ঘোষণা

মনের আয়না

তন্দ্রা প্যারিস | শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১ | পড়া হয়েছে 142 বার

মনের আয়না

আমার কাকা তার পরিবার নিয়ে কয়েকদিনের ছুটিতে দেশে বেড়াতে এসেছে। তারা মূলতঃ কানাডা প্রবাসী। দীর্ঘ প্রায় আট বছসর পর তারা এলো।
আমাদের বাড়ি বিক্রমপুর এলাকার শুলপুর গ্রামে। কাকার দুই মেয়ে আর এক ছেলে। ছেলেটি আসেনি। মেয়েদের মধ্যে ছোট মেয়ে ডোরা আমারই বয়সের। আমরা ছোট বেলা একসাথে খুব খেলাধূলা করতাম সাথে মারামারি ঝগরাঝাটিও কম করিনি। আগে ওর গায়ের রং কিছুটা ঘোলাটে ছিল। কানাডায় থেকে তার গায়ের রঙ বদলে এখন সে পুরোদমে একজন মেমসাহেব হয়ে গেছে , টাইট সার্ট প্যান্টে বেশ সুন্দর লাগে তাকে।
বড়দি’র নাম ডিউ, যার অর্থ শিশির। ডিউদি আগে থেকেই অনেক সুন্দরী। আগে দেশে থাকা কালে সে বেশ নাচ করতো, অনেক সুন্দর সুন্দর গয়না ছিল তার, ওগুলোতে আবার হাত দেওয়া বারণ ছিল। কারো সাথে মিশতো কম সে। সারাদিন দরজা আটকে বসে থাকতো ঘরে। ঘরে আয়নার সামনে বসে সারাক্ষণই কেবল সাজতো। ডোরা আর আমি অনেক উঁকি ঝুঁকি মারতাম আর দিদির কাছে বকুনি খেতাম ।
সামনে দূর্গাপূজো। আমাদের গ্রামে অনেক পূজো উপলক্ষে বড় বড় মেলার আয়োজন করা হয় আর খুব সুন্দর করে পূজার মন্ডপ সাজানো হয়। বিক্রমপুরের নিজস্ব সংস্কৃতি বলে কথা। মাকে এর মধ্যে বলতে শুনলাম, ডিউদির জন্য পাত্র খোঁজার কথা। ছল করে হলেও দেশি ছেলের সাথে বিয়ে দিতে হবে দিদিকে। আমার কাছে কথাটি শুনে ভালো লাগেনি।
আমি, ডোরা আর ডিউদির ঘরে গেলাম। ওরা ওদের লাগেজ থেকে মালপত্র বের করে গুছাচ্ছিলো। ডিউদি আমাকে কাছে ডাকে, – এই, এদিকে আয় কণা। আমার সামনে বোস। দেখতো কোনটা তোর পছন্দ হয়? বলে আমার সামনে দু’টো ঘড়ি রাখে। গোল্ডেন এঁপপর ব্রান্ডের খুব সুন্দর ঘড়ি দু’টো।
এসবের কি দরকার ছিল, বলে আমি একটি ঘড়ি আবার পছন্দ করে নিলাম। তারপর সে বলল, – আচ্ছা বলতো, আমার ঘরে যে আয়নাটা ছিল সেটি এখন কোথায়?
আমি তার কথায় অবাক হলাম। কতদিন আগের কথা, আচ্ছা দিদি, তুমি আয়নাটির কথা ভোলনি এখনো?
সে হাসল। হেসে বলল – আয়নাটিকে এখনো আমি স্বপ্নে দেখি, জানিস? ওটা আসলে কোথায়?
আমি বললাম, – ওটা পুরোনো হয়ে গেছে, এক পাশের কাঠ ঘুণে নষ্ট করে দিয়েছে। তাই, মা ওটা গুদামঘরে রেখে দিয়েছে বোধহয়।
ডিউদি বলল, – প্লিজ, আমার ঘরে আনার ব্যবস্থা কর বোনটি।
আমি মাথা নাড়লাম। ডোরা মুখে চুইংগাম চিবোতে চিবোতে বলল, – আমি আবার গাছে চড়তে চাই, ঢ়ড়ংংরনষব!
আমি হেসে মাথা নাড়লাম। – হবে হবে, সব হবে। আগে তো চল ডুব দিতে যাব। সাঁতার কাটা ভুলে গেছিস নাকি?
ডোরা হাসল, – হড় ধিু. ও পধহ ংরিস নবঃঃবৎ ঃযবহ ুড়ঁ।
আমরা গামছা নিয়ে ইছামতি নদীতে গোসল করতে গেলাম। শরতে ইছামতির দুইপাশে কাশফুল ফুটে আছে। গাঙ ভরা পানি, আমি ঘাটে নামতে নামতে দু’জনকেই সাবধান করলাম। পানি খুব গভীর। বেশী দূরে যেন না যায়। ডোরা হাফপ্যান্ট গেঞ্জি পড়ে গোসল করতে এসেছে আর ডিউদি পড়েছে সালোয়ার কামিজ। ডোরাকে দেখে মনে হলো ভালোই সাঁতার কাটতে পারে, তা বোঝা গেলো। ডিউদি আর নদীতে নামেনি ঘাটে সিঁড়ির মধ্যে দাঁড়িয়েই গোছল সারল। আমরা পদ্মার ইলিশ মাছ দিয়ে সেদিনের লাঞ্চ সারলাম।
পরদিন নবমী। দূর্গা পূজা দেখতে যাব বলে ঠিক করলাম। পরেরদিন সকালে শ্রীকৃষ্ঞ কাকা এসেছেন। দেখেই বুঝে গেলাম আয়নাটা নিশ্চয়ই ঠিক করতে এসেছে। আমরা ধর্মে আলাদা হতে পারি, তবুও কাকা আমার ঠাকুরমাকে মা ডাকেন। ছোটবেলা থেকেই দেখি কাঠের কাজ থাকলে শ্রীকৃষ্ঞ কাকাই সব করে দেন আমাদের।
প্রতি বড়দিনে তারা পরিবারসহ আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। আর আমরা যাই তাদের বাড়ি, পূজা পার্বনে। কাকা আয়নাটি ঠিক করে রং করে দিয়ে গেলেন। আয়নাটি হাতে নিয়ে আমি ডিউদির ঘরে এলাম। ডিউদি লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পড়ছিলো তখন। আমার হাতে আয়নাটি দেখে বলল, – ওখানে টাঙিয়ে দে।
আমি বাধ্য মেয়ের মত আয়নাটি ঘরের একদিকে টাঙিয়ে দিয়ে নিজে রেডি হতে চলে এলাম। এসময় হঠাৎ শুনতে পাই ডিউদির চিৎকার। দৌড়ে এসে দেখি ডিউদি অজ্ঞান হয়ে পরে আছে সেখানে। বাবা আর কাকা তাকে ধরাধরি করে বিছানায় শুইয়ে দিলেন। কাকীমা হাউমাউ করে কাঁদছে। মা ডিউদির চোখে পানির ঝাপটা দিলে সে ভয়ে মাকে খামচে ধরল।
আয়নার ভিতরে কি? আয়নার ভিতর —–? বলেই সে আবার জ্ঞান হারাল।
আমি সাথে সাথে আয়নাটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। – কই? সবই তো ঠিক আছে। একটু আগে এটা টাঙানোর সময় যেমন ছিল, এখন তেমনই আছে।
ডাক্তার কাকাকে সংবাদ দিলে কাকা বাড়িতে এসে দিদিকে দেখে বললেন, প্রেশার হাই হয়ে গিয়েছিল, এখন ঠিক আছে। ওকে একটু রেস্ট করতে দিন। বলে ঔষধের প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে তিনি বিদায় নিলেন। সবার আদর যত্ন শেষ হতে আরো ঘন্টা খানেক সময় লাগলো।
অনেকটা সময় পর দিদিকে আমি একা পেলাম। – কি হয়েছিল দিদি? আমাকে খুলে বলতে পার। আমি সাহায্য করতে পারব বলে মনে হয়।
ডিউদি আমার কথার পর কেঁদে ফেলল। আয়নাটি আমার অনেক প্রিয়। কতদিন ওকে ছেড়ে আছি আমি তা তো জানিস। আজ আমাদের প্রথম দেখাটা সুখের হয়নি।
– মানে ?
– মানে আমি আয়নার ভেতর আমাকে নয়, যেন এক কালো ধোয়ার বিভৎস মুখ দেখেছি।
দিদির কথা শুনে আমি বড় এক ধরনের ভিমড়ি খেলাম।
– বিশ্বাস হচ্ছেনা তোর, তাইনা? কিন্তু আমি দেখেছি।
– আয়না তো আয়নাই হয় তাই না? এপাশে তুমি যা দেখাবে তারই প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে।
– আয় তোকে দেখাই। বলে সে আমাকে নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। দেখ। দেখ।
আমি তো ডিউদিকেই দেখছি। কিন্তু ডিউদি আয়নার সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে গেল। একটুও নড়ছেনা সে।
আমি তাকে ডাকলাম, – ডিউদি, কি হল? ডিউদি।
হঠাৎ তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সে কাঁপতে লাগল। তারপর চিৎকার করে উঠল, – নাঃ নাঃ আমাকে ছেড়ে দাও। ছেড়ে দাও আমায়। ডিউদি আবার জ্ঞান হারালো।
আমি এমন ভয় বোধহয় জীবনেও পাইনি। এতটাই স্তব্ধ হয়ে গেলাম যে কাউকে ডাকতেই পারলামনা। হাত পা সহ পুরো শরীর স্ট্যাচু হয়ে গেছে।
হঠাৎ ডোরা ঘরে ঢুকেই চিৎকার করল, – ঙয সু এড়ফ দি ,যিধঃ যধঢ়ঢ়বহ দি , কণা যিধঃ যধঢ়ঢ়বহ যবৎব !
আমি নড়েচড়ে উঠলাম। আমার বুকের ভেতর ধ্বক ধ্বক করছে এবং আমি রীতিমত হাঁপাচ্ছি । সবাই ডিউদিকে নিয়ে ব্যস্ত। আমি এক দৌড়ে নিজের রুমে চলে এলাম। জীবনে অনেক শুনেছি দর্শন পাওয়া বা এক জগতে দাঁড়িয়ে থেকে অন্য জগতে চলে যাওয়ার বিষয়টি। আজ নিজের চোখে দেখলাম। আমি ডিউদির ভয়ংকর চোখ দুঁটো ভুলতেই পারছিনা আর যাবনা বাবা ডিউদির কাছে।
ডিউদির শরীর খুবই খারাপ। খেতে পারছে না, এতো সুন্দর মুখের মধ্যে বিশাল মলিনতা বাসা বেঁধেছে। চোখের নিচে কালি পরেছে। কাকা কেনো দেশে আসলো তাই নিয়েই সারাক্ষণ আফসোস করছে। আর আমি? সারাদিন ডোরাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমাদের খাওয়ারও সময় থাকেনা এতোই ব্যস্ত আমরা। আসলে আমি ডিউদির কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছি এটা কাউকে বুঝতে দেওয়া চলবেনা। দুদিন ঠিকই পারলাম তৃতীয় দিন ডিউদির কাছে ধরা পরে গেলাম।
– কিরে, তুই কি আমাকে এড়িয়ে চলছিস?
– কই, নাতো দি। আজ আমাদের পাড়ার মেয়েদের ফুটবল টুর্নামেন্ট আছে শেখরনগর মেয়েদের সাথে। দু’টোই স্ট্রং দল। আমাকে যে যেতে হবে দিদি।
– খবরদার অভিনয় করবিনা। আমার সাথে কেউ অভিনয় করে পার পায় নি, তুইও পাবিনা। বোস এখানে।
– দিদি, তুমি বুঝতে পারছো না ।
– তুই বুঝতে পারছিসনা। আমার অবস্থা দেখ, একবার আমার দিকে তাকা।
আমি ঠাস করে দিদির বিছানায় বসে পড়লাম। – আমাকে মাফ করে দাও দিদি। আমি তোমার ভরসার যোগ্য নই।
– ভরসা? হাহ্! সবাই শুধু আমার ভরসাই নষ্ট করে।
– সবাই মানে? আমি ছাড়া আর কে?
– বিজয়।
– বিজয়? কোন বিজয়? বিজয়দা? মানে, আমাদের বিজয়দা?
– হ্যাঁ, তোদের বিজয়দা।
– দি, তুমি এসব কি বলছ? সে তো সুইসাইড করেছে সেই কবে!
– হ্যাঁ , আমার জন্যই করেছে ।
– দিদি, কি বলছ এসব?
– হুম। বিজয়ই আয়নাটি আমাকে গিফ্ট করেছিল।
– থাম দিদি, আমি আর নিতে পারছিনা।
– ভরসার কথা বললিনা? তাই কথা গুলো বললাম। আমরা একসাথে পথ চলবো বলে কথা দিয়েছিলাম। তারপর তোর বিজয়দা কি করল বল তো? কি করলো সে আমার সাথে এটা?
-দিদি, তুমি শান্ত হও।
– আমি কানাডা চলে গেছি তো কি হয়েছে? চোখের আড়াল হলেই কি মনের আড়াল হওয়া যায়? আমি কি তাকে ভুলে গেছিলাম? অন্য কাউকে ভালবেসেছিলাম? তাহলে সে কেনো আমার অবর্তমানে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করল? কেনো সে আমাকে ভুলে গেল? কেনো আমার ভরসা ভাঙল? এখন সে আয়নার ভেতর দিয়ে আমার কাছে ক্ষমা চায়। ক্ষমা চাইলেই কি ক্ষমা করে দিব আমি তাকে? তার আয়নার ভেতরে সে ঢুকেছে, ভেঙে ফেলেছি আমি সেই আয়না। চলে যাও দূরে, তবু পিছু ছাড়না। ভাল হয়েছে, ভেঙে ফেলেছি, সমস্ত পিছুটান টুকরো টুকরো করে ফেলে দিয়েছি।
আমি হা করে দেখছি ডিউদিকে। এত নম্রতার ভেতরে কতোটা কষ্ট চেপে রেখেছে। কতোটা যুক্তি দিয়ে সে কথা বলে। আমি তাকে বিষ ঢালতে সময় দিলাম। যখন সমস্ত বিষ ঢেলে দিল সে তখন তাকে কিছুটা বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। একে তো শরীর দূর্বল তার উপর হঠাৎ উত্তেজনা তাকে আরো দূর্বল করে দিয়েছিল। এবার শান্ত আমি, বলতে শুরু করলাম, – শোন দিদি, বিজয়দার বিষয়টা এতোদিন আমার কাছে অস্পষ্ট ছিল, এখন পরিষ্কার হয়েছে। সে খুব ভাল ছেলে ছিল। মায়ের অসুস্থতায় একমাত্র ছেলে হিসেবে সে মায়ের যত্ন নিতে পারেনি। তুমি তো জানো তার চিটাগাং পোস্টিং হয়েছিল। সেখানেই থাকত। মাসিমাকে অনেক নিতে চেয়েছে কিন্তু মাসিমা যায়নি। মেসো তো বিজয়দা হবার কয়েক বছর পরেই মারা গেছে। এখন মাসিমাকে একা তো ঘরে রাখা যায়না, কখন কি হয়ে যায়। তাই রূপালীদিদি, মানে পরে যে বৌদি হয়েছে, সে-ই মাসিমাকে যত্ন করেছে। তার একাকীত্ব দূর করেছে। এখন আমি বুঝতে পারছি, নিশ্চয়ই মাসিমা বিজয়দাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করেছিল, রূপালী বৌদিকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিল। আমি মাসিমাকে একদিন মায়ের কাছে দুঃখ করে বলতে শুনেছি যে, বিজয়দা নাকি রূপালী বৌদির দিকে ফিরেও তাকায়না। তার নাতি নাতনী দরকার, এমন করলে কিভাবে হবে। একদিকে মাসিমা আর বৌদির প্রেশার অন্যদিকে তোমার প্রেশার। কোথায় যাবে বেচারা? পৃথিবীকে এজন্যই তার দূর্বিসহ মনে হয়েছে। কিছু মনে করোনা দিদি, ভাল মানুষের পৃথিবীতে কোনো দাম নেই। সে তোমার কাছে ক্ষমা চাইছে, কারণ সে তোমাকে ভালবাসে। এখনো ভালবাসে, তুমি কি বুঝতে পারছো দিদি? তুমি তাকে মন থেকে ক্ষমা না করলে সে যে মুক্তি পাবেনা।
পরদিন ডিউদি আরও একবার সাজলো। খুব সুন্দর লাগছিল তাকে। সে আমাকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়দাদের বাড়িতে গেল। মাসিমা খুবই অসুস্থ। রূপালী বৌদির সেবা শুশ্রুষা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। এমন একটা সমাদরী বৌ সব শশুড় শাশুড়িই চায়। তারপর আমরা বিজয়দার কবরে গেলাম। দিদি আমাকে বলল যে, সে কিছুক্ষণ এখানে একা থাকতে চায়। আমি যেন বাড়িতে চলে যাই। আমি ভাবলাম আমার এক বান্ধবীর কাছে একটা দরকার আছে, সেটা সেড়ে তারপর যাই। বেশ কিছুক্ষণ দেরি হয়েছিল বোধহয়। আমি বাড়ি যেতে গিয়ে দেখি নদীর ঘাটে অনেক মানুষের ভিড়। লোক মুখে জানতে পারি, সেখানে একটি মেয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছে। বেশি পানি থাকায় তাকে জেলেরা খুঁজে পেতে দেরি করে ফেলেছে। এখন বাঁচলেই হয়।
সামনে গিয়ে দেখি ডিউদি। আমার মাথা চক্কর দিল। কিছুক্ষণ চোখে অন্ধকার দেখলাম। কিন্তু এখন নিজেকে সামলানোর সময়। সে তো আমার সাথেই বের হয়েছিল। কি উত্তর দেবো আমি বাড়িতে সবাইকে। হায় হায়। দিদি, তুমি এটা কি করে করলে?
আমার মনে ভুলেও এমন চিন্তা আসেনি। চিন্তাটা আসা উচিত ছিল। তাকে এই অবস্থায় একা ছাড়াই আমার উচিত হয়নি। কেউ পেট চেপে পানি বেড় করছে, কেউ তাকে আবার উপুর করে ঝাকিয়ে পানি বেড় করছে। তারপর সামনে যে ডাক্তার কাকার দোকান রয়েছে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। আমি দৌড়ে গিয়ে দিদির মাথা আমার কোলে নিয়ে ডাক্তার কাকাকে বললাম, – আমার কানাডা ফেরত দিদি এটা।
কাকা আমাদের সবাইকে চেনেন। উনি বলল, – মামনি, আমি তো ওর পাল্সই খুজে পাচ্ছিনা।
আমি ডিউদির দাঁত খোলার চেষ্টা করছিলাম। ওর এমন শক্ত হয়ে দাঁতকপাটি লেগে আছে। এর মধ্যে আমাদের বাড়ির সবাই এসেছে। কি কান্না কাটি আর মানুষের ভিড়। আমি যেন চারিদিকে অন্ধকার দেখছি তখন। মুহূর্তের মধ্যে যেন পুরো গ্রামের লোক জন চলে এসেছে। কি চিৎকার চারিদিকে, কি শোরগোল। হঠাৎ আমার আঙুল ডিউদির শক্ত হয়ে লেগে থাকা দাঁতগুলো ভেদ করে মুখের ভেতরে প্রবেশ করল।
এরপর ডিউদি জোড়ে একটা নিশ্বাস নিল। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার কাকা চিৎকার করে উঠলেন. – বেঁচে আছে, বেঁচে আছে।
আমি যেন ওখানেই হাত পা ছেড়ে দিলাম। ডাক্তার কাকা একটা ইনজেকশন দিয়ে তৎক্ষনাৎ ডিউদিকে ঢাকার উদ্দ্যেশে পাঠিয়ে দিলেন। কতক্ষণ এভাবে ছিলাম জানিনা। ডাক্তার কাকা আমাকে ডাকলে আমি চমকে উঠি। আমি চোখ মুছে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলাম এই বলে যে, ভাগ্যিস আমি সঙ্গে ছিলাম!!!

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৭:৪০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নীরব-নিথর অবয়ব

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

অনুগল্পঃ মানুষ

১০ ডিসেম্বর ২০২০

এডুকেশন

২৩ ডিসেম্বর ২০২০

চারাগাছ

২৬ জানুয়ারি ২০২১

স্বর্গ থেকে বিদায়

০৯ ডিসেম্বর ২০২০

কারিগর

২৪ জানুয়ারি ২০২১

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

নিশি মানব

২৫ জুন ২০২১

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০