ঘোষণা

নীরব-নিথর অবয়ব

সাকিন আহম্মেদ ইমন। | সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | পড়া হয়েছে 1117 বার

নীরব-নিথর অবয়ব

কতোদূর হলো তোমার? রেডি হয়েছো?, ফোনকলে রূপকথাকে জিজ্ঞাসা করে শুভ।
– এইতো হয়ে গেছে, আরেকটু।
– আরও সময় লাগবে তোমার? এতো সাজগোজ করা লাগবে না তো, তুমি এমনিতেই আমার চোখে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য।
– আরেহ আমি সাজতেছি কে বললো তোমায়? এতো কথা বলো না তো। প্রায় শেষ, আর পাঁচ মিনিট।
– আরও পাঁচ মিনিট? সেই কখন থেকে আমি তোমার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, পাঁচ মিনিট বলতে বলতে পঁয়তাল্লিশ মিনিট পার হয়ে গেলো তো!
– বেশি কথা বলো তুমি। তোমাকে কে বলছে এতো তাড়াতাড়ি এসে দাঁড়িয়ে থাকতে? ফোন রাখো তো, আমি বের হচ্ছি এখনই।
– দয়া করে একটু তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বের হয়ে এবার আমায় উদ্ধার করুন মহারাণী!

শুভ ও রূপকথার সম্পর্কের তিন বছর হতে চলেছে আজ। এতোগুলো বছর তারা সামনাসামনি একে অপরকে না দেখেই কাটিয়ে দিয়েছে। একই শহরে থাকলেও অনেকটা ইচ্ছে করেই ডিজিটাল যুগের ব্যাকডেটেড প্রেমে নিজেদেরকে খুব সাবলীলভাবেই মানিয়ে নিয়েছে তারা। প্রতি মাসে একবার ভিডিও কলে এক মিনিটের জন্য দেখা হওয়া, প্রত্যেক সপ্তাহে মাত্র একটি করে ছবি আদান-প্রদান ইত্যাদিসহ নানা আজব ধরনের নিয়ম নিয়ে খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই চলে আসছে তাদের সম্পর্ক। দুজনের প্রতি দুজনের অগাদ আস্থা ও বিশ্বাসের জোরেই কেবলমাত্র তাদের সম্পর্ক টিকে আছে।

আজই প্রথম তারা সামনাসামনি দেখা করবে। সেজন্য দু’জনেই খুব উতলা হয়ে আছে। রূপকথার বাসার সামনে প্রায় ঘন্টাখানেক যাবৎ তার জন্য অপেক্ষা করছে শুভ। এতে অবশ্য শুভ’র খুব বেশি একটা কষ্ট হচ্ছে না। কারণ প্রাইভেট কারে এয়ার কন্ডিশন আর ওয়ারফেজ ব্যান্ডের ‘রূপকথা’ গানের অপূর্ব এক মিশেলে নিজেকে খুব খুশি-খুশি লাগছে তার। শুভ রূপকথার প্রেমে পড়ার পর একদিন গাড়ি ড্রাইভ করা অবস্থায় এফএম-এ এই গানটি শুনেছিলো। সেদিন থেকেই এই গানটি তার সবচেয়ে প্রিয়। প্রেমিকার নামে কোনো গান থাকলে প্রেমিক যে সে গানের ময়নাতদন্ত করবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। সকাল থেকেই বিরতিহীন এই গানটা-ই চলছে।

রূপকথা বাসার সামনে এসে দাঁড়ালো। সোনালী পাড়ের সবুজ রঙা জামদানি শাড়ি পরেছে। খোঁপা বেঁধে, সামনের চুলগুলো কপালে পেঁচিয়ে ডানপাশ দিয়ে ছেড়ে রেখেছে। দুই চোখে ঘন কালো কাজল, ঠোঁটে হালকা গোলাপি বর্ণের লিপস্টিক, শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে কানে সবুজ পাথরের দুল। সবমিলিয়ে যেন ডানাহীন অপ্সরী ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার সৌন্দর্যের আলোকছটা রাঙিয়ে দিয়েছে এই ভুবন।

“কোথায় তুমি?”, হাতব্যাগ থেকে ফোন বের করে শুভকে জিজ্ঞাসা করে রূপকথা।
– হে স্বর্গীয় অপ্সরী, আপনার ডানদিকে একটু নজর দিন। আপনার ভালোবাসার কাঙাল আপনারই পথ চেয়ে বসে আছে বহুকাল!
– ইশশশ, ঢং! এক ঘন্টা হয়নাই, আর বহুকাল! দেখেছি তোমাকে, দাঁড়াও আসছি।

গাড়ি থেকে নেমে, গাড়ির পেছন দিকটায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো শুভ। রূপকথার বাসা থেকে দশ মিটার দূরত্বে ফাঁকা জায়গায় গাড়ি পার্কিং করে রেখেছে সে। রূপকথা কাছে আসতেই শুভ তাকে টেনে নিয়ে গাড়ির সামনের দিকটায় এনে দাঁড় করালো। গাড়িতে কনুই ঠেকিয়ে গালে হাত রেখে বললো, “একটু চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকুন মহারাণী। আমি আপনাকে অপলক দৃষ্টিতে একটু দেখি!”
– ইশশশশ, আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবো না। চলো তো এবার। এদিকে কেউ দেখে ফেললে আবার কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
– কিসের কেলেঙ্কারি? আমার বউয়ের দিকে আমি তাকিয়ে থাকবো, যতো খুশি। এতে কার বাপের কি?
– এই, বউ কিন্তু এখনো হই নাই!
– এখনো হও নাই তো কি হয়েছে? ভবিষ্যতে তো হবা।
– আচ্ছা বাদ দাও এসব। চলো তো এবার। বিকেলের আগেই কিন্তু বাসায় ফিরতে হবে আমাকে।
– এখনো আসলে-ই না, আসার আগেই যাওয়ার কথা!

গাড়ির সামনে চালকের বিপরীত সিটের দরজা খুলে রূপকথাকে সিটে বসিয়ে, এবার রওনা হলো শুভ। ডিভিডি প্লেয়ারে এখনো ‘রূপকথা’ গানটি-ই বাজছে। শহরের দিকে যাচ্ছে তারা।

শহরের সবচেয়ে বড় ফুলের দোকানের সামনে গাড়ি থামালো শুভ। গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে দোকান থেকে একটা মস্ত বড় ফুলের তোরা হাতে করে নিয়ে এসেছে। লাল টুকটুকে তাজা গোলাপগুচ্ছ যেন চেয়ে আছে। রূপকথার ভীষণ পছন্দের ফুল গোলাপ। শুভ আগে থেকেই দোকানে এই ফুলের অর্ডার করে রেখেছিলো। “গাড়ি থেকে একটু নামবেন দয়া করে?”, শুভ বললো।

– এটা কি?
– কিছুই না, তোমার পছন্দের গোলাপ ফুল আর আমার পক্ষ থেকে ছোট্ট একটু ভালোবাসা।
বলেই শুভ তার ব্লেজারের পকেট থেকে একটা “ডায়মন্ড রিং” বের করে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়লো। ফুল আর আংটি দুইহাতে এগিয়ে দিয়ে বললো, “আমার সারাজীবনের সুখ-দুঃখের অংশীদার হবে?”

রূপকথা প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলো না। এবার সে শুভর দুই হাত আরেকটু প্রসারিত করে তাকে জড়িয়ে ধরলো। এবার শুভ-ও অনেকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। তারপর সে তার দুই হাতে রূপকথাকে শক্ত করে বুকের মধ্যে আলিঙ্গন করে নিলো। এটাই ছিলো তাদের প্রথম স্পর্শের অনুভূতি। শুভ রূপকথার ডান হাতের আঙ্গুলে আংটি-টা পরিয়ে দিলো। খোঁপার ভাঁজে এঁটে দিলো রজনীগন্ধার মালা।

“এবার তোমার গাড়ি রেখে চলো, আমরা একটা হুডতোলা রিকশায় ঘুরবো”, শুভকে বললো রূপকথা।
– সত্যি তুমি আমার সাথে রিকশায় ঘুরবে? আচ্ছা দাঁড়াও, আমি গাড়িটা পার্কিং করে নিই, তারপর আমরা একসঙ্গে রিকশা করে সারা শহর ঘুরে বেড়াবো।
– ঠিক আছে জনাব।

শুভ গাড়িটা পার্কিং করে একটা রিকশা ডেকে আনলো। দুজনে রিকশায় চড়ে বসলো। শুভ তার বাম হাতে আলিঙ্গন করে নিলো রূপকথার ডানহাতটাকে। রিকশা চলছে। শুভ বিমুগ্ধচিত্তে তাকিয়ে আছে রূপকথার দিকে।
“কি দেখো অমন করে?”, প্রশ্ন করে রূপকথা।
– তোমাকে।
– আমাকে দেখার কি আছে?
– আমি যদি পারতাম আমার এক জনম কাটিয়ে দিতাম শুধু তোমার পানে চেয়ে।
– হয়েছে থাক। আপনাকে এক জনম তাকিয়ে থাকা লাগবে না। আমার লজ্জা লাগে।
– শোনো, আমাদের যখন বিয়ে হয়ে যাবে, প্রতিদিন আমার ফ্রি সময়টাতে আমি শুধু তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবো আর জড়িয়ে ধরে রাখবো। তুমি কিন্তু কিছু বলতে পারবে না তখন।
– ইশশশ, আমার তো আর খেয়েদেয়ে কোনো কাজ নেই! আমি পারবো না।
– দেখা যাবে, বিয়েটা হোক আগে।

একটা বাক্সে বন্দী দুটি প্রাণোচ্ছল হৃদয় পরস্পরকে ভালোবাসা বিনিময়ে ব্যস্ত। রিকশাটা পথের ধার বেয়ে এগিয়ে চলেছে। কিছুদূর সামনে তিন রাস্তার বাঁক। রিকশাওয়ালার প্যাডেলে তিন রাস্তার বাঁক পেরিয়ে যখনই রিকশাটা সামনে অগ্রসর হবে, অপরদিক থেকে তেড়ে আসা নিয়ন্ত্রণহীন এক কাভার্ডভ্যান আচমকা রিকশাটাকে দুমড়েমুচড়ে দিলো। রিকশাওয়ালা তার জায়গা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেলো। পিচের রাস্তায় লাফিয়ে পড়ায় কয়েক জায়গায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। রূপকথা রিকশার বামদিকে পড়ে গিয়ে মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে। কয়েক মুহূর্তেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। আর কাভার্ডভ্যানের পেছনের চাকা দুটি শুভর ডান পায়ের পাতার উপর দিয়ে চলে গেছে। নিমিষেই তার পায়ের পাতা থেতলে গেছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে পুরো রাস্তা। আর রিকশাটা ভেঙে চুরমার। এরই মধ্যে শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। আশেপাশে যতো লোকজন ছিলো, সবাই বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে দৌড়াদৌড়ি শুরু করলো।

কিছুটা বোধশক্তি ফিরে পেয়ে শুভ উঠে দাঁড়ালো। দুই হাত দূরেই পড়ে আছে রূপকথা। আশেপাশে কোনো যাত্রীবাহী গাড়ি খুঁজে পাচ্ছে না শুভ। কিছুটা দূরে একজন বৃদ্ধ তার চার চাকার ভ্যানে বাদাম বিক্রি করছিলো। বৃষ্টি এসে পড়ায় পলিথিন দিয়ে সবকিছু ঢেকে নিয়েছে। খোঁড়াতে খোঁড়াতে শুভ গেলো তার কাছে। পকেট থেকে কয়েকটা হাজার টাকার নোট বৃদ্ধের হাতে গুঁজে দিয়ে ভ্যান ঠেলে নিয়ে এসেছে। ঐ রিকশাওয়ালার সহায়তায় রূপকথাকে ভ্যানে উঠিয়ে এবার ভ্যান ঠেলে তাকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। অপরদিকে তার শরীর থেকে যে ক্রমাগত রক্তপাত হচ্ছে, সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। একটা লম্বা সময় পর অবশেষে হাসপাতালের মেইন গেটে পৌঁছাতে পারলেও শুভ খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। মাটিতে পড়ে যায় সে। হাসপাতালের সিকিউরিটিরা ধরাধরি করে দুজনকেই হাসপাতালের ভিতর নিয়ে যায়।

ডাক্তার দুজনকে দুইটা আলাদা কক্ষের বেডে নিতে চাইলেও শুভর আপত্তিতে দু’জনকে একই কক্ষের পাশাপাশি দু’টো বেডে নেয়া হয়েছে। রূপকথার মাথা ফেঁটে গিয়ে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। জ্ঞান ফিরেনি এখনো। শরীরে রক্তের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দুই ব্যাগ রক্ত লাগবে। আর শুভর পায়ে ইতোমধ্যে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। কিন্তু যথাসম্ভব দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তার ডান পায়ের পাতা কেঁটে ফেলতে হবে। তার জন্যও দুই ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। কাকতালীয়ভাবে দু’জনের রক্তের গ্রুপ-ই এক, বি নেগেটিভ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করতে পেরেছে, আরও দুই ব্যাগ রক্তের দরকার।

ডাক্তার নিরুপায় হয়ে দু’জনকেই এক ব্যাগ করে রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। কিন্তু শুভ এতে ঘোর আপত্তি জানালো। রূপকথার জীবনের জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়, এমন কিছু সে করতে পারবে না। কোনোভাবে বুঝিয়েও তাকে পরাস্ত করা গেলো না। শেষ পর্যন্ত তার অটল সিদ্ধান্তে, রূপকথার শরীরে-ই রক্ত দেওয়া হলো।

ছয় ঘন্টা পেরিয়েছে। একটু-একটু করে চোখ খুলছে রূপকথা। জ্ঞান ফিরে পেয়ে উঠতে চাইলেও কোনোভাবে মাথা উঁচু করতে পারছে না। তার নড়াচড়া খেয়াল করে পাশে থাকা নার্স দ্রুত ডাক্তার ডেকে আনলো। ডাক্তার এসে সবকিছু চেক-আপ করে দেখলো আপাতত সবকিছু ঠিকঠাক। এক সপ্তাহ বিশ্রাম নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। রূপকথার বাবা-মাকে কক্ষে আসার অনুমতি দিয়ে ডাক্তার প্রস্থান করলো।

বাবা-মা কক্ষে প্রবেশ করতেই রূপকথা চিৎকার করে তাদের জিজ্ঞাসা করলো “শুভ কোথায়?”

বাবা-মায়ের নিরবতা তাকে আরও উত্তেজিত করে তুলে। চিৎকার করে শুভকে ডাকতে শুরু করে। পাশে থাকা নার্স শেষে তাকে জানায়, রক্তের অপ্রাপ্যতায় শুভকে তারা বাঁচাতে পারেনি। তাদের দু’জনের জন্য চার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন থাকলেও তারা কেবল দুই ব্যাগের যোগান দিতে পেরেছে, যা রূপকথার শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছে।

একথা শুনে রূপকথা সর্বশক্তিতে চিৎকার করে “শুভ” শব্দটি বলে আবারও জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আর তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে কয়েক ফোঁটা নোনাজল।

একটি চোখ কখনো আরেকটি চোখকে দেখতে পারে না। তারপরও বুকে কষ্ট হলে, দুটি চোখ দিয়েই জল গড়িয়ে পড়ে। কি আজব ব্যাপার।

হাসপাতাল থেকে অনেক দূরে কেউ প্রকান্ড শব্দে গান শুনছে। হাসপাতাল থেকে সে গান ক্ষীণ শব্দে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। আর্টসেল ব্যান্ডের “স্পর্শের অনুভূতি” গানের দুটো লাইন শোনা যাচ্ছে এখন,নীরব-নিথর অবয়বের শব্দ, অনেক প্রিয় মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার কষ্ট!চেনা তার সকল স্মৃতির ধারক হয়ে পাথর কোনো ঝড়ে একা রাতে বৃষ্টিভাঙা নিথর! গানের লাইনগুলোর সাথে সাথে তারাও নীরবে নিথর অবয়ব হয়ে পড়ে থাকে…….!!!!!!

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৯:০৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

অনুগল্পঃ মানুষ

১০ ডিসেম্বর ২০২০

এডুকেশন

২৩ ডিসেম্বর ২০২০

চারাগাছ

২৬ জানুয়ারি ২০২১

স্বর্গ থেকে বিদায়

০৯ ডিসেম্বর ২০২০

কারিগর

২৪ জানুয়ারি ২০২১

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

নিশি মানব

২৫ জুন ২০২১

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০

রূপকথা

২৬ এপ্রিল ২০২০