জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ‘সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ’ চাই: মরিশাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

by dev
0 comments

পোর্ট লুইস, ১২ এপ্রিল ২০২৬ — বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিত নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে (9th Indian Ocean Conference) ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই সংকট মোকাবিলায় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে একটি ‘সমন্বিত অংশীদারিত্ব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সতর্কতা

ড. খলিলুর রহমান তার বক্তব্যে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সহজে কাটবে না। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন:

“হয়তো সাময়িক কোনো যুদ্ধবিরতি হবে, কিন্তু জ্বালানি সংকট দুই সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হওয়ার মতো বিষয় নয়। এই সংকটের ঢেউ আগামী কয়েক বছর ধরে আমাদের অর্থনীতিতে প্রতিধ্বনিত হবে। ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি তেলের ধাক্কার চেয়েও বর্তমান পরিস্থিতি আরও বেশি গভীর ও জটিল হতে পারে।”

সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টার প্রস্তাব

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান বহুপাক্ষিক শাসন ব্যবস্থার (multilateralism) দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, একক কোনো দেশের পক্ষে এই বৈশ্বিক দুর্যোগ সামলানো অসম্ভব। তিনি সম্মেলনে তিনটি প্রধান প্রস্তাব পেশ করেন:

১. সমন্বিত জ্বালানি ভিশন: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি ‘শেয়ারড কোঅপারেটিভ ভিশন’ তৈরি করা।

২. সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা: জ্বালানি তেল ও এলএনজি (LNG) সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা।

৩. আস্থা পুনর্গঠন: বিশ্ব ব্যবস্থার ওপর হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও বৈশ্বিক লক্ষ্য

সম্মেলনের সাইডলাইনে ড. খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ২০২৬-২৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন তিনি।


সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
সম্মেলন৯ম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন (IOC 2026)।
স্থান ও সময়পোর্ট লুইস, মরিশাস; ১০-১২ এপ্রিল ২০২৬।
মূল থিমভারত মহাসাগরীয় শাসনের জন্য সম্মিলিত তদারকি (Collective Stewardship)।
আয়োজকইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, মরিশাস সরকার ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, যেখানে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে জ্বালানি নিরাপত্তার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

You may also like