ঘোষণা

হিরোশিমা দিবস নিয়ে আমার কিছু কথা

পি আর প্ল্যাসিড | শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১ | পড়া হয়েছে 102 বার

হিরোশিমা দিবস নিয়ে আমার কিছু কথা
আজ ৬ আগষ্ট।
আজ হতে ৭৫ বছর আগে ১৯৪৫ সালের ঠিক আজকের দিনে জাপান সময় সকাল ঠিক ৮:১৫ মিনিটের সময় সংগঠিত হয়েছিল পৃথিবীর এক ন্যাক্কার জনক ঘটনা। এসময় পৃথিবীতে চলছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এদিনে জাপানের হিরোশিমা শহরে পৃথিবীতে প্রথম পারমানবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল আমেরিকার বিমান বাহিনীর কয়েকজন সদস্য।
তারা জাপানের উদ্দেশ্যে আমেরিকা থেকে উড়ে আসার আগে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে যাত্রা শুরু করেছিল। এই প্রার্থনা করা নিয়ে এখানে আমার ছোট একটি প্রশ্ন বরাবর তাড়িত করে, ঈশ্বর বা গড আসলে কাদের কোন কাজের নিরাপত্তা বিধান করে? যাক, সেই প্রশ্ন পাশ কাটিয়ে বলতে চাই, সেদিনের সেই বোমা বিস্ফোরণ কেবল হিরোশিমার উপর ঘটানো হয়নি, ঘটানো হয়েছিল পৃথিবীর মানবতার উপর। যার ধারাবাহিকতা আমরা এখনো দেখছি পৃথিবীতে।
সেদিন কেনো এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল তার আগে পরের কোনো ঘটনার কথা ইতিহাসে থাকলেও আমরা কমই জানি। প্রচার হয়েছে কম যা এখন জাপান এবং আমেরিকা দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে সুসম্পর্কের কারণে আলোচিত হতে শুরু করেছে। প্রকাশিত হচ্ছে সেই দিনের সেই ইতিহাস ঘটানোর পিছনের ঘটনার কথা।
এই বিস্ফোরণ নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করলে মনে হয় থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। তার পরেও অতীত ইতিহাস আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে বিষয় সে বিষয় নিয়েই পড়ে থাকি। কারণ আমাদের কথা বলার মতো যে পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত নেই। সেকারণেই আমরা সমবেদনা জানাই এই হিরোশিমাতে বিস্ফোরণ ঘটানোর পর ধ্বংস এবং হতাহতের কারণে। যা ঘটে গেছে তা আর ফিরে আসবে না। তবুও বলতে চাই, সেই ঘটনার আর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটুক।
ব্যক্তিগত ভাবে যদি বলি, আমি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছি, যুদ্ধের সময় নির্যাতন দেখেছি। বিস্ফোরণ দেখছি। দেখেছি যুদ্ধের ভয়াবহতা। আর এই কারণেই হিরোশিমা বাসীদের সেই সময়কার কষ্ট অনুধাবন করতে পারি। সবকিছুর পরেও বলতে চাই, পৃথিবীর বুকে “আর নয় হিরোশিমা, আর নয় যুদ্ধ, আমি চাই শান্তি”। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবই যে এখন অরণ্যের রোদন হয়ে আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়ায়। যারা অস্ত্র বানায়, যারা অস্ত্র বিক্রি করে আর যারা এই অস্ত্র কেনা বেচা করে বা ব্যবহার করে তারা সকলেই মানুষ অথচ মানুষের কথা ভাবে না তাদের কেউ-ই। সত্যিকার ভাবে, মানবিক কারণে তা ভাবলে পৃথিবীতে এতো সব আর অস্ত্র বানাতো না বা ব্যবহার করা হতো না।
একদিকে পৃথিবীর মানুষ হত্যা করছে নির্বিচারে অপর দিকে শান্তি কামনা করছে। আরো আশ্চর্যে বিষয় এই যে, ঈশ্বরের কাছে অনেকেই আবার অগাধ বিশ্বাস নিয়ে অস্ত্রবাজদের শাস্তি দাবী করছে নিরীহ মানুষ। লেখার শুরুর সাথে আমার এখানেই বোঝার দ্বন্দ, ঈশ্বর আসলে কার, সেটাই বুঝতে পারি না।
সৃষ্টিকর্তার এমন বৈষম্য পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গীর সমাপ্তী কি এই আলোক বর্ষে শেষ হবে? সৃষ্টির আগে পরের বিষয় এবং বর্তমান নিয়ে অনেক প্রশ্নই মনে জাগে যার উত্তর কোথাও মিলে না। কেউ জানলেও অন্যদের জানায় না নিজেদের স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটতে পারে মনে করে। এমনটা মনে হয় আজীবনই থাকবে হয়তো।
আমার মতো নগন্য একজনের মনের আবেদন, হিরোশিমার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর কোথাও না ঘটে।
আমার প্রত্যাশা একটাই, চাই শান্ত পৃথিবী, চাই শান্তি এই পৃথিবীবাসীর  জন্য। তাই আপনার আমার সকলের দাবী হোক একটাই, নো মোর হিরোশিমা, নো মোর ওয়ার, উই নিড পিস।
পি আর প্ল্যাসিড 
জাপান প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক। 
Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জুতার দাম ১০ লাখ ডলার!

০৯ ডিসেম্বর ২০২০