ঘোষণা

মিলন ভাইয়ের বই পেয়ে আমি সত্যিই আপ্লুত হয়েছিলাম

পি আর প্ল্যাসিড | বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 172 বার

মিলন ভাইয়ের বই পেয়ে আমি সত্যিই আপ্লুত হয়েছিলাম

একবার আমি দেশে যাবার পর গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম বাবা-মার সাথে দেখা করতে। বাড়ি থেকে ঢাকা ফিরে আসার পথে টঙ্গী ট্রাফিক জ্যামে বসে হাতের মোবাল ফোন ঘেটে পরিচিতদের ফোন নাম্বার বের করে ফোন করছিলাম। একসময় চোখে পড়লো মিলন ভাই লেখা একটি নাম্বার। কিছু সময় ভেবেছি কোন মিলন হতে পারে। কারণ দেশে আমার বেশ কয়েকজন এই মিলন নামের লোকের সাথে পরিচয় রয়েছে। নামের পাশে কোনো বিশেষ সংকেত বা বিশেষণ না থাকায় মনে করতে আমার একটু চিন্তা করতে হয়।

দেশে অনেকের বেলায় জানি অপরিচিত নাম্বার দেখে রিসিভ করেন না, আবার কলব্যাকও করেন না। তাই কল দেবার পর ভেবেছিলাম মিলন ভাই আমার কল ধরবেন কিনা? কিন্তু আমার এই ভাবনার নিস্পত্তি হলো তিনবার রিং হবার পর। ঠিক তিনবার রিং হবার সাথে সাথে মিলন ভাই কল রিসিভ করলেন। মিলনভাই ফোন রিসিভ করে ভরা গলায় কে প্রশ্ন করতেই আমি পরিষ্কার হয়ে গেলাম এ আমার কোন মিলন ভাই। উত্তরে আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। মিলন ভাই আবার প্রশ্ন করলেন কে? আমি বললাম, প্ল্যাসিড। আবার প্রশ্ন, কোন প্ল্যাসিড? বললাম জাপানের প্ল্যাসিড। উচ্চ কন্ঠে প্রশ্ন করলেন, এই প্ল্যাসিড, তুমি কোথায়? বললাম, আমি এখন ঢাকার পথে টঙ্গী আছি। বললেন, তোমার যত সময়ই লাগুক, সরাসরি আমার বাসায় চলে আসো।

মিলন ভাইকে এভাবে অনুরোধ করে বলতে শুনে আমি কিছুটা অবাকই হয়েছিলাম। তাই কথা শেষ করে ড্রাইভারকে গন্তব্য পাল্টে মিলন ভাইয়ের বলা তার আবাসস্থেলর ঠিকানায় নিয়ে যেতে বললাম। আমার দেরী হচ্ছে দেখে মাঝখানে দু-দুবার কল করে মিলনভাই আমার অবস্থান জানতে চাইলেন। বললাম মহাখালী পর্যন্ত এসে আটকে আছি। তিনি আবার বললেন, আমার সাথে দেখা করে কোথায় তাঁর প্রোগ্রাম আছে সেখানে যেতে হবে। তাই পারলে যেনো একটু তাড়াতাড়ি যাবার চেষ্টা করি। যাই বলুন, ঢাকার রাস্তা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা যাদের নেই তাদের বলে বোঝানো যাবে না, কোন যে ভিআইপি ব্যক্তিবর্গ রাজপথ দিয়ে দিনের বেলা গাড়ি নিয়ে উল্টো পথে চলেন। সবাই যে ঢাকার পথে গাড়ি নিয়ে যথাযথভাবে পথ চলতে নিরুপায়। আমিও তাই।

মগবাজার পর্যন্ত গিয়ে ড্রাইভারকে দিয়ে রাস্তার পাশে এক দোকানের সামনে গাড়ি থামিয়ে মিষ্টি কিনালাম। সেই মিষ্টি নিয়ে কিছুক্ষণ পরই মিলনভাইয়ের বাসায় গিয়ে হাজির। ঠিকানা অনুযায়ী ঘরের দরজায় নক করতেই মিলনভাই দরজা খুলে দিলেন। তিনি আমাকে দেখে বেশ উষ্ণ অভ্যর্থণা জানালেন। প্রথমেই বললেন, তুমি মিয়া দেশে আহ, আমার সাথে কোনোদিন তো যোগাযোগ করো না। বললাম, আপনি অনেক ব্যস্থ থাকেন তাই বিরক্ত করি না। বললেন, অনেকেই আসে জাপান থেকে এসে দেখা করে তোমার কথা বলে। আমি তোমার খবর ঠিকই নেই। বলে ভিতরে চলে গেলেন।

একটুপর ফিরে এসে আমার হাতে দুটা বই দিয়ে বললেন, এই নেও, দেখো তোমাকে উৎসর্গ করেছি। মিলন ভাই? আপনি আমাকে বই উৎসর্গ করেছেন? মুখ থেকে প্রশ্নটা আচমকা বের হয়ে গেল। মিলন ভাই শান্ত হলেন না। উচ্চ স্বরেই আবার বললেন, তুমি তো মিয়া আমার একটা বই পাইতেই পারো। বলেই বসার ঘরে বসতে বললেন। আমি ডায়নিং টেবিলের সাথে লাগানো একটা চেয়ার টেনে বসলে আবার বললেন, যাও ঐ ঘরে, আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরী দেখে আসো আগে।

লাইব্ররী ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বইয়ের পাতা উল্টিয়ে আমি উৎসর্গ লেখা পেইজটি দেখলাম। খুশি হবার মত বিষয়ই। দেখে আমার চোখ রীতিমত ছলছল করছে। বই হাতে নিয়ে মনে হলো, আমিও তাঁর জন্য কি করতে পারি? তখনই মনে মনে ঠিক করেছি আমিও তাঁকে একটি বই উৎসর্গ করবো। লিখে ফেললাম বেশ কিছু ছোট গল্প। পরবর্তীতে শিখা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আমার সেই ছোট গল্পের বইটি উৎসর্গ করলাম আমার প্রিয় লেখক, বাংলাদেশের খ্যাতিমান লেখক এবং পাঠক সৃষ্টিকারী ইমদাদুল হক মিলনকে। সেখানে লিখেছি, যার লেখা পড়লে শুধু লিখতেই ইচ্ছে করে। বইটির নাম, এক পলকে।

আমাকে উৎসর্গ করা বইটি দেখার আগে বেশ কয়েকজন আমাকে টেলিফোন করে বলেছিলেন, আপনার তো আলাদা করে আর কোনো জাতীয় পুরস্কার পাবার দরকার নেই ভাই (দাদা/স্যার)। আপনি তার চেয়ে বড় পুরস্কার যে পেয়ে গেছেন। যেহেতু বিষয়টি আমি জানতাম না তাই জানতে চেয়েছিলাম, কেন বলছেন এই কথা? এ কথার কারণ কি? বলেছিলেন, ইমদাদুল হক মিলন যেখানে আমাকে বই উৎসর্গ করেছেন সেটাইতো আমার বড় প্রাপ্তি। মনে মনে ভাবলাম যাঁর ভালোবাসায় আমি আছি তাঁর কাছে উৎসর্গ করা বই পরের বিষয়। আমি মিলন ভাইকে পছন্দ করি। তাঁর ভক্ত আমি। আমিও তাঁকে ভালোবাসি। উনি সেটা হয়তো আমার কোনো কাজে প্রমাণ পেয়েছেন যে কারণে আমার জন্য বা আমাকে নিয়ে তাঁর এত কিছু।

মনে পড়লো, লন্ডন থেকে একবার এক বাঙ্গালি মহিলা (আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ড) আমাকে কল দিয়ে বলেছিলেন, ভাই আমি ইমদাদুল হক মিলনের বই পড়ছিলাম। বইতে আপনার নাম দেখে খুব খুশি হয়েছি। তখনও জানতাম না মিলন ভাইযে আমাকে নিয়ে কোথাও কিছু লিখেছেন। সেদিন আমি বিষয়টি শোনার পর ইচ্ছে হয়েছিল মিলন ভাইয়ের পায়ে ধরে একবার সালাম করে আসি। কিন্তু সম্ভব হয়নি হাজার মাইল দূরে অবস্থান করার কারণে।

মিলন ভাইকে আমি সম্ভবত ১৯৮২ কি ৮৩ সনে খুব কাছ থেকে দেখি। আমি প্রতিদিন পুরাতন ঢাকায় অবস্থিত কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের সামনে আড্ডা দিতাম। তিনি প্রায়ই সেই পথে রিক্সায় চলাফেরা করতেন। কথা না হলেও সামনে পড়ে গেলে সালাম দিতাম, এই যা। আমি তখন গেন্ডারিয়ায় টিউশনী করি। তিনিও থাকতেন তখন সেই গেন্ডারিয়া এলাকাতেই। সেই সময় তিনি ছিলেন আমার স্বপ্নের মানুষ। এই স্বপ্নের মানুষটির আমি এত কাছের হতে পারলাম ভাবতেই আমার এখন মন ভরে যায় আনন্দে।

৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের তথা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম খ্যাতিমানদের একজন ইমদাদুল হক মিলনের জন্মদিবস। আমি বিবেকবার্তা পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি মিলন ভাইকে। সে সাথে তার সার্বিক শুভ ও মঙ্গল কামনা করছি। আগামীতে তাঁর কাছ থেকে আমরা আরো ভালো কিছু প্রত্যাশা করছি।

আমি জানি মিলন ভাইকে নিয়ে লিখতে শুরু করলে একটি আলাদা বই লিখে ফেলা যাবে। সে কোনো একদিন না হয় লিখবো। আজ শুধু তার মঙ্গল কামনা করেই শেষ করছি।

————–
৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার।
জাপান।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

হে অনন্তের পাখি

৩০ আগস্ট ২০২০