গাজায় যুদ্ধবিরতির ছয় মাস: থামছে না মৃত্যু, গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট

by admin
0 comments

গাজা সিটি, ১২ এপ্রিল ২০২৬ — গত অক্টোবর মাসে জাতিসংঘ সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ছয় মাস পার হলেও গাজাবাসীর জীবনে শান্তি ফিরে আসেনি। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, গাজায় বর্তমানে “অকল্পনীয় মানবিক বিপর্যয়” চলছে।

অব্যাহত হামলা ও প্রাণহানি

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চলাকালীন গত ছয় মাসে অন্তত ৭৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আজ ভোরেও মধ্য গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একই পরিবারের ৬ সদস্যসহ মোট ৭ জন নিহত হয়েছেন। হামাস এই ঘটনাকে “গণহত্যা” হিসেবে অভিহিত করে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

মানবিক পরিস্থিতির চিত্র:

  • পুষ্টিহীনতা: জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে।

  • চিকিৎসা সংকট: গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ১,০০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর একটি আন্তর্জাতিক দল আজ সমুদ্রপথে গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছে, যদিও তাদের পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

  • বিস্থাপন: গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং এসব এলাকায় ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার নেই। অধিকাংশ মানুষ এখনও অস্থায়ী তাবু বা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।


গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা: সাহায্যের নতুন আশা

আজ (১২ এপ্রিল) বিশ্বের ১০০টি দেশ থেকে ৩,০০০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে ৭০টি জাহাজের একটি বহর গাজার অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামক এই মিশনে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সামগ্রী ও খাদ্য রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই মানবিক মিশনকে নিরাপদে গাজায় পৌঁছাতে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

“গাজায় ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট পথ নেই। তারা যেখানেই যাচ্ছে বা যা-ই করছে, কোনো নিরাপত্তা নেই। এটাকে যুদ্ধবিরতি বলা কঠিন।” — ভলকার তুর্ক, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন যে, গাজা ও লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েল তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। তবে গাজার সাধারণ মানুষের জন্য এই “সফলতা” বয়ে এনেছে কেবল ধ্বংস আর অনিশ্চয়তা।

You may also like