ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: জ্বালানি, পানি বণ্টন ও ভিসা সহজীকরণে গুরুত্ব

by dev
0 comments

ঢাকা/দিল্লি, ১২ এপ্রিল ২০২৬ — দীর্ঘ দেড় বছরের টানাপোড়েন কাটিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সম্প্রতি দিল্লি সফর করেছেন। এই সফরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর, জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা

বর্তমানে বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। বিশেষ করে ডিজেল ও বিদ্যুৎ আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নতুন সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সাথে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

জলবণ্টন চুক্তি ও ফরাক্কা ইস্যু

আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল পানি বণ্টন। বিশেষ করে ফরাক্কায় গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি, যার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ শেষ হতে যাচ্ছে, সেটি পুনর্নবীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া তিস্তা জলবণ্টন নিয়েও বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও ভারতের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। ড. খলিলুর রহমান ভারতের সাথে ‘পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতা’র ভিত্তিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পৌঁছানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

ভিসা প্রক্রিয়া ও যাতায়াত সহজীকরণ

দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত আরও সাবলীল করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • ভিসা সহজীকরণ: ভারতীয় হাই কমিশন যাতে দ্রুত ভিসা প্রদান করতে পারে এবং বর্তমানে যে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে তা কমিয়ে আনতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
  • সীমান্ত যাতায়াত: বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা আবেদন আরও সাবলীল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক তাৎপর্য

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর এটিই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর। এই সফরটি কেবল সৌজন্যমূলক ছিল না, বরং দুই দেশের মধ্যকার ‘আস্থার সংকট’ কাটিয়ে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

“আমরা ভারতের সাথে একটি স্বাভাবিক এবং সম্মানজনক সম্পর্ক চাই। ভিসা সহজীকরণ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের সাধারণ মানুষই এর সুফল ভোগ করবে।” — ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আলোচনার বিষয়মূল ফোকাস
জ্বালানিনিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।
পানি সম্পদগঙ্গা চুক্তির পুনর্নবীকরণ ও তিস্তা নিয়ে সংলাপ।
ভিসাপ্রসেসিং সময় কমানো ও ই-ভিসা সহজ করা।
নিরাপত্তাসীমান্ত সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি সফর শেষ করে বর্তমানে মৌরিশাসে অনুষ্ঠিত ৯ম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে (IOC 2026) অংশ নিচ্ছেন, যেখানে তিনি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

You may also like