ঘোষণা

চাই স্বাস্থ্যখাতে গণসেবা ও পরিষেবার নিশ্চয়তা

সাইফুর রহমান কায়েস | মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 244 বার

চাই স্বাস্থ্যখাতে গণসেবা ও পরিষেবার নিশ্চয়তা

দেশে আজকাল ভুল চিকিৎসা ও ভূয়া চিকিৎসকের ছড়াছড়ির পাশাপাশি অনুমোদনবিহীন, মানহীন হাসপাতালে ছেয়ে গেছে। যার ফলে জনজীবন ও স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে। ভুল চিকিৎসার জন্য প্রায়ই রোগীর প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষ করে প্রসূতিগণ মারাত্মক স্বাস্থ্য ও জীবন নিয়ে ঝুকিতে থাকায় সন্তান প্রসবের জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। আর তারা মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মুনাফাখুরিতে মেতে উঠেন। যার ফলে তারা ত্রাতা থেকে হন্তারক, প্রতারক এবং অর্থগৃধনু হয়ে উঠেন। একই ডাক্তার যখন তার সরকারী চেম্বারে বসে রোগী দেখেন তখন একরকম সেবার মানসিকতা লালন করেন। আর যখন ব্যক্তিগত চেম্বারে বসে রোগী দেখেন তখন আরেক রকম মানসিকতার পরিচয় দেন। একই ডাক্তার, একই রোগী কিন্তু স্থানভেদে এদের আচরণের রকমফের হয় রাত আর দিন। সরকারী চেম্বারে বসে তারা সরকারী হাসপাতালে সেবা দিতে অনাগ্রহ দেখান। তারা প্রাইভেট ক্লিনিকগুলিতে রোগীদের সেবা নিতে উৎসাহিত করে থাকেন। আমার নিজের একটা অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমার প্রথম সন্তান যখন তার মায়ের গর্ভে তখন একজন গাইনী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হয়েছিলো। তখন তিনি সন্তান প্রসবের আগে তার মাকে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করতে বলেন। আমি তাকে বলেছিলাম সরকারী হাসপাতালে নয় কেনো? তিনি রেগে গিয়ে বলেছিলেন তাহলে আপনি আমার কাছে এসেছেন কেনো? আমি তো পুরাই ঠাসকি খেয়ে গেলাম।
আবার আমি যখন দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে সিওমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি তখন আমার হাতেপায়ে প্লাষ্টার করেছে ডাক্তারের নির্দেশে ওয়ার্ডবয়। ইচ্ছে করেই ভুলভাবে হাত কিছুটা বাকা করে আস্তর করে দিলো। কিছুদিন পর যখন ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বারে গেলাম তখন তিনি নিজেই সব করলেন। আমার চাচা রসিকতা করে বলেছিলেন, টাকার কারণেই ভালো সেবা নিতে পেরেছো। সরকারী হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার অধিকার খর্ব করার জন্যই প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো চুটিয়ে ব্যবসা করছে। অথচ তাদের মানসম্পন্ন নিজস্ব চিকিৎসক নাই। সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকগণ বর্গা খাটেন সেখানে। অনেকাংশে দেখা যায় চিকিৎসকদের মধ্যে বেশিরভাগই ক্লিনিক বা প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক। ফলে তাদের মধ্যে নেমকাহারামীর প্রবণতারই প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই।
ভূইফোড় হাসপাতালগুলোর মধ্যে অধিকাংশেরই নাই সরকারী অনুমোদন, প্রশিক্ষিত সেবিকা, উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত যোগ্যতাসম্পন্ন নিজস্ব ডাক্তার। ফলে অধিক টাকা ব্যয় করেও উন্নত সেবা প্রাপ্তির অধিকার থেকে তারা দিনের পর দিন বঞ্চিত হচ্ছেন। শোকের মিছিল কেবল দীর্ঘতর হচ্ছে। বাড়ছে জনগণের দীর্ঘশ্বাস। যেটি অনভিপ্রেত, অযাচিত, অনাকাঙ্ক্ষিত।
সরকারী অনুমোদনবিহীন হাসপাতাল, অনুন্নত স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এমন হাসপাতাল, ভালো এবং নিজস্ব ডাক্তার নাই এমন হাসপাতালগুলো সীলগালা করে দেয়া হোক। রোগীর মৃত্যুর জন্য তাদের দায়ী করে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হোক। যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা হাসপাতালের আড়ে নিরাপদ মৃত্যুপুরীগুলো চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হোক। সরকারী হাসপাতালগুলোকে কার্যত কার্যকর স্বাস্থ্যসেবার পীঠস্থান হিসাবে গড়ে তোলা হোক। মানুষের স্বাস্থসেবা ও পরিষেবার দুর্ভোগ লাঘবে সরকার উদ্যোগী ভূমিকা পালন করুক। সিটিজেন চার্টারের শতভাগ বাস্তবায়ন হোক।

সাইফুর রহমান কায়েস; তিনি একজন নিয়মিত লেখক।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৪:২০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত