ঘোষণা

পদ্মাসেতুর খাম্বায় ধাক্কাধাক্কি, পিছনে কারণ কী

মো এখলাস উর রহমান | রবিবার, ২২ আগস্ট ২০২১ | পড়া হয়েছে 152 বার

পদ্মাসেতুর খাম্বায় ধাক্কাধাক্কি, পিছনে কারণ কী
ইদানিং সময়ে করোনার মহামারীর মধ্যে “ঘরে থাকি নিরাপদে থাকি” এ নীতি মেনে ঘরেই থাকা হয় বেশির ভাগ সময়। এ অফুরন্ত সময়টাতে সঙ্গী হিসেবে বেশির ভাগ সময়েই থাকে কোন না কোন বই অথবা পত্রিকা, কিছু সময় দেখি হাসির কার্টুন গোপাল ভাড়। এ কার্টুন টা দেখি আর মনের চোখে ভেসে উঠে দেশের কিছু ক্ষমতাধর লোকের চেহারা। এ লোকগুলোর চরিত্র যেন হুবুহু গোপাল ভাড় কার্টুনের মন্ত্রীর চরিত্রের সাথে মিলে যায়। এ ধরুন বাংলাদেশের উন্নয়নের মাইল ফলক দক্ষিন বঙ্গের সর্ব সাধারনের স্বপ্নের প্রকল্প হলো দেশের সর্ব বৃহত্তম পদ্মা সেতু। নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এ সেতু এখন স্বপ্ন নয় প্রায় সম্পূর্ন হওয়ার দোর গোড়ায়।
বেশ কয়েক বছর পূর্বে থেকেই ঢাকা টু মাওয়া রোডের বিভিন্ন স্থানের ফেরিগুলো অপসারন করে ব্রিজ নির্মাণ করার ফলে এ রোডটি দক্ষিণ বঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যমে পরিনত হয়।একসময় এ রুটের ফেরিঘাট গুলোকে কেন্দ্র করে বহুমানুষের জীবিকা নির্বাহ হতো, সেই সাথে আখের গোছাত কিছু অসাধু কর্মকর্তা।ঢাকা টু মাওয়া পর্যন্ত রাস্তায় ব্রিজ গুলো হয়ে যাওয়াতে বেশ কিছু লোক তাদের কর্ম জীবনের পরিবর্তন ঘটায় এবং বেশির ভাগ লোক জড়ো হয় মাওয়া ঘাটে। বিস্তার ঘটায় নানা রকম ব্যবসা বানিজ্য এবং ঘাট কেন্দ্রিক নানা বানিজ্য। এ জায়গা থেকে টাকা কামিয়ে অনেকেই হয়ে যান আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ।
এ স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্প যখন থেকে হাতে নেয়া হয়, তখন থেকে অসাধু চক্রের তৎপরতা পদ্মার দুই পাড়েই বেড়ে যায় বহুগুন। এই যেমন ধরুন জমি অধিগ্রহণ। অধিগ্রহন করতে গিয়ে খালি জমিতে রাতারাতি টিন কাঠ দিয়ে বাড়ি করে কলা গাছ লাগিয়ে বাগান বাড়ি হিসেবে অতিরিক্ত দামে অধিগ্রহণ। আবার জমির টাকা পরিশোধের চেক তুলতে ১০% হারে ঘুষ গ্রহন। এ ঘুষ দেয়া নেয়াটা হয়ে গিয়েছিল একটা অপেন বিষয়। এটা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরলেও কোন লাভ হতো না, চেক পেত না কেউ।
এবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে,খরস্রোতা পদ্মা নদীতে স্ব-গৌরভে পদ্মা সেতুর পিলার গুলো একের পর এক মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। গত প্রায় এক দুই বছর আগে থেকেই। এর মাঝে ও বর্ষা ঋতুতে বর্ষা হয়েছে, বয়ে গিয়েছে প্রচুর স্রোত এবং এর মাঝ দিয়েই বহু পুরাতন ডাম্প ফেরি নির্বিঘ্নে চলাচল করেছে। কখনোই এ ফেরি গুলোর মনে এ আকাঙ্খা তৈরি হয়নি যে আমাদের যাত্রা পথে এ সকল পিলার গুলো দাঁড়িয়ে আছে তাদের সাথে একটু মোলাকাত করে আসি, বুকে বুক মিলিয়ে চৌচির হয়ে আসি।
গত কিছুদিন হলো যখন থেকে এ সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন থেকেই কিছু অসাধু চক্রের মাথায় এসেছে, এ রুট থেকে মেরে খাওয়ার রাস্তা  প্রায় বন্ধ। তখন থেকেই হয়ত উছিলা তৈরি করার জন্য একের পর এক ফেরি দিয়ে ধাক্কা মারা হচ্ছে এ স্বপ্নের সেতুর পায়ে। যাতে করে শেষ বারের মত ফেরিঘাট স্থানান্তর করার নাম করে  কয়েকশত কোটি টাকা বগলদাবা করে নিতে পারেন। এ কাজের খেশারত হিসেবে এখন পর্যন্ত আট জন ফেরি চালক বরখাস্ত হয়েছেন। দেশ মাতাকে যে সকল প্রিয় সৎ লিডারগণ ভালোবাসেন তারা দায়ীত্ব নিয়ে ক্ষতিয়ে দেখতে পারেন , কারা এসব ঘাট স্থানান্তর করতে চায় শেষ মুহূর্তে আসে!  তাদেরকে ধরুন। বের হয়ে যাবে ধাক্কাধাক্কির আসল ইতিহাস।
উন্নতির শিখরে উঠুক দেশ, ভাল থাকুক দেশের মা মাটি এবং মানুষ।
এটাই একজন প্রবাসি হিসেবে অবসরের অবজারভেশন।
মো এখলাস উর রহমান
জাপান প্রবাসী, ইঞ্জিনিয়ার
Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২২ আগস্ট ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জুতার দাম ১০ লাখ ডলার!

০৯ ডিসেম্বর ২০২০