টোকিও, ১২ এপ্রিল ২০২৬ — চেরি ব্লসম বা সাকুরা উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই জাপানের রাজধানী টোকিও সেজেছে লাল-সাদার সাজে। আজ টোকিওর প্রাণকেন্দ্র ইকেবুকুরোর তোশিমা পার্কে (Global Ring Theatre) অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী ‘বৈশাখী মেলা ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩’।
উৎসবের আমেজ ও আয়োজন
জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ এই আয়োজনে সকাল থেকেই ঢল নামে হাজারো মানুষের। টোকিও এবং এর পার্শ্ববর্তী চিবা, সাইতামা ও কানাগাওয়া অঞ্চল থেকে প্রবাসী বাঙালিরা সপরিবারে এই উৎসবে যোগ দেন। অনেক জাপানি নাগরিককেও দেখা যায় রঙিন পাঞ্জাবি ও শাড়ি পরে বাঙালির এই আনন্দ উৎসবে শামিল হতে।
মেলা প্রাঙ্গণে অর্ধশতাধিক স্টল বসানো হয়েছিল, যেখানে ছিল:
- বাঙালি খাবার: ইলিশ-পান্তা, চটপটি, ফুচকা, পিঠা-পুলি এবং বিরিয়ানির সুবাসে মউ মউ করছিল পুরো পার্ক।
- হস্তশিল্প ও পোশাক: জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি এবং হস্তশিল্পের স্টলগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
- সাংস্কৃতিক মঞ্চ: মেলার মূল আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় প্রবাসী শিল্পী এবং বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথি শিল্পীদের গান, নাচ ও কবিতা আবৃত্তিতে মুখরিত ছিল তোশিমা পার্কের আকাশ।
পান্তা-ইলিশ ও নাড়ির টান
প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে সবাই মেতেছিলেন আড্ডায়। মেলায় আসা এক প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন:
“জাপানের যান্ত্রিক জীবনে বৈশাখী মেলা আমাদের জন্য এক চিলতে বাংলাদেশ। পান্তা-ইলিশের স্বাদ আর পরিচিত মুখগুলোর সাথে দেখা হওয়াটা ঠিক যেন দেশের কথা মনে করিয়ে দেয়।”

দুই দেশের মৈত্রী
অনুষ্ঠানে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং তোশিমা সিটির মেয়র উপস্থিত ছিলেন। তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, এই মেলা কেবল বাঙালির উৎসব নয়, বরং এটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক অনন্য প্রতিফলন। জাপানি নাগরিকদের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার এটি একটি শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
মেলার এক নজরে চিত্র
| বিষয় | বিবরণ |
| স্থান | গ্লোবাল রিং থিয়েটার, ইকেবুকুরো, টোকিও। |
| প্রধান আকর্ষণ | মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী কনসার্ট ও পিঠা উৎসব। |
| উপস্থিতি | প্রায় ১০,০০০ এর বেশি প্রবাসী ও জাপানি নাগরিক। |
| আয়োজক | বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটি, জাপান। |
টোকিওতে এই মেলাটি দীর্ঘ দুই দশক ধরে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছে, যা বর্তমানে জাপানের অন্যতম প্রধান একটি এশীয় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পর সন্ধ্যায় সমাপনী সংগীতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে এই বর্ণিল আয়োজনের।
সূত্র: প্রবাসী বার্তা ও স্থানীয় প্রতিবেদক, টোকিও।