২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ৪০ হাজার কিমি গতিবেগ: আর্টেমিস–২ নভোচারীদের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন

by admin
0 comments

দীর্ঘ পাঁচ দশক পর চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে আজ শনিবার সকালে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস–২ অভিযানের চার নভোচারী। প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এক শ্বাসরুদ্ধকর যাত্রার, যেখানে গতির রোমাঞ্চ আর আগুনের তাপকে জয় করে ইতিহাস গড়েছেন তারা।

আগুনের গোলক হয়ে ফেরা: গতি ও তাপের চ্যালেঞ্জ

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলটি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। সে সময়ের কিছু পরিসংখ্যান ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর:

  • গতিবেগ: ঘণ্টায় প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার (শব্দের গতির ৩০ গুণেরও বেশি)।

  • তাপমাত্রা: প্রায় ২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় অর্ধেক।

  • যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: প্রচণ্ড তাপের ফলে ক্যাপসুলটি লাল প্লাজমায় ঢেকে যাওয়ায় প্রায় ৬ মিনিট হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সাথে কোনো যোগাযোগ ছিল না।

২০২২ সালে আর্টেমিস–১ অভিযানে হিট শিল্ডে কিছু ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এবার ঝুঁকি কমাতে অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত পথ ব্যবহার করা হয়েছিল। কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠ যখন রেডিওতে ভেসে আসে, “হিউস্টন, আমরা আপনাদের শুনতে পাচ্ছি,” তখন দুশ্চিন্তার অবসান ঘটে আনন্দ ও করতালিতে ফেটে পড়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ।

নভোচারী অর্জিত রেকর্ড
ভিক্টর গ্লোভার চাঁদে যাওয়া প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি।
ক্রিস্টিনা কোচ চাঁদে যাওয়া প্রথম নারী নভোচারী।
জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন (কানাডীয়) হিসেবে চাঁদ প্রদক্ষিণ।
রিড ওয়াইজম্যান অভিযানের কমান্ডার।

ঐতিহাসিক মাইলফলক: এই চার নভোচারী পৃথিবী থেকে দূরতম পথ অতিক্রমের ক্ষেত্রে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো–১৩ মিশনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছেন।

আগামীর লক্ষ্য: চাঁদে স্থায়ী আবাস

১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের অ্যাপোলো মিশনগুলোতে শুধু শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের প্রাধান্য থাকলেও নাসা এখন বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই অভিযানের মূল সাফল্য ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী বেজ ক্যাম্প স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার পথকে প্রশস্ত করবে।

আর্টেমিস–২ এর এই নিরাপদ প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করল, মানুষ আবারও গভীর মহাকাশ জয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

You may also like