ঘোষণা

আমি  ব্যক্তিগতভাবে অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম

ডঃ দেবব্রত দেবরয়  | বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই ২০২১ | পড়া হয়েছে 117 বার

আমি  ব্যক্তিগতভাবে অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম
আমি  ব্যক্তিগতভাবে অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম । গণপ্রজাতনন্রী বাংলাদেশের ইতিহাস পুরুষ পরম শ্রদ্ধেয় জনাব রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ভাই হঠাত্ করেই  আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন অনন্ত যাত্রায় । এই কঠিন সময়ে এই মৃত্যু সংবাদ বহন করার ক্ষমতা আমার নেই । আমি এই শোক বহন করতে পারছিনা । আমি বাকরুদ্ধ হয়ে আছি । আমি শোকাহত  , শোকস্তব্ধ । এই সেদিনও আমাকে ফোন করে আমাদের গণপ্রজাতনন্রী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থের ব্যাপারে খোঁজ  খবর নিয়েছেন ।  আমি গণপ্রজাতনন্রী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সমর রাজধানী তীর্থভূমি আগরতলা  তথা ত্রিপুরাবাসীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধেয় রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ভাই এর স্মৃতির প্রতি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর যে অপরিসীম অবদান  , সেই অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি । আমি তাঁর  শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজন   , আত্মীয়স্বজন বিশেষ করে মুশতাক ভাই এর দুই কন্যা এবং এক পুত্র সন্তান সহিদ এর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি ।
শ্রদ্ধেয় রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ভাই হলেন বাংলাদেশের সেই ইতিহাস পুরুষ যিনি উনিশশো উনসত্তর সালে অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জয়ী হয়ে ফিরে এলেন তখন তাঁর নামের পাশে প্রথম””” বঙ্গবন্ধু””” শব্দটি ব্যবহার করেন । তিনি তখন ছাত্র নেতা । ছাত্র লীগের একটি প্যাডে একটি প্রবন্ধে তিনিই  প্রথম তৎকালীন শেখ মুজিবুর রহমান এর নামের পাশে””” বঙ্গবন্ধু””” উপাধি প্রদান করেন । পরবর্তী সময়ে ছাত্র নেতা তোফায়েল আহমেদ লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানকে””” বঙ্গবন্ধু””” উপাধি  ঘোষণা দেন ।
আমি আমার জীবনে এতো উদার মনের মানুষ এতো বড়ো মনের মানুষের  সংস্পর্শে আর আসিনি । তিনি আমাকে তাঁর একজন ছোট ভাই হিসেবে অন্তর থেকে গ্রহন করেছিলেন । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটিকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর ও সফল করার জন্য দু হাজার উনিশ সালের অক্টোবর মাসে  তিনি যে  অসম্ভব পরিশ্রম করেছিলেন তা আমরা কোনো দিনই  ভুলতে পারবো না । নিজের পক্ষ থেকে  লক্ষ লক্ষ টাকা তিনি খরচ করেছিলেন এই অনুষ্ঠানটিকে সুন্দর করার জন্য । আমরা ভারত থেকে ষাটজন গিয়েছিলাম সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে ।  হাজার হাজার মানুষ সেদিন সমবেত হয়েছিলেন ঢাকার জাতীয় যাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে  । তিনি সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিল্পী  সৈয়দ হাসান ইমাম এর অনুপস্থিতিতে । করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সরকার বঙ্গবন্ধু স্মরণে কোনো  স্মারকগ্রন্থ সেইভাবে প্রকাশ করতে পারে নাই  । সেই  কারণে আগরতলা থেকে প্রকাশিত  বঙ্গবন্ধু স্মরনে আমাদের  এই স্মারকগ্রন্থটিই  ইতিহাসের একটি  অংশ হয়ে রইলো । বর্তমানে গণপ্রজাতনন্রী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থ অবশ্যই আমরা প্রকাশ করবো মুশতাক ভাই এর আশীর্বাদে এবং উৎসাহে । তিনি এই ঐতিহাসিক স্মারকগ্রন্থ যেন প্রকাশিত হয় সেজন্য আমাকে এই কয়েক দিন আগেও ফোন করে উৎসাহিত করেছেন ।
ঢাকায় যতবারই গেছি ততবারই একটি গাড়ি আমাকে দিয়ে রেখেছেন । যাতে আমাদের কোনো অসুবিধা না হয় । পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবারও আগরতলায় আসার  জন্য ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন । আগরতলায় এসে তিনি আবারও শ্রীধর ভীলা দেখতে যাবেন বলেছিলেন  । যেখানে উনিশশো একাত্তর সালের নয় মাস আবদুল জব্বার সহ বিশিষ্ট জনেরা ছিলেন । খুব খারাপ লাগছে তার আর আসা হলোনা আগরতলায় ।  খুব ভালোবাসতেন আমাকে  , আমার স্ত্রী স্বর্ণিমাকে ।   আমি এই বড়ো মাপের উদার মনের মানুষটিকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি । আগরতলায় আগামী একুশে জুলাই তাঁকে আমরা সবাই সমবেত ভাবে স্মরন করবো । তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবো ।
ডঃ দেবব্রত দেবরয়
লেখক, গবেষক। আগরতলা
Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

হে অনন্তের পাখি

৩০ আগস্ট ২০২০