ঘোষণা

নারীর আয়ে পিতা-মাতার অনধিকার

মজিবর রহমান | শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 103 বার

নারীর আয়ে পিতা-মাতার অনধিকার

এক প্রতিষ্ঠানে চাকরির সময় এক সহকর্মী নারীর বিয়ে ঠিকঠাক। মেয়েটি ভাল বেতন পায়, মাস্টার্স করা, দেখতেও সুন্দরী-দীর্ঘাঙ্গী। হাতে আংটি পড়ানোও শেষ। দিন তারিখ দিতে এসে ছেলের বাবা মেয়ের বাবাকে বললেন, ‘আগেই বলে রাখি- ‘বিয়ের পরে কিন্তু মেয়ে কোন টাকা আপনাদের দিতে পারবে না, সব টাকাই দিতে হবে ছেলের হাতে’। মেয়েটি বেঁকে বসলো! বিয়েও ভেঙ্গে গেল। দেশে ছেলেদের মধ্যে স্ত্রীর চাকরির টাকা তার নিজের অধিকার মনে করার একটা প্রবণতা রয়েছে। ছেলের মতো মেয়েকেও যে পিতা-মাতা লালন-পালন করেছেন, শিক্ষিত করতে অর্থ ব্যয় করেছেন সে হিসাবটা করতে চায় না তারা। মেয়েরও যে নিজের মা-বাবা, ভাই-বোনের জন্য ব্যয় করাটা কর্তব্য সেটা মেনে নিতে পারেন না। এমন ভাবাদর্শের কারণে পিতা-মাতার মধ্যেও একটা ধারণা জন্মে যে, মেয়েকে পড়া-শোনা করালে বা তার পেছনে ব্যয় করতে সে পরিবারের জন্য কিছু করতে পারবে না।
এক্ষেত্রে শাশুড়ীগণ একধাপ এগিয়ে থাকেন। তিনি নারী হলেও পুত্রবধূর আয়টায় যে পুত্রবধূর পিতা-মাতা বা ভাই-বোনেরও অধিকার রয়েছে সেটা মেনে নিতে আরো কম পারেন। তিনি পুত্রবধূকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তার পিতার বাড়ির সাথে সম্পর্ক কম রাখতে আরো বড় ভূমিকা রাখেন। সাম্প্রতিক এক উচ্চ পদে চাকরি করা নারীর কাছ থেকে জানলাম, পিতার বাড়ীর সাথে সম্পর্ক না রাখা এবং শাশুড়ীর পদানত থাকার জন্য তিনি পুত্রবধূকে পানির সাথে মিসিয়ে পীরের পড়া ওষুধ খাইয়েছেন। একদিন খাওয়ার পরে তিনি বুঝতে পারেন। আমার কাছে জানতে চান এটাতে বিষাক্ত কিছু আছে কিনা তা কোথায় পরীক্ষা করবো? পরীক্ষার জায়গাতো সাইন্সল্যাবরেটরী। পরীক্ষা করতে বেশ টাকাও লাগে। তাছাড়া পানিতে কি মেশানো তাতো বলে পরীক্ষা করাতে হবে। শিসা থাকতে পারে, পারদ থাকতে পারে অথবা কেবলই রঙিন কাগজে মোড়ানো তাবিজ ভেজানোর কারণেও পানির রঙ বদলাতে পারে। শেষ পর্যন্ত ওনি পরীক্ষা না করিয়ে বাড়িতে খাওয়াই বন্ধ করে দেন। যদিও আমি বলেছিলাম, পীর/হুজুর/ফকিরের পানি পড়া খেলে লাভ/ক্ষতি নাই। শুধু মুখের জীবাণু পানির সাথে মিশে ক্ষতি করতে পারে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী তার আয়ের টাকা পিতা-মাতাকে দিতে চায়, কাছে এনে সেবাযত্ন করতে চায় কিন্তু স্বামী ও তার পরিবারের কারণে পারে না। নারীর পিতা-মাতাও মনে করে এতে মেয়ে সংসারে অশান্তি আসতে পারে তাই তারাও মেয়ের কাছে এসে স্থায়ীভাবে থাকতে চায় না। অথচ শহরে বসবাস করার সময় সাধারণত ছেলেরাই তার পিতা-মাতাকে বাড়িতে এনে রাখে, সেবাযত্ন করে। পুত্রবধূকেও শ্বশুর-শাশুড়ীর সেবাযত্ন করতে হয়। কিন্তু নিজ মায়ের সেবাযত্ন করতে পারেন না। আবার যখন নিজে অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন ঠিকই নিজের মাকেই আনতে হয়, তখন আর শাশুড়ী আসে না পুত্রবধূর সেবার জন্য।
নারী সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য এমন হাজারটা ত্যাগ স্বীকার করে। অত্যাচারের সীমা ছাড়িয়ে গেলেই তারা ডিভোর্সের পথে হাঁটে। পুরুষ সাধারণত ডিভোর্সের পথে না হেঁটে নির্যাতনের পথেই হাঁটে। তাদের গায়ে শক্তি বেশি ও সংসারে মেয়েটি একটা থাকলেও স্বামীর পরিবারের অনেকেই থাকে। ফলে অত্যাচার হয় এক তরফা। তাই ডিভোর্স দিয়েই মুক্তি পেতে চায়। ফলে দেখা যায় শহরগুলোতে বেশি ডিভোর্স দিচ্ছে নারীরাই। অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য এটা খারাপ পথ নয় অন্তত যারা নিজেরা আয় করেন তাদের জন্য।
————————-

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১০:১১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কৃষ্ণচূড়া বিহীন চার বসন্ত

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১