ঘোষণা

পানিতে লবনাক্ততা হুমকিতে সুন্দরবন ও উপকুলীয় জীব বৈচিত্র

আলম শামস | শনিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২১ | পড়া হয়েছে 76 বার

পানিতে লবনাক্ততা হুমকিতে সুন্দরবন ও উপকুলীয় জীব বৈচিত্র

বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনে বিরুপ প্রভাবে সমূদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ও পানিতে লবনাক্ততার পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবন উপকুলীয় জীববৈচিত্র হুমকির মুখে। দিনের পর দিন বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পানিতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্রমশ সংকীর্ণ হচ্ছে দেশের মোট
আয়তনের ৪.২ শতাংশ বনাঞ্চল। ফলে অবস্থার উন্নতি না হলে আগামী ২১০০ সালের মধ্যে সমগ্র সুন্দরবন অঞ্চালের শত ভাগ তলিয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। সমগ্র সুন্দরবনের ৫৫ শতাংশ বাংলাদেশ বাদ বাকি ৪৫ শতাংশ ভারতে বিস্তৃত। জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রের পানিতে মাত্রারিক্ত ভাবে লবনাক্ততার পরিমান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুমুদ্রের তলদেশের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দেড় দশকে সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যে ১/২ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সুত্রে জানা গেছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন সমীক্ষার এক রিপোর্ট সুত্রে জনা যায়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে সমগ্র বনাঞ্চলের ১৫ শতাংশ তলিয়ে যাবে। জাতিসংঘের এক গবেষনা রিপোর্টে জানা যায়, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১০ সে.মি. বৃদ্ধি পেলে সুন্দরবনে ১৫ শতাংশ, ২৫ সে.মি বৃদ্ধি পেলে ৪০ শতাংশ, ৪৫ সে.মি. বৃদ্ধি পেলে ৭৫ শতাংশ এবং ৬০ সে.মি. বৃদ্ধি পেলে সমগ্র সুন্দরবন পানিতে ডুবে যাবে। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সাগর বক্ষে জেগে ওঠা নয়নাভিরাম তালপট্টি ইতিমধ্যে সাগর বক্ষে তলিয়ে গেছে। তাছাড়া গহীন সুন্দরবনে পশ্চিম বন বিভাগের মান্দার বাড়িয়া কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। সুন্দরবনের ভেতরে ছোট ছোট নদী খাল গুলিতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ কমে গেছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে বিচিত্র প্রাণী জগতের বিচরণ ক্ষেত্র। ১৯২৭ সালে বন আইনে বনজ সম্পদ আহরণের দিক নির্দেশনা থাকলেও অন্যান্য জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ১৯৫৫ সালে নতুন নীতিমালা ঘোষিত হয়ে পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে পূনরায় সংশোধিত হয়। কিন্তুএ দুটি নীতি মালায়বনজ সম্পদ রক্ষায় স্পষ্ট ভাবে কিছুই বলা হয়নি। সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে বননীতি মালাও ছিল অস্পষ্ট। পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে বন আইনে নীতিমালা সংশোধিত হলেও তা বনজ সম্পদ রক্ষা,আহরণ ও জলবায়ু পরিবর্তনে বিরুপ প্রভাবে ধারণাও ছিল অপর্যাপ্ত। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায় প্রতিনিয়িত পোড়ানো হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বলানী। বৃদ্ধি পাচ্ছে মাত্রারিক্ত কার্বন।বৃদ্ধি পাচ্ছে তাপমাত্রা বৈশ্বিক উষ্ণতা। মনুষ্য সৃষ্ট এসব কর্মকান্ডে দিন দিন ফুসে উঠছে সমুদ্র। আঘাত হানছে সামুদ্রিক ঝড়, পরিবর্তন হচ্ছে জলবায়ু। এ জলবায়ু পরিবর্তনে চরম ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। ঝুঁকিতে আছে এ অঞ্চলের ১০লক্ষাধিক মানুষ। কার্বন নিঃসরনে বাংলাদেশের ভুমিকা (গ্রীন হাউস) মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ। কার্বন নিঃসরণে আমরা পিছিয়ে থাকলেও ঝুঁকিতে আমরা এগিয়ে আছি। সুত্রমতে ২১০০ সাল নাগাত সমূদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বৃদ্ধি পাবে। তখন লবনাক্ত
পানিতে তলিয়ে যাবে সমুদ্র উপকুলীয় অঞ্চল। ঘরবাড়ি ছাড়া হবে বাংলাদেশের ১০ লক্ষাধিক মানুষ। আবহাওয়া বিজ্ঞানী ড. আতিক রহমান বলেন, সুমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বাড়ার কারণে ২০৫০ সাল নাগাত বাংলাদেশের উপকুলীয় এলাকার ১৭ শতাংশ জমি তলিয়ে যাবে। বাস্তহারা হবে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। পৃথিবী শ্রেষ্ট ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের সাথে জড়িয়ে আছে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল সহ সমগ্র দেশের অস্তিস্ব, পরিবেশ ও প্রতিবেশ। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা
সুন্দরবনের ওপর কম-বেশি নির্ভরশীল। ভবিষ্যত প্রজন্মকে একটি সু¯’পরিবেশ সম্পন্ন দেশ উপহার দিতে এবং সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন, বনজ ও মৎস্য সম্পদের মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের পথ সুগম করতে মায়ের মতোসুন্দরবনকে বাচিয়ে রাখা অতি জরুরী।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ২:০৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জুতার দাম ১০ লাখ ডলার!

০৯ ডিসেম্বর ২০২০