ঘোষণা

হুমায়ূন ভাই: চির অমলিন স্মৃতি

পবিত্র কুণ্ড। | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 79 বার

হুমায়ূন ভাই: চির অমলিন স্মৃতি

সকালে ঘুম ভাঙলো বন্ধু রফিকুল ইসলাম কবিরের ফোনে এবং ভয়াবহ দুঃসংবাদে। হুমায়ূন ভাই আর নেই! আমাদের সেই হুমায়ূন ভাই, এক বছরের সিনিয়র, পাশের সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি হুমায়ূন ভাই, সদা হাস্যমুখ হুমায়ূন ভাই, ছাত্রলীগের সহযোদ্ধা অগ্রজ, চমৎকার কণ্ঠের অধিকারী সুবক্তা হুমায়ূন ভাই এবং অসাধারণ ভালো মনের মানুষ হুমায়ূন ভাই আমাদের ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন অনন্তলোকে। যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাস আমাদের চিরচঞ্চল পৃথিবীতে অদ্ভুত আঁধার নিয়ে এসেছে, সেই ভাইরাসই ঘাতক।
অনেকদিন হুমায়ূন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়নি। মনে মনে চাইতাম তার সঙ্গে দেখা হোক। কিন্তু আমাদের এই জীবন যাপনের ইঁদুর দৌড়ে আমরা যে যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাছাড়া একটা সার্টিফিকেট থাকলেও আমি তো আর পেশাদার কৃষিবিদই নই, কীভাবে যেন জড়িয়ে পড়েছিলাম সাংবাদিকতায়। সেজন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের চেনা বৃত্ত থেকে দলছুট। তবু হুমায়ূন ভাইয়ের সঙ্গে ক্ষীণ সূতোর মতো হলেও যোগাযোগ ছিল। হঠাৎ হঠাৎ উনি ফোন করতেন, কী পবিত্র কুন্ডু কেমন আছো? আমরা সাধারণত নামের পদবী যুক্ত করে কাউকে সম্বোধন করি না। কিন্তু হুমায়ূন ভাইয়ের মুখে পদবীসহ পুরো নামটা শুনতে ভালোই লাগতো।
সাদিয়া ভাবীর সঙ্গেও পরিচয় ছিল। যখন শুনলাম হুমায়ূন ভাই হাসপাতালে, খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ফোন নম্বর জোগাড় করতে বেপরোয়া। সিম হারিয়ে যাওয়ায় তাঁর মোবাইল ফোন নম্বর আমার কাছে ছিল না। দুটি নম্বর পেলাম অনুজ সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্র সংসদের জিএস টিপুর কাছ থেকে। কিন্তু ও প্রান্ত থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাই না। কেউ ফোন ধরেন না। অবশ্য ফেসবুক থেকে খবর জেনে স্বস্তি পেলাম যে ধীরে ধীরে হুমায়ূন ভাইয়ের উন্নতি হচ্ছে। এরইমধ্যে কবিরের কাছ থেকে পেয়ে গেলাম ভাবীর ফোন নম্বর। কথা হলো। শুনে ভালো লাগলো যে হুমায়ূন ভাই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
কাল রাতে ভেবেছিলাম ভাবীকে ফোন করি। করবো করবো করেও কাজের ঝামেলায় সেটি আর হয়ে ওঠেনি। আজ ফোন করতামই। কিন্তু আজও করা হবে না। হয়তো করবো বেশ কিছুদিন পর যখন ভাবী তার দুটি সন্তানকে নিয়ে হঠাৎ আসা শোকের ঝড় সামলে একটু স্বাভাবিক হবেন।
হুমায়ূন ভাই, আপনি খুব সাধারণ ছিলেন, কিন্তু নিজেই জানার চেষ্টা করেননি ভেতরে ভেতরে কতটা অসাধারণ ছিলেন, কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। একধরনের হাততোলা জনপ্রিয়তা আছে, ওপর থেকে চকচকে লাগে। আরেক ধরনের জনপ্রিয়তায় মিশে থাকে মানুষের সত্যিকারের ভালোবাসা। আপনি দ্বিতীয় সারির লোক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পরিচয়টা পাচ্ছি। আপনার বন্ধু, শুভানুধ্যায়ীরা শোক জানাচ্ছে। কত স্মৃতি তুলে আনছে পেছনের দিনগুলো। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, ছাত্রলীগের অফিস, ফ্যাকাল্টির করিডোর, মিছিলের জয় বাংলা স্লোগান, ফজলুল হক ও সোহরাওয়ার্দী হলের মিলিত মিছিল আপনার কথায় আমার বক্তৃতায় শেষ হওয়া। সব, সব খুব বেশি করে মনে পড়ে যাচ্ছে।
কিন্তু আপনি ফেসবুক দেখছেন না। কোনো স্মৃতিই আপনার মনে পড়ছে না। চলে গেছেন অন্যলোকে। নাকি সেখান থেকেও এসব আপনার দৃষ্টিসীমায় আসছে? আমি ঠিক জানি না।
একদিন হঠাৎই হয়তো ওখানেও আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে। প্রথমেই জিজ্ঞেস করবেন, পবিত্র কুন্ডু কেমন আছো?

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

হে অনন্তের পাখি

৩০ আগস্ট ২০২০