ঘোষণা

বার্ষিক ডলফিন শিকার শুরু করেছে জাপানিরা

ওমর শাহ | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 107 বার

বার্ষিক ডলফিন শিকার শুরু করেছে জাপানিরা

বার্ষিক ডলফিন শিকার শুরু করেছে জাপানিরা। দেশটির উপকূলীয় শহর তাইজিতে ১ লা সেপেম্বর থেকে ডলফিন শিকারে নেমেছেন জেলেরা।

বার্ষিক এই শিকারে অধিকাংশ ডলফিনকে হত্যা করা হয় মাংস সংগ্রহের জন্য। বাকিগুলো অ্যাকুরিয়াম ও বিভিন্ন মেরিন পার্কের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়।

গেল কয়েক দশক ধরে জাপানিরা ডলফিন শিকার চালিয়ে আসলেও ২০০৯ সালে অস্কার বিজয়ী দ্য কোভ নামের তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তা বৃহৎ পরিসরে জানতে পারে বিশ্ব।

পরিবেশবিদরা ডলফিন শিকারের সমালোচনা করলেও জাপানের জেলেদের দাবি এই ব্যবসার ওপরই নির্ভর করে তাদের জীবিকা।

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলবর্তী এবং প্রশান্ত মহাসাগরের তীরের আধা শহর তাইজিতে প্রতিবছর ১ লা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় তাইজি ডলফিন হান্টিং ড্রাইভ। আর এই হান্টিং উৎসব শেষ হয় পরের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিনে।

জাপান সরকার প্রতি বছর কম বেশি ২০০০ ডলফিন মারার অনুমতি দেয় তবে বেসরকারি হিসেবে ১০-১৫ হাজার ডলফিন মেরে ফেলা হয়। এছাড়াও মেরে ফেলা হয় আরও ২৫,০০০ অন্যান্য ছোট বড় সামুদ্রিক প্রাণী।

কেন মারা হয় ডলফিন!

ডলফিনের মাংস জাপানে একটি দুর্লভ ডেলিকেসি। ডলফিনের পাখনার স্যুপের দাম কয়েকশো থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন কন্টিনেন্টাল রেস্তোরাঁয় ডলফিনের পদের আকাশ ছোঁয়া দাম। চোরাপথে বিশ্বের নানা প্রান্তে তাই পাড়ি দেয় ক্যানবন্দি ডলফিনের মাংস।

এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা এবং আরব শেখদের মনোরঞ্জনের জন্য জীবিত ডলফিন ধরা হয়। জাপানের তাইজি থেকে ধরা ডলফিনের বড় ক্রেতা চীন, তাইওয়ান ও মিশর।

বাৎসরিক ডলফিন শিকার নাকি তাইজি গ্রামের অধিবাসীদের সারা বছরের রোজগার দেয়। সেই টাকায় চলে তাঁদের সংসার। তাই সারা পৃথিবীর সমালোচনা ও অভিশাপ উপেক্ষা করে জাপান সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ ও প্রশ্রয়ে সমুদ্রের পানি লাল করে, বুক ফুলিয়ে চলে ডলফিন শিকার।

ডলফিন শিকারের সময় যাতে শিকারীদের উপর কোনো ধরনের বাধা না আসে তাই জাপানের পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সুরক্ষা দেয়। শহরে অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা স্টেশনগুলোতে ২৪ ঘন্টা উপস্থিত থাকেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

তথ্যসূত্র: মাইনিসি নিউজ ও দ্য জাপান টাইমস

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত