ঘোষণা

পর্তুগালে পর্যটকশূন্য সংকটের মুখে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

মো. রাসেল আহম্মেদ, লিবসন ,পর্তুগাল। | শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১ | পড়া হয়েছে 146 বার

পর্তুগালে পর্যটকশূন্য সংকটের মুখে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

বৈশ্বিয় করোনা মহামারির প্রভাবে পর্যটন নির্ভর পর্তুগালে অর্থনীতি বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপরও।দেশটিতে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসীর ৯০ ভাগই পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় যুক্ত।পর্যটকশূন্য পর্তুগালে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে সুভেনির ব্যবসায়ীরা বড় লোকসানে এখন বিপর্যস্ত।

গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুতে পর্তুগিজ সরকার ১৮মার্চ থেকে প্রথম লকডাউন ঘোষণা করে। বন্ধ হয়ে যায় পর্যটন সহ বেশির ভাগ ব্যবসা – বানিজ্য।২ মে থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করা হলেও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, স্হানীয় ভাবে বিভিন্ন বিধিনিষেধের ফলে অনেকেই আর প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেনি। যারা খুলেছিলেন আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে এক পর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

গত ১ মে থেকে লকডাউন শিথিলে স্বাভাবিক জীবন শুরু হলেও আবার কবে সব কিছু আগের অবস্থায় ফিরবে তা কেউ বলতে পারছেন না।

বাংলাদেশ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও পর্তুগাল বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি রানা তাসলিম উদ্দিন বলেন, ‘ দীর্ঘ ১৩ মাসের টানা জরুরি অবস্থা ও লকডাউনে বাংলাদেশি কমিউনিটি ব্যবসা – বানিজ্য ও পেশাগত ভাবে বিপুল ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন। চাকরীজীবীদের অনেকে বেতন বা লে অফ পেয়ে টিকে থাকতে পারলেও ব্যবসায়ীরা লোকসানে একেবারে বিধ্বস্ত। কারণ একে তো পর্যটন শূণ্য তার উপর অনেক বাড়ির মালিক দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়া কমায়নি,।

বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক পর্যটন নগরী পোর্তোতে প্রায় ২০০ সুভেনিয় শপের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা টিকে থাকার জন্য লড়াই করছেন।
পোর্তোতে ৫ বছর ধরে সুভেনির ব্যবসায় যুক্ত বাংলাদেশি জাফরুল হাসান বলেন, ‘ এত খারাপ অবস্হায় কখনো পড়তে হয়নি। তিন মাস পরে দোকান খুললেও তেমন কোন ক্রেতা পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে বছর শেষে ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হব ‘।

করোনা কালে বাংলাদেশি খাবারের রেস্তোরাগুলো কঠিন সময় পার করছে। একেক সময় একেক নিয়মের বেড়াজালে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ধস নেমেছে। শুধু হোম ডেলিভারি নির্ভর ব্যবসা করে অনেক প্রতিষ্ঠানের খরচ জোগাড় করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। কিছু রেস্টুরেন্ট এই সময়ে বন্ধ থাকলেও বেশিরভাগ চলেছে লোকসান বা সমান খরচে। গত ১৯ এপ্রিল থেকে রেস্টুরেন্টের উপর থেকে কিছুটা বিধি নিষেধ শিথিল করায় আবার চাঙ্গা হতে শুরু করে এই ব্যবসা।

২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বেকার আছেন পর্যটন শিল্পের কর্মীদের বড় একটা অংশ। ওই বছরের গ্রীষ্ম শেষ হলে পর্যটন শিল্প, আবাসিক হোটেল বা রেস্টুরেন্টের নিয়োজিত বাংলাদেশি সহ অনেক অভিবাসী পরবর্তী বছরের মার্চ – এপ্রিলে আবারও কাজে যোগ দেওয়ার অপেক্ষা ছিলেন। কিন্তু মার্চ থেকে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়া তাদের আর চাকরিতে ফেরা হয়নি।

পরিস্হিতি স্বাভাবিক হওয়ায় গত ১ মে থেকে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন অনেকটাই শিথিল করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে পর্তুগাল। অফিস – আদালত, কাজ কর্ম, ব্যবসা বানিজ্য শুরু হয়েছে। খুলছে স্পেনের সঙ্গে বন্ধ থাকা সীমান্ত ও অনেক দেশের বিমান যোগাযোগ। উন্মুক্ত হয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো।
কমিউনিটি সংগঠকরা প্রত্যাশা করেছেন করোনা আবার যদি আঘাত না করে তাহলে জুনের মধ্যে ব্যবসা বানিজ্যে প্রাণ ফিরতে শুরু করবে।

সম্পাদনা করেছেন, রীতা আক্তার।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ad