ঘোষণা

ডক্টর সেলিম জাহান, কাজের হৃদয় এবং তার হৃদয়ের কাজ

সাইফুর রহমান কায়েস | বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০২১ | পড়া হয়েছে 30 বার

ডক্টর সেলিম জাহান, কাজের হৃদয় এবং তার হৃদয়ের কাজ

 

ডক্টর সেলিম জাহান এক জীবনে দেশের জন্য যা করেছেন তা ক’জনেরই বা করার ভাগ্যে জুটে । মানব উন্নয়নের হৃদয় হতে পারা কম নয় বরং অনেক বড় অর্জন । অবসর জীবনে গদ্য রচনা করে তো হৈ চৈ ফেলে দিলেন । কি করছেন না বলে বরং আমরা বলতে পারি কি করেন নি । এক পরিপূর্ণ জীবন আপনার । গদ্যসাহিত্য নিয়ে আপনার নানান বীক্ষণ ও দৃক্ষণ আমাদের চোখের ফাঁক গলে যেতে পারে নি । আমাদের দৃক আটকে আছে আপনার সৃষ্টিকুশলী ও সৃজন প্রকৌশলের মধ্যে । যেখানে শুধু আপনারই নয় , আমাদেরও মুগ্ধতা কাজ এবং বিরাজ করে । লেখার শক্তি আপনাকে দংযুক্ত করতে পেরেছে প্রজন্মান্তর । আমরা ধরে নিয়েছি আপনি এতোদিন যা কিছু করেছেন সেটি আজকের দিনের জন্য প্রস্তুতি পর্ব ছিলো । আর এখন যেটি করছেন সেটিই প্রকৃত কাজ ।
আপনার লেখার ভেতরে, বলার ভেতরে এক ,অনন্য জীবনবোধ নিহিত আছে । বাকশৈলী ,বাকশক্তির অভিনবত্ব আছে । নিজেকে খুঁজে পাবার আনন্দ আছে । দেকার্তের মতো অণ্বেষার তাড়না আছে । আত্মপীড়ন আছেন তবে উৎপীড়ন নেই । প্রচলিত অর্থে যে সুখ আমরা যাপন করি আপনি সে পথে নেই । আপনার সুখ যে যাপন নয় , উদযাপনেরও বিষয় আশয় সেটি আপনার চিন্তার বৈচিত্র‍ের মধ্যেই আমরা দেখতে পাই । সৃষ্টিসুখ আপনাকে তন্ময়াচ্ছন্ন করে রাখে । যেখানে যুক্তবাদ ও যুক্তিবাদীতার অবাধলভ্য বিচরণ রয়েছে । ভাবালুতা থাকলেও তা পরিমিতিবোধ এবং শৃঙ্খলিত । তবে নিয়মের ফেরে তা বন্দি নয় । খোলা আকাশ দেখার হাতছানি আছে । কাজের আখ্যায়ক একজন পরিপূর্ণ মানুষকে দেখি । একজন মানবিক মানুষকে দেখি । একজন বিশ্বচারণকে দেখি যিনি তার অর্জিত অভিজ্ঞতাবাদ নানান মানুষের , নানান মেজাজ ,রুচি ও রুচিবৈপরীত্বকে তুলে আনেন তার গদ্যে । তার গদ্যের বুনন কৌশলের ভেতরে থাকে কথার স্রোতস্বিনী । যুক্তি ,পাল্টাযুক্তিতে পাঠককে আরো অনুসন্ধিৎসু হতে উদ্দীপিত করেন । ফলে পাঠককে ডুবে যেতেই হয় । পাঠতৃষ্ণায় তাড়িত হতেই হয় । তার জীবনাভিজ্ঞানে আমরা বৈকুণ্ঠধাম পরিভ্রমণ করতে থাকি । সিদ্ধার্থ কিংবা ইব্রাহিম বিন আদহাম হবার বাসনা লালন করতে উদ্বুদ্ধ হই আমরা তার সাদামাটা জীবনযাপনকে দেখে । চিন্তার দিক থেকে তিনি আসমুদ্রহিমাচল হয়ে ধরা দেন । অযাচিতভাবে কোনো জাহিরি বাতিকগ্রস্ততা তাকে তাড়িত করে না । বরঞ্চ অনেকটাই শমিত , নমিত ।
সুযোগকে সম্ভাবনায় রূপান্তরযোগ্য করতে প্রণোদিত হই তাকে দেখে । বিনমিত স্যার আরেকবার এবং পুনর্বার ।
২।
একজন সেলিম জাহানের যথার্থ মূল্যায়ন এদেশে হয় নি । আমরা জানি না আর কতোটুকু উচ্চতাভেদ করলে পরে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির বোধোদয় হবে । স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কি সে আশার উদ্রেক করতে পেরেছে , জানি না ? তবে এই জাতি পেয়েছে বিশটি লাশ । আর বঞ্চনা । কতোজনকে এই রাষ্ট্র নানান পদের পুরষ্কার দিয়ে ভূষিত করলো । কিন্তু বিরল এই মানুষটিকে কি রাষ্ট্র উপযুক্ত সম্মান দিতে পেরেছে ? এই ব্যর্থতা আমরা কি দিয়ে ঢাকবো , বলুন ? তাই তো রাষ্ট্রযন্ত্রের আশেপাশে চাটুকার , অর্থগৃধ্নু , বিশ্বাসঘাতক , ঋণ খাতক ও খেলাপী , স্বার্থান্ধ মানুষের অবাধ বিচরণ এবং তারাই সম্মানিত । দুর্ভাগ্য আসলে আমাদেরই । হুমায়ুন আজাদের কথায় ফিরে যাচ্ছি , আমাদেরকে পঞ্চম মানের মানুষেরা শাসন করছে । অবশ্য আমরা আনন্দিত যে , তিনি একটা পদকের গণ্ডিতে আটকে রাখেন নি নিজেকে । তার বিচিত্র কর্মভার ও সম্ভার তাকে কর্মবীরের মর্যাদা দিয়েছে । ফলে তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন একটি প্রতিষ্ঠান । প্রথাগত চিন্তা ও চেতনার বাইরে গিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব জগৎ । যে জগতের অধীশ্বর তিনি নিজেই । একটা রেজিমের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিলো দেশের উন্নয়ন চিন্তক হিসাবে । বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দডক অধ্যাপনার মাধ্যমে নিজেকে পুড়িয়েছেন , জ্ঞানালঙ্কার ও আলোর মশাল উঁচিয়ে ধরেছেন । সাহিত্যের সাথে অর্থনীতির , অর্থনীতির সাথে সাহিত্যের , শিল্পের সমণ্বয় ঘটিয়েছেন । মানবোন্নয়ন নিয়ে তার দীর্ঘ পরিক্রমণকে বিশ্বায়নের দিকে নিয়ে গেছেন । ফলে নিজেকে শুধু ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল ব্যাপী সীমিত না রেখে ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বময় ।
দেশের পতাকাকে নিয়ে গেছেন বিশ্বের দরবারে । একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে প্রতিস্থাপনের জন্য , দেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বলিত করতে তিনি আরেক চে গুয়েভারার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন । স্বাধীনতা পরবর্তী একটি দেশে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ তার হাতেই বিশ্বমাত্রিকতা ও বহুমাত্রায়িত হয়েছে । তার রি অবদান আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি ।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত