ঘোষণা

জাপানে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য দৌড়ঝাপ শুরু 

ওমর শাহ | রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 132 বার

জাপানে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য দৌড়ঝাপ শুরু 

জাপানের সফল প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে অনানুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। গত শুক্রবার দেশটির দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর এ পদের জন্য বেশ কয়েকজনের নাম স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।

২৮ আগস্ট (শুক্রবার) রাতে সংবাদ সম্মেলনে শিনজো আবে বলেছিলেন, তিনি আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগে ভুগছেন। একই কারণে তিনি প্রথম মেয়াদে ২০০৭ সালে নিজের প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়েছিলেন।

তবে তার উত্তরসূরি কে হবেন সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের পদে বহাল থাকবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। তবে কে তার উত্তরসূরি হওয়া উচিত তার নাম বলেননি তিনি।

শিনজো আবে একই সাথে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যানও। জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা  এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করার জন্য বেশ কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।

আবের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি দেশব্যাপী দলের অন্য  সদস্যদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী নেতৃত্বের নির্বাচনের পথ বেছে নিতে পারে দলটি।
তবে পরিস্থিতিটির বিবেচনা ও করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রতিবন্ধকতাগুলো দলটিকে কেবল তার সংসদ সদস্য ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের ভোট দেওয়ার বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে। কারণ এটি একটি দ্রুত প্রক্রিয়া।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য কীভাবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ও কখন হবে সে সম্পর্কে আরও স্পষ্ট হওয়ার  জন্য আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে স্থানীয় কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে জাপানের ক্ষমতাসীন দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের কয়েকজনের নাম গণমাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। কিশিদা শিনজো আবের ব্যক্তিগত উত্তরসূরি হিসাবে বিবেচিত হচ্ছেন। কারণ তিনি আবের খুব পছন্দের মানুষ।

এছাড়াও জাপানের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবারও ভোটাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে তবে দলীয় নীতি নির্ধারকরা অন্য কয়েকজন প্রার্থীর চেয়ে তাকে দলীয়ভাবে কম সমর্থন করছেন।

এদিকে জাপানের বর্তমান অর্থমন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো দীর্ঘদিন ধরে শিনজো আবের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তবে তিনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি আর প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য লড়বেন না।

সম্ভাব্য অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদ সুগাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে অনেকেই প্রথম সারিতে রাখছেন। বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারো কোনোর নামও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন একজন নারী সদস্য সিকো নোদা। এ পর্যন্ত নতুন প্রধানমন্ত্রীর পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র নারী সদস্য।
সিকো নোদা সাবেক মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী ছিলেন। তাকেও অনেকে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন। নারীর ক্ষমতায়ন শিনজো আবের নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। সেই নীতি বাস্তবায়ন করলে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী হলেও হতে পারেন। তবে তার জনপ্রিয়তা অনেকের তুলনায় কম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাপানে যে কেউ শীর্ষ পদে আসীন হতে পারে। নীতিমালায় কিছুটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।

টোকিওর মেইজি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক শিনিচি নিশিকাওয়া বলেন, “মূল নীতিগুলোর মধ্যে কূটনীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন করা হবে না। কার্যকরভাবে আবের উত্তরসূরি তত্ত্বাবধায়ক হতে পারেন। কেন না এলডিপি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আরেকটি নেতৃত্বের নির্বাচন করবে। এর পরের মাসেই জাপানের সাধারণ নির্বাচন হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির সম্মানিত অধ্যাপক, যোশিনোবু ইয়ামামোটো বলেন, আবের উত্তরসূরি কোনও বিস্ময়কর কিছু দিতে পারবে না, তবে করোনা মহামারির কারণে তাকে “বড় চ্যালেঞ্জ” মোকাবেলা করতে হবে।

চলমান করোনা ভাইরাস মহামারীটির প্রতিক্রিয়া কেমন হবে এটি হচ্ছে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এ পর্যন্ত করোনা মোকাবেলায় আবে সরকারের ধীর পদক্ষেপের জন্য সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে জাপানে। নতুন প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি কিভাবে সামাল দেবেন তা হচ্ছে বড় হিসেব করার বিষয় বলে মনে করেন এ বিশ্লেষক।

তবে চীনের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে নতুন প্রধানমন্ত্রীর। সম্পর্কের উষ্ণতা ছিল, তবে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ও হংকংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের কারণে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী একটি ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের মুখোমুখি হবেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

টোকিও অলিম্পিক-২০২০ এর অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে অফিস ছাড়তে চলেছেন জাপানের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও সফল প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। মহামারীর কারণে গেমস এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল এবং ২০২১ সালের জুলাইয়ে খোলার কথা রয়েছে, তবে ইভেন্টটি নিরাপদে অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী এমন একটি অর্থনীতির উত্তরাধিকারী হবেন যা করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় ডুবতে চলেছে দেশটি। আসন্ন শীতে আবার করোনার সংক্রমণ বাড়লে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান- অফিস-আদালত বন্ধ করে দিলে তা দেশটির অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত হানতে পারে। যা নতুন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

শিনজো আবের পদত্যাগের খবরে শুক্রবারই টোকিওর বাজারগুলোতে বাণিজ্য হ্রাস পায় তবে দিন শেষ হওয়ার আগে কিছুটা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনীতি নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকায় বাণিজ্য হ্রাস হবে না।

জাপানের সউমি ট্রাস্টের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ নওয়া ওশিকুবো মনে করেন, বর্তমানে জাপানে যে মুদ্রা নীতি রয়েছে তা নমনীয়। সম্প্রসারণমূলক আর্থিক নীতিগুলো করোনা মহামারীর সময়কালের জন্য  অব্যাহত থাকবে। এইভাবে মধ্য থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বাজারে প্রভাব সীমাবদ্ধ করা উচিত।
তথ্যসূত্র: জাপান টুডে

সম্পাদনা : পি আর প্ল্যাসিড

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১:১৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত