ঘোষণা

প্রিয় স্যারদের নিয়ে আমার স্মৃতি এখন কেবল মনের ডায়রিতে পরে থাকবে

চঞ্চল চৌধুরী | সোমবার, ২৪ মে ২০২১ | পড়া হয়েছে 59 বার

প্রিয় স্যারদের নিয়ে আমার স্মৃতি এখন কেবল মনের ডায়রিতে পরে থাকবে

আমার প্রথম কর্মজীবন শুরু শিক্ষকতা দিয়ে। ছাত্রাবস্থায় টিউশনি করতাম শখের বশে নয়, বাধ্য হয়ে। প্রথম দিকে ক্লাস টেন পর্যন্ত সব সাবজেক্ট পড়াতাম। যখন ভার্সিটির সিনিয়র স্টুডেন্ট কাম আরণ্যক নাট্যকর্মী হলাম,তখন শুধু ড্রইং টিউশনি করতাম।
মূলত: অর্থনৈতিক টানা পোড়েন আর নিজের পায়ে চলবো, এই দুটি কারনেই ছাত্র জীবন পুরোটাই টিউশনি করেই পার করেছি।
শিক্ষকতা আমার প্রিয় পেশা। আমার অবসর প্রাপ্ত বাবা থেকে শুরু করে পরিবারের অনেকেই এই মহৎ পেশায় কাজ করেছেন এবং করছেন। আমিও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। সোডা, কোডা, ইউডা ছিল আমার মহৎ কর্মস্থল।
২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সরাসরি এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম। পরবর্তীতে অভিনয়ে ব্যস্ত হবার কারনে এই প্রতিষ্ঠানে আর সময় দেয়া হয়নি। যতদিন এই প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেছি, নিষ্ঠার সাথেই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলাম। আমার যাঁরা সহকর্মী ছিলেন, এখনো অনেকের সংগে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি। আমরা বলতাম সোডা, কোডা, ইউডা পরিবার। এই পরিবারের খুব ঘনিষ্ট মানুষগুলোর মধ্যে গত বছর আমরা হারিয়েছি প্রদীপ ঘোষ স্যারকে। ঠিক কয়েক দিন আগে হারালাম পাভেল স্যারকে। স্বজন হারানোর চেয়ে কোন অংশেই কম ছিল না এঁদের দুইজনকে হারানো।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তি চেয়ারম্যান মুজিব খান স্যারের অনুপ্রেরনায় শত শত শিক্ষকের কর্ম মূখরতায় অনেক চমৎকার একটা সময় পার করেছি। পাভেল স্যার ছিলেন আমাদের কালচারাল টিমের শিক্ষক।দূর্দান্ত তবলা বাজাতেন। কত শত সাংস্কৃতিক আয়োজনে যে আমরা এক সংগে কাজ করেছি, হিসেব নেই। আমার গান গাওয়ার ব্যাপারে,অভিনয়ের ব্যাপারে আমাকে সব সময় খুব উৎসাহ দিতেন এবং গর্ববোধ করতেন। বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল আমাদের।
পাভেল স্যারের অকাল প্রয়াণের সংবাদটি এখনও বিশ্বাস করতে পারি না। বার বার মনে পড়ে ধানমন্ডি , শংকরের সেই চায়ের দোকান….প্রতিধ্বনি….সমতা…। পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্র নজরুল জয়ন্তী,১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ,২১ ফেব্রুয়ারী, ২৫ মার্চের রাতভর অনুষ্ঠান মালা, নবীন বরন…., কত কত স্মৃতি। পাভেল স্যার সব কিছুর উর্ধে চলে গেলেন। সহকর্মী, বন্ধু পাভেলের চলে যাওয়া যেমন ব্যথিত করে আমাকে, সেই সাথে মৃত্যুকে ক্রমশ: বিশ্বাস যোগ্য করে চলে প্রতিদিন।
মানুষ কে স্মরন করি আমরা। তার চেয়ে বোধ হয় অবিরত মৃত্যুকে স্মরন করা উচিত। পরপারে ভালো থাকুন পাভেল স্যার, ভালো থাকুন আমার সকল সহকর্মী….ভালো থাকুন সবাই……🙏🙏

ছবি কৃতজ্ঞতা : খাঁজা জিয়া স্যার
লেখক একজন খ্যাতিমান অভিনয় শিল্পী। লেখাটি তাঁর ফেসবুক পেইজ থেকে নেয়া।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১:৪৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৪ মে ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

হে অনন্তের পাখি

৩০ আগস্ট ২০২০