দোকানের মালিক ব্যাপারটি লক্ষ্য করে। লোক মারফত একটি শাড়ি , ফ্রক বাচ্চাটির জন্য একটি জামা দিয়ে পাঠায়। শিউলির মা আত্মাভিমানী। গরীব হতে পারে কিন্তু কারো কাছে কোনদিন হাত পেতে কিছু নেয়নি। জিনিস গুলো ফিরিয়ে দেয়। এবার দোকানর মালিক ওদের ভেতরে ঢুকতে দেয়। কেনাকাটা করে দাম দিতে গেলে দোকানের মালিক খুব আশ্চর্য হয়ে ওদের তিনজনের দিকে তাকায়। শিউলির বাবা সন্ধ্যায় ফিরে নতুন জামা কাপড় দেখে চমকে যায়। তখন শিউলির মা শিউলির ফুল বিক্রি করে রোজগারের কথা জানায়। আনন্দর রোজগার সেরকম নেই , তাই ছোট্ট ছেলে, মেয়ের ও স্ত্রীর জন্য কিছু কেনাকাটা করতে পারেনি দুর্গোৎসবে ।মেয়ে শিউলির এই কাজে আনন্দের দুচোখের কোণে কিছু চিকচিক করে। বাবা হয়েছে তার সাথে খেতে পারেনি তার ছোট্ট মেয়েটি সেই রকম একটি কাজ করেছে। আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে শিউলি কে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে, এইতো আমার আসল মা, আমার ঘরের লক্ষী।

অপর গল্পটি বাপ্পার। ওর যখন দশ বছর বয়স বাবা বিদেশে কর্মসূত্রে ওকে ওর মা কে নিয়ে যায়। দাদু ঠাকুমার বড় প্রিয় ছিল ও। ওদের কাছেই মানুষ। বিদেশের মাটিতে পা রাখার পর বাপ্পার শরীর খারাপ হতে থাকে। একসময় চিকিৎসকের পরামর্শে বাপ্পার বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে থালাসেমিয়া ধরা পড়ে। এদিকে ওর বাবা মনস্থ করে ছিল, এবারের দূর্গা পুজোয় দেশে ফিরবে । বাপ্পার মনে অনেক আনন্দ ছিল দাদু ঠাম্মার সঙ্গে দেখা হবে। কত নতুন বন্ধু হবে। কিন্তু আনন্দ যেন কোথায় হারিয়ে গেল। বিছানায় শুয়ে শুয়ে শারদ উৎসবের সপ্তমী রং দিন ওদের প্রবাসী বাঙালি সোসাইটির দুর্গোৎসবে ঢাকের শব্দে, মন আনমনা হয়ে ওঠে। বাবা-মায়ের কাছে অনেক আকুতি মিনতির পর হুইলচেয়ারে পুজো মণ্ডপে যায়। মন্দিরে তখন আরতি চলছিল, ধুনোর গন্ধ, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। বাপ্পা আনন্দে হেসে ওঠে বলে, বাবা, সামনে বছর আমাকে দাদু ঠাম্মার কাছে নিয়ে যাবে? ওর বাবা বলে হ্যাঁ, নিশ্চয়ই, তুমি একটু সুস্থ হয়ে ওঠো। ওকে, ঋজু , রিক, অমিত দের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরোব! দারুন মজা হবে, বলো বাবা!

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ নভেম্বর ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নীরব-নিথর অবয়ব

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

অনুগল্পঃ মানুষ

১০ ডিসেম্বর ২০২০

এডুকেশন

২৩ ডিসেম্বর ২০২০

স্বর্গ থেকে বিদায়

০৯ ডিসেম্বর ২০২০

চারাগাছ

২৬ জানুয়ারি ২০২১

কারিগর

২৪ জানুয়ারি ২০২১

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

নিশি মানব

২৫ জুন ২০২১

রূপকথা

২৬ এপ্রিল ২০২০