ঘোষণা

ফিরে এসো

পপি চৌধুরী | মঙ্গলবার, ০৪ মে ২০২১ | পড়া হয়েছে 87 বার

ফিরে এসো

 

রাত তিনটার দিকে বুকের ভিতর একটা চাপা কষ্টের অনুভূতি নিয়ে ঘুম ভেঙ্গে যায় লায়লার। আজও আবার ঐ মানুষটিকে স্বপ্নে
দেখেছে সে। যাকে চিরদিনের মতো মুছে ফেলে দিয়েছে জীবন থেকে, স্মৃতির পাতা থেকে- সেই মানুষটিকেই ইদানীং ঘন ঘন স্বপ্নে
দেখছে সে!
“বিধাতা, তোমার এ কেমন পরিহাস! যাকে আমি সমস্ত মনপ্রাণ দিয়ে ভুলে থাকতে চাই, তাকেই তুমি বার বার স্বপ্নে এনে
আমার হৃদয়টাকে ক্ষত বিক্ষত করে দাও! কেন তুমি ঐ অমানুষটাকে স্বপ্নে দেখাও, কী তোমার অভিলাষ!”
বিড়বিড় করে বলে লায়লা। হাতড়ে মাথার কাছের বেড সুইচ টিপে বাতি জ্বালে। বিছানা থেকে নেমে বেডসাইড টেবিলে রাখা গ্লাস
থেকে ঢক্ ঢক্ করে পানি পান করে। ফ্যানের স্পীড বাড়িয়ে দেয়। লাইটের সুইচ অফ করে পুনরায় ঘুমোবার চেষ্টা করে।
তবে ঘুম আসে না তার। ভিতরে ভিতরে অস্থিরতা বোধ করে। বার বার পুরনো দিনের স্মৃতিগুলি মনের জানালায় ভীড় জমায়। কত
আনন্দময় ছিল শৈশব, কৈশোর আর ইউনিভার্সিটির সেই দিনগুলি! এখনও চোখের সামনে ভাসে। পড়াশুনা, নাচ-গান, আর
অভিনয়ে তুখোড় ছিল সে। কত ছেলে পেছনে ঘুর ঘুর করেছে। কাউকেই পাত্তা দেয়নি, কাউকেই মনে ধরেনি তার। হয়তোবা কিছুটা
অহংকারীও ছিল। তারপর হঠাৎ করে একদিন বাবা বিয়ে ঠিক করে ফেললেন তার।
“পড়াশুনা শেষ না করে কিছুতেই বিয়ে করবো না” -বলে বেঁকে বসলো সে। বাবাও নাছোড়বান্দা; “পাত্র ইঞ্জিনীয়ার। ইতালি থাকে।
বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে-এমন পাত্র কি হাতছাড়া করা যায়!” অগত্য বাবা-মায়ের ইচ্ছের কাছে নিজের স্বপ্ন-সাধ সব
জলাঞ্জলি দিয়ে একদিন বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হলো তাকে।
বিয়েতে অমত থাকলেও বিয়ের পর নিজেকে খুব সুখী মনে হতে লাগলো তার। মধ্যবিত্ত পরিবারে মানুষ হওয়া লায়লা প্রাচুর্যের
মাঝে ডুবে গিয়ে অল্পদিনেই ভুলে গেল পড়াশুনা শেষ করতে না পারার কষ্ট। বিয়ের পনেরো দিনের মাথায় স্বামী জুবায়ের ফিরে
গেল ইতালি। বলে গেল, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সে তাকে নিয়ে যাবে নিজের কাছে।
লায়লা দিনরাত স্বপ্ন বোনে। মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি সাধারণ মেয়ে ইউরোপীয়ান কান্ট্রিতে গিয়ে জুবায়েরের সংসারের
রাণী হওয়ার স্বপ্ন। কবে স্বামীর কাছে যাবে, কবে নিজের মত করে সংসার সাজাবে, সেই স্বপ্নে বিভোর থাকে সারাক্ষণ। কথা
রাখে জুবায়ের, তিনমাসের মাথায় না হলেও এক বছরের মাথায় ইতালি নিয়ে যায় লায়লাকে।

 

ইতালীতে পা দিয়ে লায়লা বুঝতে পারে, বাংলাদেশে দেখা জুবায়ের আর এই জুবায়েরের মাঝে অনেক পার্থক্য। প্রতিদিন সকাল
বেলা কাজে বের হয়ে যায় জুবায়ের। ফেরে মাঝরাতে, মদের নেশায় টলতে টলতে। একটুতেই রেগে ওঠে, সামান্য ব্যাপারে গায়ে হাত
তোলে। কিছুদিনের মধ্যে পাশের রুমে সাবলেট দেয়ার নাম করে এনে তোলে এক বাঙালি বান্ধবীকে। রাত কাটায় তাকে নিয়ে,
প্রতিবাদ করলে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল আর মারধোর। স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায় লায়লার। প্রতিনিয়ত জুবায়েরের
অপমানে নিজেকে খুব ছোট মনেহয় তার। সোনার খাঁচায় বন্দী লায়লার দম বন্ধ আসে। মুক্তির আকাঙ্খায় ছটফট করে প্রাণ!

দূর সম্পর্কের এক মামা ছিলেন ইতালিতে। অনেক কষ্টে খুঁজে বের করে তাকে এবং খুলে বলে বিস্তারিত। সব স্বপ্ন পিছনে
ফেলে মামার সহায়তায় একদিন বাংলাদেশে ফিরে আসে লায়লা। মেয়ের পরিণতি দেখে অনুশোচনায় দেড় মাসের মাথায় পরপারে
পাড়ি জমান বাবা।
আরো দু’টি বোন তখনও অবিবাহিত। বড় ভাই লেখাপড়া শেষ করে চাকরির চেষ্টা করছে আর ছোট ভাইটি কলেজে পড়ছে। বাবার
অবর্তমানে এতবড় সংসার নিয়ে লায়লার মা চোখে অন্ধকার দেখেন। এদিকে লায়লাও নিজের ভিতর আর একজনের অস্তিত্ব
টের পেতে থাকে। আত্মীয় স্বজন সবাই পরামর্শ দেয়, যে আসছে তাকে নষ্ট করে ফেলতে। কিছুতেই লায়লার মন সায় দেয় না।
অবশেষে একদিন মফস্বলের গার্লস স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নিয়ে চলে আসে অন্য শহরে। তারপরের ইতিহাস- লায়লার
সংগ্রামের ইতিহাস, যুদ্ধজয়ের ইতিহাস, তার নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্বের ইতিহাস!

 

: খালাম্মা, আপনের আপনজন কেউ নাই? ড্রইংরুমের ফার্নিচার মুছতে মুছতে হঠাৎ প্রশ্ন করে জরিনা।
পত্রিকা পড়তে পড়তে জরিনার প্রশ্নটা কানে যায় লায়লার। চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে অপ্রস্তুত কন্ঠে বলে, “থাকবে না কেন!
দু’দুটো ভাই আছে, দু'বোন আছে, মেয়ে আছে, জামাই আছে, নাতি আছে- সবাই আছে আমার।”
: তাইলে তারা আপনেরে দ্যাখতে আহে না ক্যান?
: কে বলল আসে না। সময় পেলেই আসে।
: আট মাস হইতাছে আমি আপনের বাসায় কাম করতাছি, কই এর মইধ্যে তো কেউরেই আসতে দ্যাখলাম না। খালি আপনের মাইয়া
মাঝে মাঝে বিদাশ থাইকা ফোন করে। আর কেউ তো ফোনও করে না।
জরিনার বাচালতায় বিব্রত বোধ করে লায়লা। বিরক্ত কন্ঠে বলে, “ওরা কী সব সময় আসতে পারে? ওদের কাজকর্ম আছে না!
বড় ভাই চাকরি থেকে রিটায়ার করে শেয়ারের কারবার নিয়ে ব্যস্ত। ছোট ভাই তো আরো ব্যস্ত, সে ব্যবসা করে। দু'বোনের বিয়ে
হয়েছে। একজন বরিশাল থাকে, আর একজন রাজশাহী। সংসার ধর্ম নিয়ে তারাও ব্যস্ত, রোজ রোজ কী আসতে পারে? -তুই বড্ড
বেশি কথা বলিস। কথা না বলে তাড়াতাড়ি ঝাড়ামোছা শেষ করে কাপড় ধুতে যা।”
“ভুল হইয়া গ্যাছে, মাফ কইরা দ্যান, কুনসোম আর বেশি কথা বলুম না।” অপরাধি কন্ঠে বলে জরিনা।
এমন সময় সদর দরজার কলিং বেল বেজে ওঠে। জরিনা ছুটে যায় দরজা খুলতে। একটু পরে ফিরে এসে বলে, “আপনে নাকি
নীচতালার খালাম্মাগো লগে কোরবানীর ভাগে থাকতে চাইছেলেন। অহন থাকবেন কিনা তাই জানতে লোক পাডাইছে খালাম্মা।”
“হ্যাঁ থাকবো। কতদিন পরে আমার মেয়ে-জামাই আসছে, নাতিটা আসছে। মেয়ে অবশ্য বলেছে, দেশে এসে নিজেরাই দেখেশুনে গরু
কিনবে। সে ওরা যা করে করবে, আমার কাজ তো আমায় করতে হবে। তুই বলে দে, আমার জন্য যেন অবশ্যই এক ভাগ রাখে। আর
বলে দিস, গরু কিনতে যাওয়ার দিন আমার কাছ থেকে যেন টাকাটা নিয়ে যায়।”
মাথা কাত করে সম্মতি জানিয়ে জরিনা চলে যায়। লায়লা পুনরায় পেপারে মনোনিবেশ করতে চেষ্টা করে। কিছুতেই আর মন বসাতে
পারে না। একটু পূর্বে ধমক দিয়ে জরিনার কথা থামালেও জরিনার প্রশ্নগুলি আনমনা করে দেয় তাকে। সত্যিই তো, কতদিন

ওদেরকে দেখে না সে! একটিবার কেউ তার খোঁজ নেয়ারও প্রয়োজন বোধ করে না। সবাই যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। পৃথিবীটা
এমন কেন! একই মায়ের পেটের ভাইবোন সবাইÑ একসঙ্গেই হেসেখেলে বড় হয়েছে। একটিবারও কী তাদের মনে পড়ে না নিঃসঙ্গ
এই বোনটির কথা!

 

পড়ন্ত বিকেল। আসন্ন সন্ধ্যার ছোপ ছোপ অন্ধকার চারিদিকে। গ্রামে বলে ‘কালী সন্ধ্যা।’ এমন সময় কেউ শুয়ে থাকে না।
এমনকি অতি মুমুর্ষ যে তাকেও কেউ না কেউ ধরে বসিয়ে দেয় বিছানায়। কিন্তু শুয়ে আছে লায়লা। প্রায়ান্ধকার ঘরে একা
চুপচাপ শুয়ে আছে। মন ভালো নেই তার। কতদিন মেয়েটাকে দেখে না! বিয়ের পর স্বামীসহ সেই যে অস্ট্রেলিয়া চলে গেল, তা
প্রায় সাত বছর হতে চলল। ওখানেই নাতিটার জন্ম। ছবিতেই দেখে কেবল। মাঝে মাঝে মেয়ে যখন ফোন করে তখন নাতিটা
অর্ধেক বাংলা, অর্ধেক ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলে। ওর কথাগুলো যেন মধুবর্ষণ করে কানে। ওকে একবার দেখার জন্য মনটা
ছটফট করে।
মেয়ে বলেছিল, এবার কোরবানীর ঈদের ছুটিতে মাকে দেখতে আসবে। সেই আনন্দে ৬৫ বছরের লায়লা ৩৫ বছরের যুবতী হয়ে
উঠেছিল। সারাক্ষণ ছুটোছুটি করে মেয়ে-জামাই-নাতি’র জন্য কত কী গুছিয়ে রেখেছিল। অথচ আজ সকালে মেয়ে ফোন করে
জানিয়েছেÑ “এবার ওরা আসতে পারবে না, কানাডায় যাবে নায়েগ্রা জলপ্রপাত দেখতে!”
হঠাৎ দরজা খুলে কে যেন রুমে প্রবেশ করে। চোখ না খুলেও বেশ বুঝতে পারে লায়লা। এক সময় শুনতে পায় জরিনার কন্ঠ;
“খালাম্মা, ক্যাডা য্যান আসছে, আপনেরে খুঁজতাছে।”
“নাম বলেছে?”
“ব্যাডায় নাম কয় না, খালি কয় “আমি লায়লার সাথে দেহা করতে চাই, আপনে ওনারে ডাইক্যা দ্যান।”
ধীরে ধীরে বিছানায় উঠে বসে লায়লা। চশমা হাতড়াতে থাকে। চশমা ছাড়া সবকিছুই কেমন অস্পষ্ট। জরিনা সুইচ টিপে ঘরের বাতি
জ্বালিয়ে দেয়। এগিয়ে গিয়ে চশমাটা পরিয়ে দেয় লায়লার চোখে। বিছানা থেকে নেমে ক্লান্ত পায়ে সদর দরজার দিকে এগিয়ে যায়
লায়লা।
“কেমন আছো?”
প্রশ্ন শুনে চম্কে ওঠে লায়লা। কন্ঠটা কেমন যেন পরিচিত মনে হয়। দরজায় দাঁড়ানো আগন্তুকের দিকে তাকিয়ে চিনতে চেষ্টা
করে। চেহারাটা খুব চেনা চেনা মনে হয় অথচ কিছুতেই মনে করতে পারে না কোথায় দেখেছে। কম্পিত কন্ঠে প্রশ্ন করে; “কে?”
“আমি… আমি জুবায়ের।” ইতস্তত কন্ঠে বলে আগন্তুক।
রাগে, দুঃখে, অপমানে অনেকক্ষণ আর কোন কথা বলতে পারে না লায়লা। এক সময় নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, “কেন এসেছো
তুমি?”
“আমায় ক্ষমা করে দাও লায়লা। তুমি ক্ষমা না করলে কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না আমি।”
“ক্ষমা!”

বিদ্রুপের হাসি ফুটে ওঠে লায়লার ঠোঁটের কোণে।
“আমি তো কখনও তোমার সুখের অন্তরায় হই নি, তাহলে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন?”
“আমি ভুল করেছি লায়লা, অন্যায় করেছি তোমার সাথে। যেদিন আমার ভুল বুঝতে পেরেছি তারপর থেকে তোমায় অনেক খুঁজেছি।
আর ক’দিনইবা বাঁচবো! জীবনে নিজের কৃতকর্মের অনুশোচনায় একটি দিনের জন্যও তো শান্তি পেলাম না। আমায় ক্ষমা করে
শান্তিতে অন্তত মরতে দাও। প্লীজ, এই করুণাটুকু করো আমায়!”
“না আমি তোমায় ক্ষমা করবো না। অনুশোচনায় ধুকে ধুকে মরবে তুমি, যেমন সারাটি জীবন ধরে ধুকে ধুকে তোমার অপরাধের
খেসারত দিতে হচ্ছে আমাকে!”
“লায়লা প্লীজ…!”
“আর একটি কথা না বলে এই মুহূর্তে এখান থেকে চলে যাও তুমি।” -কঠিন কন্ঠে বলে লায়লা।
হতাশায় জুবায়েরের দেহটা সামনের দিকে যেন নুয়ে পড়ে আরো। বিমর্ষ কন্ঠে বলে, “যতদূর জানি, তুমি আমার ওখান
থেকে চলে আসার সময় প্রেগন্যান্ট ছিলে। আমার সে সন্তান…”
চকিতে লায়লার দৃষ্টি চলে যায় দেয়ালে টানানো পিংকির ছবিটার দিকে। ভীত কন্ঠে বলে, “না, তোমার সে সন্তানকে
আমি পৃথিবীতে আসতে দেই নি। তোমার মত একটা অমানুষের সন্তানকে কেন আমি পৃথিবীর আলো দেখাবো, বলো?”
“ও…!” -হাহাকারের মত একটা শব্দ বের হয়ে আসে জুবায়েরের বুক চিরে।
“আচ্ছা চলি!” বলে ঘুরে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায় জুবায়ের। অবসন্ন পায়ে একটি একটি করে সিঁড়ি ভেঙ্গে নীচে নামতে থাকে।
হঠাৎ লায়লার বুকের মাঝে নিঃসঙ্গতার হাহাকার বেজে ওঠে। এই মুহূর্তে নিজেকে তার বড় একা মনে হয়। অসহায় জুবায়েরের
ক্লান্ত পদক্ষেপের প্রতি তাকিয়ে বলে ওঠে; “শোন… !”
সিঁড়ি ভাঙ্গা থামিয়ে ঘুরে তাকায় জুবায়ের। ইতস্তত কন্ঠে লায়লা বলে, “না মানে… বলছিলাম কী, এই ভর সন্ধ্যাবেলা যাবে! কত
দূর থেকে এসেছো, আজকের রাতটা না হয় এখানেই থেকে যাও।”
বিস্মিত দৃষ্টিতে জুবায়ের তাকিয়ে দেখে, স্বর্গের দুয়ারে দাঁড়িয়ে পরম মমতায় আহবান জানাচ্ছে এক পূত-পবিত্র মানবী। এই
আহবানের প্রতীক্ষায়ই তো সে ছুটে এসেছে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে!

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৪ মে ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

এডুকেশন

২৩ ডিসেম্বর ২০২০

অনুগল্পঃ মানুষ

১০ ডিসেম্বর ২০২০

চারাগাছ

২৬ জানুয়ারি ২০২১

কারিগর

২৪ জানুয়ারি ২০২১

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০

স্বর্গ থেকে বিদায়

০৯ ডিসেম্বর ২০২০

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

 ফুটপাথ

৩০ জুলাই ২০২০

মেষপালক  মুসা মিয়া

০৪ জানুয়ারি ২০২১

আমাদের গল্টু

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১